বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩১ পরেরদিন যথা নিয়মে ভোরের মনোরম আরামে হোটেলের ঘরের বাইরের চত্বরে চা পান অপেক্ষায় জড়ো হলাম। যদিও সকাল ৭টার আগে রান্নাঘর ঘুমন্ত, কিন্তু কিছু অপেক্ষার একটা অপেক্ষাকৃত অন্য রকম ব্যাপার আছে । অপেক্ষার রকমফের অবশ্যই আছে । সবই যে চিন্তামুক্ত হবে , তা তো নয় !!! তবে এই অপেক্ষার মধ্যেই আমাদের গল্প গাছা চলতে থাকল , পরবর্তি বেড়ানোর গল্পের গাছে তোলার মই নিয়ে আমার কর্তা রীতিমত প্রস্তুত হয়ে গেলেন । কলকাতায় ফিরেই যে , সে মই নাড়াতে শুরু করবেন এবং আমিও যে মই থেকে মাটিতে নেমে পড়ব , এ তো বলাই বাহুল্য। এসবের মাঝেই চা এসে পড়ল, তারপর গোছগাছ , স্নান , জলখাবারের পর্ব চুকিয়ে বাক্স প্যাটরাসহ বেরিয়ে পড়লাম। ওই দিন দারিংবাড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসব , আরো কিছু স্পট দেখতে দেখতে । বিকেল নাগাদ পৌঁছব গোপালপুরে । সেখানে আমরা থাকব সত্য দার অফিসের গেস্ট হাউসে । পথের দুপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চললাম। প্রতিটা গাছের আকার , পাতার রঙ একে অপরের থেকে পৃথক । সবই যেন মনে হচ্ছে ছবি তুলে রাখি । যা অবাস্তব ও অসম্ভব। কিছু বিষয় মনের ক্যামেরাতেও র...
Posts
Showing posts from 2022
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩০ অতঃপর দারিংবাড়ি পৌঁছলাম। হাইওয়ের পাশের এক হোটেলে মৌখিক কথা বলে রেখেছিলেন আমাদের পরিচিত একজন , কিন্তু সামনাসামনি সেই হোটেল আমাদের মনের মতন হল না , তার উপস্থিতি সাইন করল না , এজন্যই হয়তো বলে পহলে দর্শনধারী .... ঘর ছোট কি বড় সেটা ঘুরতে বেরিয়ে প্রাধান্য পায় না বটে , তবে পরিবেশ অবশ্যই একখান বড়সড় ব্যাপার। দুই গিন্নি ও আমার কন্যাকে রিসেপসনে রেখে দুই বন্ধু ঘর দেখতে গেলেন ... রঙিন জলের বোতল ও কিছু রঙিন মানুষ দেখে আমরা সদলবলে ওখান থেকে দে ছুট । হোটেল সাইনের অনেক কিছুই আইনমোতাবেক মনে হল না ।কর্মসূত্রে পরিচিত এক ভ্রমণ পাগল দাদাকে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করলাম এবং সুকান্ত দার পরামর্শে অসাধারণ এক বাসস্থানের সন্ধান পেলাম , পাহাড়ের ওপরে ইকো ডিয়ার হোম .. বাজার পেরিয়ে একটু যেতেই ডানদিকে বেঁকে আরও একটু .... আবার ডান দিক...লাল মাটির পথ এঁকে বেঁকে নিয়ে এল মন ভরানোর আবাসে .... নীল নির্জনে নাকি লাল নির্জনে নাকি রামধনু নির্জনে .কতরকম রঙের মেলা !!! ... শান্ত পাহাড়ি পরিবেশ একবারেই সবার মন ভরিয়ে দিল । পাশাপাশি দুখান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘরের ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৯ এ বছরের বেরিয়ে পড়া , অনেকটা যেন দীর্ঘায়িত বন্দী দশা কাটিয়ে ঘরে ফেরার মতন । যদিও ইতি উতি চেয়ে বিপদ আপদ বাঁচিয়ে আমরা টুকটাক ধারে কাছে ঘুরেছি । অতিমারির প্রতিটি ধাক্কার পর একটু করে ঘুরতে বেরিয়েছি । বলতে নেই ভয় থাকলেও, সৌভাগ্য বশত ভয়ের কারণ ঘটেনি । এ বছরের শুরুতেই ওমিক্রণে কাত হলাম সপরিবারে । তারপর কন্যার পরীক্ষা ঢেউ আঁছড়ে পড়ল সংসার সমুদ্রের ওপর । খাবি খেতে খেতে কূলের দিকে এবং বেড়াতে যাওয়ার নানা জায়গার ওপর নজর দিলাম। লক্ষ স্থির করতে পারছিলাম না । কারণ আমাদের দেশের অনেক কিছুই দেখা বাকি, কাকে ছাড়ি আর কাকে রাখি !!!! মহা বিপদ ... এর মধ্যেই কর্তা মশাই ঘোষণা করলেন, বিপদ এখনও সব পরিষ্কার হয়নি বটে , রাজ্যের বাইরে এখনই নয় । 🙄 নানা উদাহরণ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি এক কথার মানুষ ... অগত্যা হাতের কাছের অদেখা অজানার দিকে চোখ ফেরাতেই হলো । সেই মতন উত্তরবঙ্গের শুলুক সন্ধান চালু হল , নেট ঘেটে , ট্রাভেল ব্লগ দেখে , উত্তরবঙ্গের পরিচিত মানুষ জনের সাথে কথা বলে । ভিডিও র আধিক্যে এক দিন রাতে আমি স্বপ্ন দেখিনু ... স্বপ্নে হাজির বাঘ মামা । কিন্...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৮ স্মৃতির মাঝে ফিরে গিয়ে , আমাদের উত্তর বঙ্গের ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিখতে শুরু করেছিলাম। বেশ কিছুটা এগিয়েও গেলাম আগের দিন । আমাদের দার্জিলিং যাপন যথা নিয়মে দ্বিতীয় দিনে পড়ল। আমরাও কিছু অসুবিধার কারণে হলিডেহোমের মায়া কাটিয়ে ম্যালের এক হোটেলে হাজির হলাম । সব গুছিয়ে সবাই বেরিয়ে পড়লাম, একে একে জলখাবারের পাট মিটল ম্যালের বিখ্যাত খাবারের দোকানে । এরপর নিয়ম মাফিক দর্শনীয় স্থানের দর্শন চলতে থাকল । মিউজিয়াম থেকে শুরু হল সেদিনের পথ চলা । এরপর রক গার্ডেন আর গঙ্গা মায়া লেক ও পার্কের খাড়াই পথের উতরাইতে নামার সময় হাল বেশ বেহাল হয়েছিল । পাহাড়ী সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে একের পর এক ঘোরাঘুরি চলতে লাগল । চিড়িয়াখানা , মাউন্টেনিয়ারীং ইনস্টিটিউট এর সংগ্রহশালা , পাশের এক পার্কে লোকনৃত্য দেখতে দেখতে সূর্য পাটে নামতেই ঠাণ্ডার কামড় বাড়তে লাগল । এদিকে হয়েছে কি !!! বেড়ুতে অনভিজ্ঞ আমি আবার সেদিন এক কাণ্ড করে বসেছিলাম। আমি আমার পছন্দের পরিধেয় শাড়ি পরে ছিলাম , আর তাতে ঠাণ্ডার কামড়ে সব থেকে বেশি কাহিল তখন আমি । যতই গরম পোষাক চাপাই !!! শাড়ি নিয়ে সমস্য...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৭ একটু পিছনে ফিরে দেখতে গিয়ে নজর আটকে গেল , আমাদের ফেলে আসা শুরুর দিনের পানে । বিয়ের পর এদিক ওদিক শুধুই তুমি-আমি ভ্রমণ ফেজ কাটিয়ে বছর খানেক পর ঠিক হলো , আরো কিছু সাথি নিয়ে দল ভারি করে ঘুরতে যাওয়া হবে । সেই মতন আমার কর্তা মশাই তার স্কুল জীবনের তিন বন্ধুর সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করে দিলেন । কিন্তু শুরুতেই এক পরিবার বাদ চলে গেল , কারণ তাদের একজন সম্ভাব্য যাওয়ার আগেই নতুন চাকরি নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছিলেন। দুজনে তখনই না গেলেও, কর্তার বিহনে গিন্নি আর কি করে বিরহ কাটিয়ে বেড়ু যাবেন ?? অগত্যা বাকি দুজনার ( দুই পরিবার ) সাথে আলোচনা এগিয়ে গেল , সেই মতন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমরা তিন পরিবার দার্জিলিং মেইল ধরতে মেলাই বাক্স প্যাটরাসহ শিয়ালদহ স্টেশনে হাজির হলাম। এক পরিবারের কর্তা পড়ুয়া টাইপ , তার ছয় খান ব্যাগ বাক্সের অনেকখানিই নাকি ছিল বই এর দখলে , যা পরে শুনেছিলাম। তার ব্যাগের সংখ্যা নিয়ে প্ল্যাটফর্মে হাসি ঠাট্টা হল বিস্তর। আমি তখন ও দলে সদ্য যুক্ত সদস্যা। কাজে সবেতেই মন্তব্য, বক্তব্য পেশ না করে শুধু হাসিই🙃🙂আমার সম্বল । সেই...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৬ পুরীর এবারের অধ্যায়ে প্রথম দুদিনে যথাক্রমে পূজা আর খরিদারির পর্ব মিটল নিয়ম মতন । সেদিন রাতে কন্যা তার মৌ আন্টির ঘরে নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই , তার পিতাশ্রীর মুখ ভার হল । নানা পাটেকরের না-বাচক রাগ রাগিনী খানিক চেষ্টার পর হ্যাঁ-বাচকে পরিণত করার পরিণতি পুপের ভিন্ন ঘরে নিদ্রামগ্ন হওয়া । পরের দিন আমি ভোরে উঠে হাঁটা দিলাম সমুদ্রের পারে । ইতি উতি জনতার জমায়েত সেথায় , সবার নজর সুজ্জি মামার আগমনের দিকে । আমিও খানেক অপেক্ষার পর সূর্যোদয় দেখে ফেললাম , কিছু ছবি তোলার পর বালি পেরিয়ে রাস্তার ফুটপাথে উঠে এলাম ... না , হোটেলের দিকে না গিয়ে সোজা লাইট-হাউস মুখী হয়ে ওদিক পানে আরো একটু এগিয়ে পড়লাম। বেশ লাগছিল । পথে মানুষজন আছে , কাজেই অসুবিধাও নেই । আমাদের সাথীরা সকলেই নিদ্রামগ্ন, আমি ডাকাডাকি করি নাই । কাজেই সময়টাকে নিজের মতন উপভোগ করতে করতে সামনে এগোলাম। আগে , এক সময় , সকালে হাঁটা শুরু করেছিলাম , পরে কন্যার পিছনের নাচন শুরুয়াতের পর হন্টনের বন্টন হয়ে গেল অন্য রকম কাজে !!! অগত্যা .... অনেকদিন পর সমুদ্রের ধা...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৫ পুরীতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য বাঙালির কোনো উপলক্ষ্য লাগে না ।" উঠল বাই কটক যাই " এই প্রবচনের থেকে অনেক বেশি মনগ্রাহী অবশ্যই যদি বলা হয় " উঠল বাই পুরী যাই " । আমাদের এবারের যাওয়ার অবশ্য উপলক্ষ্য ছিলই। তবে পূজো দেওয়ার সাথে সাথে আনুষঙ্গিক সবটাই উহ্য ছিল । কিন্তু ভিড়ের বহর দেখে একটা বিষয়ে দলের সবাই সহমত ছিলাম, যে বেশি ঘোরাঘুরি নৈব নৈব চ। তো ভোর ভোর আগাম সময়ে হোটেলে হাজির হলেও ঘরের দখল পেতে প্রায় সকাল সাড়ে আটটার কাছাকাছি হয়ে গেল । চেক ইন আর আউটের মাঝে ঘন্টা খানিকের ব্যবধান হলেও একটু এদিক ওদিক ধরতে নেই । আমরাও ধরিনি । দোতলার পাশাপাশি তিনটে ঘর সিঁড়ির একদিকে আর অন্য দিকে আর এক পরিবারের থাকার বন্দোবস্ত হল । সব থেকে জুনিয়র দম্পতির জন্য, একটু আলাদা ব্যবস্থা এই আর কি !! আমাদেরও ওমন দিন ছিল রে ভাই !!! এখন তো পুরোটাই গদ্য আর অম্ল-মধুর কলহ মুখর দিনগত পাপক্ষয় 🤫 দু দলের দু রকমের পছন্দসই( লাল চা & দুধ চা ) চা পান করার পর বুদ্ধি খুলল , ঠিক হল সবাই হোটেলের নীচের রেস্টুরেন্টে জলখাবার খেয়ে সমুদ্রে সমর্পন ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৪ পুরী , জগন্নাথ ধাম , আমাদের বঙ্গ জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। অনেকদিন পুরী যাওয়া হয়নি । কথিত আছে , জগন্নাথ দেব না ডাকলে নাকি আগাম ঠিক করে রাখা যাত্রাও বাতিল হয়ে যায় । আমরা আবার অন্য জায়গার যাওয়া বাতিল করে জগন্নাথ দেবের ডাকে সাড়া দিয়ে পুরী গিয়েছিলাম বিয়ে-বৌভাত পর্ব মিটিয়ে। সে গল্প আগেও করেছি । আমাদের প্রথম কোর্টসিপের দিন ছিল রথের দিন , তাই আমাদের কর্তা গিন্নির জীবনে পুরী ও জগন্নাথ দেবের আসন বেশ পাকাপোক্ত। লকডাউন ইস্তক টুকটাক যা ঘুরু বেড়ু করেছি , সবই কাছাকাছির মধ্যেই আর চারচাকায় আসীন হয়ে । কু ঝিক ঝিককে খুবই miss করছিলাম। পূজোর আগে অসুস্থ হলেন আমার শ্বশুর মশাই ...খুব চিন্তার মাঝে দিন কাটার পর , যখন আমরা চিকিৎসকের কথায় আশা ছেড়ে দিয়েছি , সেই সময় বাবা বাড়ি ফিরলেন । পুরোপুরি সুস্থ না হলেও কিছুটা বিপদ কাটিয়ে আমাদের খানিক নিশ্চিন্ত করলেন । পূজো দেওয়ার ভাবনা আমার কর্তার মাথায় ছিলই, আরো তিন পরিবারের সাথে পরামর্শ মতন পুরীর টিকিট, হ্যাঁ ট্রেনের টিকিট কাটা হল পূজোর আগেই।...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২৩ ঘরের ঘেরাটোপ সবার কাছেই খুব আপন । তবুও মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে পড়ি আমরা । আসলে সারাদিনের থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড় এর বাইরের ডাক যারা শুনতে চায় , তাদের কখনও আকাশ ডাকে , কখনও পাহাড় ডাকে ... ডাক দেওয়ার দলে দল ভারি করতে প্রকৃতির নানান বিভাগ আছে । কিন্তু সকলে সে ডাক শুনতে পায় না । তা দোষের মোটেই না , এক এক জনের জীবনের গান এক এক রকম । গত বছরের বসন্তের শেষ থেকেই বাইরের ডাকাডাকিতে অনন্ত কালের তালা পড়ার উপক্রম হল , আমরা কিছুদিন ভয়ে কাটিয়ে সাবধানতার কবজ পরে বাইরে বেরিয়ে পড়লাম। কোন সাবধানতাই full proof নয় , তাই ভয় রইল সাথে সাথে । কিছুদিন ভাইরাসের প্রকোপ কমল , একটু হাঁফ ছাড়িয়ে , সমুদ্র সৈকতে ঘুরে,ঘরে ফিরলাম...তারপরেই ২য় ঢেউ এর, ফেউ হাজির আবার ঘরের বাইরে নেই কেউ ( প্রায় )। হাঁফ ছাড়তে ছাদই সম্বল । আর আমার কর্তা মশাই যেহেতু মেডিক্যাল প্রোফেশনে আছেন , তার ভাণ্ডারে ভয় পাওয়ানোর মেলাই রসদ মজুত, অগত্যা ঘরের মধ্যেই বেড়িয়ে বেড়াচ্ছিলাম । কি করি বলো !!! কদিন বেড়ু যাওয়ার আবদার করতে না করতেই লকডাউনের জন্য যে রোজগার কমতি , সেই এক বছ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২২ প্রথম দিনের ঘটনার ঘনঘটা পেরিয়ে আমাদের মুম্বাই বেড়ু পরের দিনে পড়ল । আগের দিনের ঘটনার দরুণ আমরা এ দিন অতি সচেতন হয়ে রওনা দিলাম। কোথায় ?? আরে !!! বলিনি বুঝি ??? হ্যাঁ , তাই তো ; আগেই বলেছিলাম যে ওই চত্বরে দুই বান্ধবী বাসা বেঁধেছে বৈবাহিক সূত্র ধরে । এক বন্ধুর সাথে মোলাকাত তো ভালোই হলো , এবার পালা অন্যজনের । সে তখন থাকত , একটু দূরে থানেতে । মুম্বাই পৌঁছে আগের সকালে ওর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা প্রথমে ব্যর্থ হতেই , ঘরের উক্ত দুই বন্ধু যুক্তি করে , যুক্ত হয়ে আমাকে উত্যক্ত করতে লাগল .... " বন্ধু ফোন ধরছে না , তোমায় চায় না "... ইত্যাদি প্রভৃতি বলে । কি করি ?? এ সব ভেবে আকুল হয়ে বান্ধবীর দেওয়া অন্য একটা নম্বরে ফোন করতেই ঘরের বন্ধুদের মুখে আপাতত তালা পড়ল । কারণ আমার বান্ধবী ফোন ধরল তো বটেই, সাথে সাথে তার উচ্ছ্বসিত কন্ঠস্বরে আমার সব আশঙ্কার অবসান হল । কর্তা মশাইকে ডেকে , ফোনেই সে জানালো সাদর আমন্ত্রণ। তার কন্যা তখন ছোট্ট, নিজের নানা রকম শারীরিক অসুস্থতার জন্য দেখা করতে আসা সম্ভব যে নয় , সে কথা সে আমার কর্তার কাছে ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২১ ভোর রাতে মুম্বাই পৌঁছলাম আমরা । আগেই লিখেছি , যার ডেরায় আমাদের মুম্বাই এর দিন গুলো কাটাবো বলে স্থির করা , সে হল আমার কর্তা মশাই এর পাড়াতুত বন্ধু , সে আমার থেকে বছর দেড়েকের বড় মোটে । আমাদের কোর্টসিপ পর্বেই আলাপ করিয়ে দিয়েছিল । তখন থেকেই সে আমারও বন্ধু । পাড়াতুত বন্ধুত্ব তো বয়স মেনে হয় না , কাজেই আমার কর্তার থেকে সে বছর তিনেক ছোটই । এখন যদিও দুজনের পাড়া ভিন্ন কিন্তু বন্ধুত্ব অভিন্ন হৃদয়ের । সাগ্নিকের তখন বিয়ে হয়নি , ও কর্মসূত্রে ওখানে থাকত কমলকে নিয়ে । সে একাধারে সাগ্নিকের বাজার সরকার, রাঁধুনি , সবকিছু । ওদের পূর্ব পরিচিত , বিশ্বাসী কলকাতার ছেলে । কাকিমা , মানে সাগ্নিকের মা , তার ছেলেকে একা একা অচেনা শহরে পাঠাতে নারাজ , তাই এই ব্যবস্থাপনা । কমলের যেমন সুন্দর ব্যবহার, তেমন রান্নার হাত । সেদিন সপ্তাহের শুরুয়াত , কাজেই সাগ্নিকের সাথে আগের বলা কথা অনুযায়ী ঠিক হল যে , সারা সপ্তাহে ওর ব্যবস্হাপনায় আমরা সব ঘুরবো , দেখবো দুজনায় । রাতে ওর সাথে দেখা হবে ঘরে ফিরে , সপ্তাহান্তে এক সাথে সবাই খেতে যাব ও...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ২০ অজন্তা , ইলোরার ঘোরার পাট চুকিয়ে , পরের ভোরে ঔরঙ্গাবাদ থেকে পুনে গামী বাসে রওনা দিলাম। তখন পুনা আর পুনে এই দুই নামের মাঝে ওই স্থান ঝুলছে বা দুলছে । পুরাতন নাম তল্পি গোটায়নি আর নতুন নামও শিকড় গাড়েনি । রওনা দিলাম । কাচ ফিক্সড করা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস , সাথে সিনেমা দেখার সুব্যবস্থা যুক্ত । কিন্তু ওই ব্যবস্থা আমার ক্ষেত্রে সু থাকল না , কু এ পর্যবসিত হল । সেই থেকেই জানলাম চলমান বাস বা গাড়িতে আমার এসব দেখা চলবে না । এখনও ট্রেন ছাড়া অন্যত্র ( যানবাহন) মোবাইল দর্শন মানা হ্যায় । যদি সিগন্যাল দেখে ফোনে মন দিয়ে ফেলি , তৎক্ষণাৎ লোকাল গার্জেন গর্জন করেন । আমিও সমঝে যাই । তো এক ভয়ানক সিনেমা চলছিল, ওয়েলকাম । বাপ রে ওয়েলকামের ধরণেই কিনা জানি না , খানিক দেখেই শরীর গোলমাল ( ওই সিনেমা হজম করা সহজ নয় ), ফলে চোখ বুজেই পুনে ওবধি কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু আমার কর্তা মশাই এর এক কথা জীবনের হাজারো ঝামেলা , তাই সাধ করে জীবন মুখী সিনেমার গভীর বিষয় কেন দেখব ??? তাই তার মন পসন্দ সিনেমা সে মন দিয়ে মজা নিয়েই দেখা শেষ করল । এ দিকে পুনেও গুনে ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ১৯ আমাদের বিয়ের বছর চারেক পর আমরা মুম্বাই গিয়েছিলাম। যাওয়ার মাস চারেক আগে থেকেই চাপানউতোর চলছিল জায়গার বাছাই নিয়ে । মুম্বাই যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মত ছিল অজন্তা , ইলোরা হয়ে মুম্বাই গমন । ওদিকের মতামত ছিল ভিন্ন ... খাজুরাহো হলে কথা ছিল অন্য, বৌদ্ধ, জৈন আর হিন্দুদের গুহা স্থাপত্য দেখার কোন মানে নাকি নেই !!! কিন্তু মুম্বাই ঘুরে গোয়া যাওয়ার মানে আমি বিনা চশমাতেও পষ্টাপষ্টি বুঝেছিলাম । মন ভার , মুখ ভার ... মন খারাপের দিস্তা নিয়ে স্মৃতি হাতড়ে স্কুলের বান্ধবীর অজন্তার বর্ণনা চিন্তা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলাম .... অতঃপর ভাগ্য সুপ্রশন্ন হল বলতে হবে ... কর্তা মশাই রাজি হলেন অবশেষে । আহা !! মোটেও গিন্নির মুখ চেয়ে ... এমন ভাবার কারণ নেইকো । ওই চাপানউতোর কালে বলা ভালো হেনকালে মুক্তি পেল সন্দীপ রায়ের পরিচালিত " কৈলাশে কেলেঙ্কারি " । আমরা দেবাদেবী দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহে দেখতে গেলাম ... দেখলাম...মন জয় করলো কিনা সিনেমার ইলোরার গুহা মন্দির !! ভাবা যায় ?? সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে , বাড়ি ফেরার পথেই বলত...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ১৮ পরীক্ষার শেষ প্রহরের দেখা এবারও মিলল , হোক না সে অনলাইনের পরীক্ষা । আপাতত করোনা জন্য ট্রেন অথবা প্লেনের বুকিং আমাদের শিকেয় তোলা , যদিও পরিষেবা চালু হয়েছে বেশ কিছুদিন। কেউ কেউ ভয়ে ভয়ে কপাল ঠুকে যাচ্ছেন বটে , তবে আমরা এখনও ও পথ ধরিনি। তবে আগামী দিনে যে ধরব না , এমনও বলিনি । just দেখছি, ভাবছি ....অভিজ্ঞতা বাড়াচ্ছি। গতবছর আমরা যখন ভালোয় ভালোয় ঘুরে ঘরে ফিরলাম, তারপর করোনা ডালপালা বিস্তার করল , সব যাতায়াত বন্ধ হলো । পরে আস্তে ধীরে আবার আমরা বন্দী দশার বাইরে এদিক ওদিক দেখে , সাবধান হয়ে কাজে কর্মে , মনের টানাপোড়েন কাটিয়ে মনের ডাকে ভয়ের থেকে ছুটি নিলাম... বেরিয়ে পড়লাম। এমন ধারার বেড়ুর মার নেই , এ যেমন ঠিক , আবার সাবধান হয়েও সব বিপদ যে এড়ানোর নয় , তাও ভুল নয়। এবারের আলাপ, বিলাপ , জোগাড় সব শেষ করে আমাদের জয়যাত্রা শুরু হলো মন্দারমণির দিকে । মেয়ে তো শুরুতেই সুরুৎ করে অন্য গাড়িতে আর দুই খুদের সঙ্গী হোলো আর আমি ঝাড়া হাতপায়ে বাকিদের সঙ্গ দিলাম। পুরোপুরি বিঘ্ন শূন্য যাত্রা যে হবে না , তা জানতামই । আরে ব...