মুম্বাই জমজমাট

  মুম্বাই জমজমাট 


 আমাদের বিয়ের বছর চারেক পর আমরা মুম্বাই গিয়েছিলাম। যাওয়ার মাস চারেক আগে থেকেই চাপানউতোর চলছিল জায়গার বাছাই নিয়ে । মুম্বাই যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মত ছিল অজন্তা , ইলোরা হয়ে মুম্বাই গমন । ওদিকের মতামত ছিল ভিন্ন ... খাজুরাহো হলে কথা ছিল অন্য, বৌদ্ধ, জৈন আর হিন্দুদের গুহা স্থাপত্য দেখার কোন মানে নাকি নেই !!! কিন্তু মুম্বাই ঘুরে গোয়া যাওয়ার মানে আমি বিনা চশমাতেও পষ্টাপষ্টি বুঝেছিলাম । মন ভার , মুখ ভার ... মন খারাপের দিস্তা নিয়ে স্মৃতি হাতড়ে স্কুলের বান্ধবীর অজন্তার বর্ণনা চিন্তা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলাম .... অতঃপর ভাগ্য সুপ্রশন্ন হল বলতে হবে ... কর্তা মশাই রাজি হলেন অবশেষে । আহা !! মোটেও গিন্নির মুখ চেয়ে ... এমন ভাবার কারণ নেইকো । ওই চাপানউতোর কালে বলা ভালো হেনকালে মুক্তি পেল সন্দীপ রায়ের পরিচালিত " কৈলাশে কেলেঙ্কারি " । আমরা দেবাদেবী দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহে দেখতে গেলাম ... দেখলাম...মন জয় করলো কিনা সিনেমার ইলোরার গুহা মন্দির !! ভাবা যায় ?? সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে , বাড়ি ফেরার পথেই বলতে শুনলাম... " এবার অজন্তা ইলোরাটা ঘুরে আসি , কি বলো ? পরের বার গোয়া যাবক্ষণ ।".. মনের উচ্ছ্বাস মনে চেপে , মনে মনেই বললাম... তা আর বলতে ?? মত বদলালো , সেই মতো পথও বদল হলো । 


এক বাঁধা দূর করলেন সন্দীপ রায় , টিকিট কাটা ও অন্যান্য কাজ যখন একটু একটু এগিয়ে পড়েছে , আবারও বাঁধা । এবারের বাধা বাসা বাঁধল আমার কোমরে । দুঃখের কথা কাকে বলি ,বালতি তুলতে গিয়ে ফিক লেগে ব্যাথা একদম পিকে ( peak )। তাকে ঠিক করতে নানা দাওয়াই , সাথে বিশ্রাম চলতে থাকল । আরাম হারাম হ্যায় বলে যেই কাজে যোগ দিই ব্যারাম আবার কোমরের দখল নেয় । আমাদের মন খারাপ ... সময় বেশি নেই , মেরে কেটে বেরিয়ে পড়তে বাকি মাস দেড়েক । আমার মায়ের অনুরোধে গেলাম শেষে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ডেরায় ... কর্তা নিমরাজি , নিজে গেলেন না , বিশ্বাস নেই, এদিকে শ্বাশুড়ি মায়ের কথা ফেলা সব দিকে থেকেই বিপদের !! এলোপ্যাথি আর হোমিওপ্যাথির বিবাদটা কিসের কে জানে ? তবে শেষরক্ষা করলেন হোমিওবাবুই । অনেকদিনের পরিচিত ডাক্তার একদমই রোমিও সুলভ যুবক নন ... সব শুনেই , যাওয়ার দিনক্ষণ জেনে বললেন .. চিন্তার কিছু নেই, তুমি ঘুরতে যেতে পারবে । আর সত্যিই পারলাম আর দৌলতাবাগ ফোর্টের ৩৫০ সিঁড়ি আর প্রতাপগড় ফোর্টের ৪০০ সিঁড়ি নিজে হেঁটেই উঠেছিলাম ... মোটেই কোলে কাঁখে চাপিনি । কর্তা মশাই মুগ্ধ হয়ে ডাক্তার জেঠুর মহিমা মেনে নিলেন তখনকার মতো , কলকাতার জল হাওয়াতে ফিরে আবার স্বমহিমায় ফিরে ওনাদের এলোপ্যাথির গুণ কীর্তন করে চলেছেন সেই ইস্তক। উনি এযালোপ্যাথ চিকিৎসক কিনা !!!


শেষমেষ দূগ্গা দূগ্গা করে গীতাঞ্জলী এক্সপ্রেস করে রওনা দিলাম। স্লীপারের টিকিট ছিল ... বয়সের সাথে সাথে বায়নাক্কার দোহাই দিয়ে দুজনেই স্লীপার থেকে আপার মুখী হয়েছি ... দুজনেই সহমত তাই নেই চাপ । আর তখন না থাকলেও এখন আমারও সাথে পুপে ( আমাদের কন্যা ) নামক শিখণ্ডী আছে । সে কিছু বললে ( অবশ্যই বেড়ানোর সময় ) তার বাবা কেমন যেন নরম পাকের মাখা সন্দেশের মতন মোলায়েম হয়ে যায় । কিন্তুক !!! অন্য সময় কড়া পাকের হালুম হালুমে আমরা মা মেয়ে গেলুম হয়ে যাই বাড়িতে । তবে সত্যিই বলছি ... বেড়ানোর সময় কর্তা মেয়ের কাছে নরম পাক আর আমার কাছে একদম উত্তমকুমার 😄 কি রোমান্টিক !!! বাপ রে !!! এই জন্যই তো কবে থেকে বেড়াতে যেতে চাইছি । 


ট্রেনে এক রাত কাটিয়ে তারপরের দুপুরে ভুসওয়ালে নামলাম, এদিকের অনেকের বাণী শিরোধার্য করে ভুসওয়ালের বিখ্যাত কলা কেনার উপায় না থাকায় , আমরা ওখান থেকে সরাসরি ওমনি (মারুতি ভ্যান) ভাড়া করে ফরদাপুর সরকারি হোটেলে হাজির হলাম। হাইওয়ের পাশে ছড়ানো ছিটানো বিশাল এলাকা জুড়ে হোটেল । এখানেও বেশ কিছু হনু সপরিবারে থাকে । দূরে অজন্তার পাহাড়ের সারি চোখে পড়ে , মনে একেবারে ফূর্তির বাণ ডাকল । তবে সন্ধ্যার দিকে বিজ্লি গন্ হওয়ার কিছু পরেই হোটেলের এক কর্মী এসে দুইখান মোমবাতি ধরিয়ে জেনারেটরের গোলযোগের তথ্য পরিবেশন করে গেল , অপরিচিত জায়গায় আলো আঁধারির মধ্যে দুজন ভুতের মতন বসে বসে হঠাৎই হৈ চৈ শুনে ঘাবড়ে গেলাম ... কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝলমলে আলোর ঝিলিকে সন্ত্রস্ত ভাব খানিক কেটে যেতেই ঘরের সামনের টানা বারান্দায় প্রথমে উকি , তারপর টুকি করতে করতে কর্তা মশাই গুটি গুটি এগিয়ে পড়লেন , খবর সংগ্রহ করে ফিরেও এলেন ... কৌতুহল নিবারণ হল , শুনলাম কোন সান্ত্রি বা মন্ত্রীর ছেলে ( এখন তিনি মন্ত্রী 🤫 ) গামলা গামলা আমলা সহ পায়ের ধুলো দিতে এসেছিলেন ...


এমারজেন্সির জন্য রাখা জেনারেটর চালু করতেই আলোয় ভুবন ভরা হলো । আর ওই আলো বন্ধ করলে বিপদ হতেও তো পারে , তাই আলো স্থায়ী হল , এক সময় বিজ্লিও হাজির হল। আমরা পরের দিনের ইতিহাস দেখার ভাবনায় মত্ত হয়ে ঘুম দিলাম নৈশ আহারের পরে পরেই ।


পরের দিন সকালেই খেয়ালে ধরা দিল , বাঙালি ছাড়া অন্য প্রদেশের এক দুইটি পরিবার হোটেলে থাকলেও বিদেশী বোর্ডারের ভিড় অনেক বেশি , যাদের মধ্যে সংখ্যাধিক্যে এগিয়ে চীনা ও জাপানি বোর্ডার । আমাদের বাঁ পাশের ঘরেই ছিল ভারি মিষ্টি এক জাপানি যুবতী । অজন্তা কেভস্ দেখতে যাওয়ার পথে আলাপও হয়েছিল তার সাথে , পেশায় সে নার্স ( সেবিকা )। তা শুনে যথারীতি আমার কর্তা ভারি খুশি হয়ে গিয়েছিল , পেশাগত নৈকট্যের কারণেই হয়তো । কি জানি 🤔 ? 


এরপর অটোর যাত্রার পর ব্যাটারি চালিত বাসে করে অজন্তার পাহাড়ের পাদদেশে অবতীর্ণ হয়ে প্রথমেই গাইড না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্তা মশাই এগিয়ে গেলেন , আমি পিছু নিলাম ... প্রথম গুহায় ঢুকেই সিদ্ধান্ত কেমন যেন ঝিমিয়ে গেল , আমি এসব ক্ষেত্রে মুখে কুলুপ এঁটে ওদিকের রকম দেখি ... সেই যে ঠোক্কর খেলো...আজ ওবধি ওই ঠেকে শেখা বিস্তর কাজে এসে চলেছে ঐতিহাসিক স্থান দেখতে গিয়ে । আসলে কি হয়েছিল জানো ? পাড়াতুত এক কাকু গাইডের জন্য খরচ যে বেকার এই মন্ত্র কানে দিয়েছিলেন আর আমার কর্তা মশাই বেড়াতে গিয়ে যথেচ্ছ খরচ করলেও , এমনিতে বুঝে খরচের মানুষ , যদিও আমার ক্ষেত্রে হাল পুরো না হলেও খানিক ছেড়ে দিয়েছে , তবে লাগাম এখনও ওদিকেই । কিছু বিশেষণ যুক্ত বাক্যবাণ শুনলেই বলে ... উঁহু ওমন বলতে নেই , বলো আমি মিতব্যায়ী । এই ওবধি ঠিক ছিল , পরে যোগ করে ... "না হলে হাতি পুষবো কি করে ?? " ... দেখলে তোমরা কেমন আমাকে হাতি বলে দিলো ?? তাও ভুল বাংলায় ?? হস্তিনী হবে তো !!! যাই বলুক ওর সাথে পথে বেরলে একটা মানানসই চেহারা না হলে কি ভালো দেখায় ? তোমরাই বলো !!! 


তো যা বলছিলাম, শেষ ওবধি সব দেখাদেখি হলো গাইডের দেখানো পথেই, ফিরে হোটেলে দুপুরের খাবারের পাট চুকিয়ে অজন্তাকে বিদায় জানিয়ে গাড়ি করে আমরা চলে গেলাম ঔরঙ্গাবাদ। সেখানকার সরকারী হোটেলে গিয়ে জানলাম, আমাদের জন্য যে ঘর নির্ধারিত, তাতে নাকি সন্দীপ রায় ছিলেন ..." কৈলাশে কেলেঙ্কারি " সিনেমার শুটিং এর সময় । সত্য মিথ্যার বিচার কে করবে জানি না , আমরা সত্য ধরে বিগলিত হয়ে ঘরে প্রবেশ করলাম । সন্ধ্যার সময় ওদিকের বিখ্যাত শাড়ির খোঁজে দুজন , দু রকম মেজাজ নিয়ে অটো ধরে প্রথমে দোকান, পরে শাড়ির কারখানা ঘুরে , গায়ে শাড়ি ফেলে এদিক ওদিক দেখে একখান বগলদাবা করে ফিরলাম ... যদিও , যে শাড়ির খোঁজে গেলাম, তাকে তখনও পাওয়া হল না । আপন করতে আরো অপেক্ষা করতে হয়েছিল । আমার এক মুম্বাই নিবাসী বান্ধবী নিয়ে এসেছিল তাকে । সেই তাক লাগানো অরিজিনাল পৈঠানির মূল্য অতদিন আগেও বেশ বেশি ছিল , আমার বান্ধবী নিয়ে এসেছিল সেমি পৈঠানি । অরিজিনালের আঁচলের পাখির মোটিফে নাকি সোনার জরির কাজ একে অমূল্য করেছে । প্রধানত দুরকমের পাখি ... টিয়া ও ময়ূর । কোনটার মূল্য বেশি বুঝতেই পারছ !!! আমার ছোটদির ছেলে সব শুনে বলেছিল... " কাকের মোটিফ কিনলে ভাল করতে .. মেসোর পকেট ফ্রেন্ডলি হোতো !!!!" 😡👿 


      পরের দিন one day package এ গাইড সহ আমাদের বাস ছাড়ল হোটেলের অফিসের সামনে থেকেই। কজন বাঙালি সহযাত্রী সহ বেরিয়ে পড়লাম। গাইডের বলার ধরণ একটু নাটকীয় , তাতে ক্ষতি ছিল না , তবে গলার উত্থান, পতন ছিল মারাত্মক !! পতনের দিকের বর্ণনা কিছুই কর্ণগোচর হয়নি সেবার । তো খানিক খানিক গোচরিভূত তথ্য নিয়েই একে একে দৌলতাবাগ ফোর্ট , ইলোরার গুহা মন্দির, পানি চক্কি , বিবি কা মকবরা , ঔরঙ্গজেবের সমাধি সব দেখা হল । এর মধ্যেই খাওয়ার বিরতি ছিল , ইলোরা দেখার মাঝে । ইলোরাতে ভাগাভাগি করে দুই দিকে স্থাপত্য...একদিকে হিন্দু ও বৌদ্ধ গুহা , যেখানেই সেই বিখ্যাত কৈলাশ মন্দির, যার জন্য আমার ইচ্ছাপূরণ হল , আর অন্য দিকে জৈন গুহা মন্দির। জৈন গুহা মন্দিরের সিঁড়ি দেখে আক্কেল গুড়ুম, প্রায় ছোটবেলার style এ ( মনে নেই ছোটকালের কথা ) হামা দিয়ে হ্যাঁচোর প্যাচোড় করে উঠলাম শেষমেষ। কর্তা ছিলেন পিছে , তাই টেনে তোলার উপায় নেই। এদিকে ইলোরাতে আরেক কাণ্ড ধরা পড়ল ... কর্তা মশাই এর সদ্য উপহার স্বরূপ পাওয়া ডিজিটাল ক্যামেরা আর আগেকার আমার কোডাক k20 এই দুইখান নিয়েই বেড়ু বেড়ু করতে গিয়েছিলাম... ভাগ্যিস !!! কর্তা মশাই এর বিবেচনার কথা বলতেই হবে । ইলোরা চত্বরে নজরে এল এ যাবৎকালের সব ছবির কিছুই নতুন ক্যামেরা আর দেখাচ্ছে না । কি হবে ?? কত কায়দার ছবি তুলে দিয়েছিল কর্তা মশাই !!! 🤔😥

নাহ্ সে সব গেলোই , ভাগ্যিস ভাগযোগ করে দুই যন্ত্রেই ধরে রেখেছিলাম ছবি .... । খুব মন ভার হয়েছিল। তাজমহলের আদলে তৈরি বিবি কা মকবরাতে এই মিঞা বিবি পুরাতন পদ্ধতির সহায়তায় ছবিও তুলেছিলাম, যা আজও অক্ষত। 

এই ঘোরাঘুরির মধ্যেও শাড়ির কারখানা পরিদর্শন ছিল । সেখানে বাসের সকল মহিলা হাসি মুখে আর কর্তারা বিরস বদনে হাজিরা দিলেন। মায়ের জন্য একখান শাড়ি কিনেছিলাম, নিজেই । জামাইকে আর দুঃখের ভাগিদার করিনি । তাতেও মুখ ভার !!! বিয়ের পর থেকেই বুঝিয়ে আসছি ... তোমার টাকা আমার টাকা এবং আমার টাকা আমার টাকা !!! তা শুনলেও মানলে তবে না ? আচ্ছা তোমরাই বলো দেখি , বিয়ের মন্তর কে বলে পুরোহিত মশাই এর সাথে ? আমরা তো বসে বসে ভাবি এরপর কি কি হবে ??? হতে চলেছে ??? তবে ?? ওখানে যদিদং .... ইত্যাদির ইতিবৃত্ত অনুযায়ী তোমার সবই আমার... সে যাই বলো না বলো .... । 

যাক সেদিন হা ক্লান্ত হয়ে ফিরে , খেয়ে দেয়ে ঘুম , পরের দিন ভোরে রওনা হয়ে পুনে হয়ে আমরা রওনা দেবো পাহাড়ী গন্তব্য মহাবালেশ্বর । 

 অজন্তা , ইলোরার ঘোরার পাট চুকিয়ে , পরের ভোরে ঔরঙ্গাবাদ থেকে পুনে গামী বাসে রওনা দিলাম। তখন পুনা আর পুনে এই দুই নামের মাঝে ওই স্থান ঝুলছে বা দুলছে । পুরাতন নাম তল্পি গোটায়নি আর নতুন নামও শিকড় গাড়েনি । রওনা দিলাম । কাচ ফিক্সড করা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস , সাথে সিনেমা দেখার সুব্যবস্থা যুক্ত । কিন্তু ওই ব্যবস্থা আমার ক্ষেত্রে সু থাকল না , কু এ পর্যবসিত হল । সেই থেকেই জানলাম চলমান বাস বা গাড়িতে আমার এসব দেখা চলবে না । এখনও ট্রেন ছাড়া অন্যত্র ( যানবাহন) মোবাইল দর্শন মানা হ্যায় । যদি সিগন্যাল দেখে ফোনে মন দিয়ে ফেলি , তৎক্ষণাৎ লোকাল গার্জেন গর্জন করেন । আমিও সমঝে যাই । তো এক ভয়ানক সিনেমা চলছিল, ওয়েলকাম । বাপ রে ওয়েলকামের ধরণেই কিনা জানি না , খানিক দেখেই শরীর গোলমাল ( ওই সিনেমা হজম করা সহজ নয় ), ফলে চোখ বুজেই পুনে ওবধি কাটিয়ে দিলাম।

কিন্তু আমার কর্তা মশাই এর এক কথা জীবনের হাজারো ঝামেলা , তাই সাধ করে জীবন মুখী সিনেমার গভীর ও গম্ভীর বিষয় কেন দেখব ??? তাই তার মন পসন্দ সিনেমা সে মন দিয়ে মজা নিয়েই দেখা শেষ করল । এ দিকে পুনেও গুনে গুনে সময় মতন চলে এল । আমার গা গোলানো তখন অনেকটাই কমের দিকে । সম্ভবত বেলা ১১ টার একটু পরেই পুনেতে নামলাম। লটবহর আমার জিম্মা করে তিনি গেলেন মহাবালেশ্বরের জন্য গাড়ি ভাড়া করতে আর মুম্বাই নিবসী তার এক বন্ধুকে কল করতে ।কারণ মুম্বাই পৌঁছে নবী মুম্বাইতে তারই ডেরায় আমাদের ওখানকার সাকিন নির্দিষ্ট, আগে থেকেই। সেদিন শনিবারের বারবেলা , আমাদের সাথে কথা বলেই সে বাজারের পথ ধরবে । আমরা যাবো কিনা !!! আর গিয়ে কতো ঘুরবো ... তার জন্য ভাল করে বাঙালি খাবার খেয়ে দেয়ে নিজেদের শক্ত পোক্ত করতে হবে তো !!! বাইরে এ কদিন বাঙালি খাবার তো মেলেনি , উল্টে ঔরঙ্গাবাদে হোটেলে অদ্ভুত স্বাদের একটা কেমন কেমন চাইনিজ ফ্রায়েড রাইস খেয়েছিলাম । আসলে বাঙালি চাইনিজ খেয়ে অভ্যস্ত জিভ , মারাঠি চাইনিজ সহ্য কেন করবে , সেটা নয় উহ্যই থাক । 

গাড়ি ঠিক করা নিয়ে গোল বাঁধলেও, শেষ পর্যন্ত মধুরেণ সমাপয়েৎ এর মতন গাড়ি আমাদের নিয়ে গতি বাড়িয়ে গড়গড়িয়ে মহাবালেশ্বরের পথে রওনা দিল । গাড়িতে উঠে খোলা জানলার নির্মল বাতাসে হাপ ছেড়ে বাঁচলাম । আগের বাস জার্নির সময় তেমন কিছুই খাওয়ার সুযোগ হয়নি , শরীর গোলমালের দরুন। বিস্কুট খেয়েছিলাম বোধহয় তেনার তাড়নায় । এবার খিদে খিদে ভাব জেগে উঠল , আমরাও ড্রাইভার দাদার recommendation এ এক জায়গায় পাত পেড়ে খেয়ে নিলাম। আর খিদের মুখে কি বাঙালি কি মারাঠি সবই অমৃত । কাজে কাজেই খাবার নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা তোলা থাকল তখনকার মতন । আবার চলতে চলতে... বরং বলা যায় ভাত ঘুম দিতে দিতে দুজনেই পাহাড়ি পথ ধরে ফেললাম। হ্যাঁ তো , মহাবালেশ্বর তো পাহাড়েই । আর পাহাড়ের প্রতি আমাদের দুজনেরই আকর্ষণ আর প্রেম ভয়ানক রকম বেশি । এক সময় ঘুম ভাঙার পর "ও সাথি চল তু...." গানের কলি মনে আনা গোনা করতে লাগল ... এ পথেই তো এক সময়ের অসংখ্য বলিউডের তারকাদের নাচা গানার আদর্শ স্থান ছিল বলে শুনেছি । এক সময় পাহাড়ি পথের বাঁকে গন্তব্য দৃশ্যমান হল , আরো কিছু পথ পেরিয়ে একটা চার্চের পাশ কাটিয়ে M.T.D.C এর হোটেলে পৌঁছলাম। তখন সন্ধ্যার আঁধার নামছে । এখানেও গাছ গাছালি পরিবেষ্টিত বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে কটেজ আর ডাইনিং হল অন্য পাশে । পাশাপাশি আলাদা আলাদা ছোট্ট কটেজের একটাতে আমাদের স্হান হল । এখানেও আগাম মোমবাতি ধরিয়ে দিল হোটেলের রুম সার্ভিসের মধ্য বয়স্ক কর্মীটি । হাল্কা ঠাণ্ডার আমেজে মন মেজাজ তখন বেজায় খুশ্ । মোমবাতি , খাবার জলের ব্যবস্থা সব সম্পন্ন করে যাওয়ার আগে ওই কর্মী ঘরের সামনের লাগোয়া বারান্দায় কিছু না রাখার কথা বলে গেলেন । কিছু বলতে কাপড় জামা , জুতো ইত্যাদি । বাঙালি ঘরনী আর ধোপানীর খুব পার্থক্য নেই কো !!! আমি ট্রেনেও ছোটখাট তোয়ালে , গামছা শুকতে দিতে দেখেছি আর তা থেকে শিক্ষিত হয়েছি , এক দুবার .... । মোদ্দা কথা হল যে এখানেও বাঁদর । পরের দিন সক্কাল সক্কাল আমরা দুই মক্কেল নিজেদের বারান্দার চেয়ারে ফিট করে সকালের তাজা ভাবটা নিজেদের ভিতর ভর্তি করতে করতে এক খুদে বাঁদরের বাঁদরামি দেখছিলাম। মজাও লাগছিল। 

তো সেদিন সন্ধ্যার দিকে হাঁটি হাঁটি করে একটু আশে পাশের সাথে পরিচিত হতে গেলাম। প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছে আমি চনমনে আর সে মিনমিনে হয়ে গেল । কেন বলো তো ? ঠিক ধরেছ মার্কেট প্লেসে হাজির হয়েছিলাম যে !!! কোন দিকের বিপদ কে জানে ? আমার পরিচিত মহলের জন্য টুকটুক কিছু কিনে থাকি প্রতিবারই , সেই টোকেন খোঁজাখুঁজির ফাঁকে ফ্রুট জুস খাওয়া হল , স্ট্রবেরী জুস । ওদিককারই ফল , পরের দিন স্ট্রবেরী ফার্মেও গিয়েছিলাম। এদিক ওদিক ঘোরাফেরার পর , পরের দিনের ঘুরপাক খাওয়ার গাড়ি ঠিক করতে ওখানকার অনেক ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে একটা অফিসে কপাল ঠুকে ঢুকে পড়লাম। পর পর অনেক এজেন্সি থাকলে , অপরিচিত শহরে কে আর সঠিক পথের দিশা দেবে ? তবে টুরিস্ট স্পট গুলোতে সাধারণত এলোমেলো ঘটনা কম ঘটে । তিনি দস্তুর মতন সব যাচাই করতে শুরু করলেন । আমি এদিক ওদিক দেখে , ওখানকার এক স্লীপার কোচের ছবি দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হলাম। পথে এমন বিজ্ঞাপিত ছবি আরো কটি এজেন্সির সামনে দেখলেও মরমে পশেনি , এবার আমার এক নতুন ইচ্ছে মনে ডানা মেলল .... আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী দুই রাত মহাবালেশ্বরে কাটিয়ে , তৃতীয় দিনের দিন ভোরে বা সকালে মুম্বাই এর উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবো ,আর সাগ্নিকের বাড়ি দুপুর দুপুর পৌঁছে যাব । কিন্তু ... কর্তা মশাই কে একটু অন্যরকম ভাবে বোঝাতে হবে , তো যে পথ সোজা সেটাই পাকড়াও করলাম...ভাড়া গাড়ি আর বাসের (তা সে হোক না শীততাপ নিয়ন্ত্রিত) ভাড়ার বিস্তর ফারাক । তবে ?? আর একটা রাত হোটেলের বদলে নয় , স্লীপার কোচেই কাটুক। ভোর ভোর বন্ধুর বাড়ি পৌঁছে যাওয়া যাবে । চিড়ে ভিজল এক কথায় , পরের দিন ও রাতের দু ধরনের বাহনের আগাম বুকিং করে , বুক ভরা খুশি নিয়ে হোটেলে ফিরলাম। কিন্তু মুশকিল কি জানো ? ও পক্ষও আমাকে হাঁড়ে হাঁড়ে চেনে 🤔। ফেরার পরে একগাল হেসে বললে ... " আমার টাকা save করলে , নাকি ওই বাসে চড়ার শখ চাগাড় দিয়েছে ?" .... যাহ্ পুরো জল ঢেলে দিল । এই করে জানো তো ; যা ভাবি ঠিক ধরে ফেলে !! আর কি ; ধরা পড়ে , ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টায় ইতি টেনে আমিও হেসেই দিলাম... কি আর করি !!! রাতে খেতে গিয়ে শুনি ওখানকার রান্না ঘরে একজন বাঙালি কুক আছে , বাঙালি টুরিস্টের কৌলিন্যই আলাদা , তাই সে কথা মাথায় রেখে পশ্চিম বাংলার রতন , পশ্চিমে পাড়ি জমিয়ে , ওখানকার রান্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে । তাকে ডাকা হলো , ফরমায়েশ মতন যখন খাবার পরিবেশিত হল , বুঝলাম এ রতন আর সে রতন নেই । পরোটা ও মাংসের ঝোলের বদলে কুলচা আর এক চিড়বিড়ে ঝাল চিকেন খেয়ে তখন দুজনেই বুঝতেই পারছিলাম ... নয়ন সরসী কেন ভরেছে জলে ? কিন্তু গাওয়ার অবস্হায় ছিলাম না কেউই । আমার কর্তার গানের দৌড়োদৌড়ি মেঘের কোলে ওবধি । তবে গান শুনতে ভালবাসে আর কোন জমায়েতে গেলেই লজ্জিত মুখে বলে ফেলেন ... জানো তো/ জানিস তো শিল্পী( আমি ) গান জানে । এবার তাদের শুনতে হয়ই , না চাইলেও 🤫 কারণ অনিচ্ছুক বুঝে যদি চেপে যাই , সে চেপে ধরবেই ... কই শুরু করো !!! বোঝো একবার ; আমি আগাপাসতলা বুঝেও এই শ্রোতার উৎসাহের স্রোত থামাতে অপারগ 🙄

তো যাইহোক পরের দিন জলদি সাজুগুজু করে বেরিয়ে পড়লাম। রোদে ভাজা হবার আগে আগেই ।যা যা দেখার দেখতে দেখতে চললাম। পাহাড়ের কয়েকটা কমন ভিউ পয়েন্ট দেখার সাথে সাথে , মন্দির ( পঞ্চগঙ্গা মন্দির ) , লেক , বোটিং আর না না ধরনের মার্জিত রোমান্টিক ছবিও তোলা হলো ড্রাইভার দাদার সৌজন্যে । পাশাপাশি দাঁড়িয়ে, বসে , পদপ্রান্তে বসে ( আমি) ছবি তোলার পর , খাওয়ার পর্ব চুকিয়ে স্ট্রবেরী ফার্ম দর্শন করে , ঐতিহাসিক প্রতাপগড় ফোর্টের ইতিহাস প্রত্যক্ষ করলাম। ফোর্টের চূড়ান্ত উঁচু স্হানে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ঘোড়ায় বসা একখান চির পরিচিত মূর্তি দেখে , এবার ফেরার পথ ধরলাম। মন্দিরের একটা বিষয় মনে আছে , বেশ কয়েকটি নদীর জল সরাসরি মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে দুটি পৃথক জলাধারে মিশেছে ।প্রতিটা নদীর নাম লেখা নল , যা পাথরের তৈরি গো-মুখের সাদৃশ্য যুক্ত , তা দিয়েই পঞ্চ নদীর জলের জলাধারে প্রবেশ । বেশ অভিনব লেগেছিল বিষয়টা । পাঁচটি নদী সম্ভবত কৃষ্ণা , কোয়েনা , ভেন্না , গায়েত্রী ও সাবিত্রী আর ধর্মীয় মতে ওই জল আমাদের গঙ্গা জলের মতনই পবিত্র বলে বিবেচ্য। ওদিকে তো গঙ্গা নেই । সম্ভবত দুই জলাধারের একটির জল পানীয় হিসাবে ব্যবহৃত হয় আর অন্যটি মন্দিরের দর্শনার্থীদের হাত , পা ধোয়া জন্য ব্যবহৃত হয় ।

সব দেখা দেখির পর ফিরতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল , ফিরে বিশ্রাম, নৈশ আহারের পরেই ইচ্ছাপূরণ ট্রিপ । সে বাস ছাড়ল রাত ৯ টার সময় । খানিক আগেই সেখানে পৌঁছে , মাল পত্তর বাসের পেটে ভরে বাসে উঠে পড়লাম। উঠেই আমি মুগ্ধ !!! করিডোরের দুপাশে জোড়া বার্থ আপার আর লোয়ার । সমস্ত বার্থে দুখান বালিস , দুখান ব্ল্যাঙ্কেট , আলোর ব্যবস্থা , চার্জ দেওয়ার পয়েন্ট আর সবটাই হাল্কা ঘিয়ে রঙের পর্দার ঘেরাটোপে বন্দী । আহা !! কি রোমান্টিক পরিবেশ । ভাগ্যিস ইচ্ছে জেগেছিল ; নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে নিলাম মনে মনে । কিন্তু এ কি আমার এমন রোমান্টিক কর্তা মশাই এমন চিন্তিত কেন ? মুখে তার হাসি নাই দেখলাম । কি হলো ??? আমাদের রাজ্যের পাহাড়ি পথে রাতে গাড়ি চলাচলের বিধিনিষেধ ( কম চলে ) থাকলেও ওদিকের বন্দোবস্ত ভিন্ন আর তাতেই আমার চিন্তামণি চিন্তিত হয়েছেন , সে পরে বুঝেছিলাম। নাহ্ ওমন রোমান্টিক অ্যামবিয়েন্স মাঠে থুড়ি পাহাড়ি পথেই মারা পড়ল । আমি আবার মনের দুঃখ আর চিন্তা সইতে পারিনা , ঘুমিয়ে পড়ে মনকে রেহাই দিই , অগত্যা ঘুম দিলাম। তিনিও জাগন্ত হয়ে পাশে শুলেন , পরে যে ঘুমালেন তা বুঝলাম নামার আগের কন্ডাক্টারের জায়গার নামের অ্যানাউন্সমেন্টে !!! আসলে হয়েছিল কি ... আমাদের নামতে হবে নবী মুম্বাই এর খারগারে , সেই মত কথা ছিল কন্ডাক্টর আমাদের একটু আগে পানভেলে ঘুম থেকে তুলে দিলেই , কর্তা মশাই বন্ধুকে ফোন করে দেবে আর আমরা যথাস্থানে নামার পর , সে তার বাহন চালিয়ে এসে তার ডেরায় নিয়ে যাবে । কিন্তু .... পানভেলে আমরা সবাই ঘুমন্ত মায় কন্ডাক্টরও , ঘুম ভেঙে দু স্টপ পেরিয়ে খারগার আসতে দেখে সে হৈ চৈ রবে খারগারের নাম ঘোষণা করল ... ধড়মড়িয়ে দুজন উঠে পড়ে নামার তাড়নায় , সে বাছাধনকে আর আগে না ডাকার জন্য বকুনি দেওয়ার সুযোগ পেলাম না। খারগার বাসস্টপ পেরিয়ে গিয়ে একটু অন্ধকার রাস্তার ওপর রাত ৩টে ৩০ মিনেটে আমাদের লটবহর সহ নামিয়ে শূনশান পথে বাস হুস্ করে বেরিয়ে গেল । 

কর্তা মশাই চটপট রাস্তার আরো ধারে আমাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বন্ধুকে ফোন লাগাল , ওই অন্ধকার ভাল লাগছিল না , আলোর দিকে আসলেই বকুনি দিয়ে আঁধারে মশার জিম্মায় থাকতে বলছিল । বললাম... মশা তো তুলে নিয়ে যাবে এবার ?? রাগত উত্তর এলো ... "তুলুক , অন্য কেউ না তুললেই হলো ।" এবার আলো আঁধারির কার্যকারণ ধরতে পারলাম , কেঁপে উঠলাম... সত্যিই তো , এ তো ভাবিনি !! ওই সময়টা তো বিপদজনক আর মুম্বাই-পুনে হাইওয়ে দিয়ে চার চাকার ছোট বড় গাড়ি তো বেরিয়ে যাচ্ছে অনবরত । বয়স কম , সাথে জাঁদরেল সাথি , বেড়ানোর রোমাঞ্চকর আনন্দে বাস্তবকে ভুলে মেরে দিয়েছি যে , দিনকালের হালচাল তো ভাল নয় । ভয় ভয় করতে লাগল । এমন পরিস্থিতিতে সময় যেন কাটতেই চায় না । ওর বন্ধু দুই রিঙেই ফোন ধরে , নেমে গেছি শুনেই আর দেরি করেনি , ২০ মিনিটের মধ্যেই চলে এল ... মনের ঝাল মেটানোর আগেই লটবহর আর আমাদের তুলে নিয়ে রওনা দিল ওর বাসস্থানের দিকে । প্রথমেই আমাদের বেআক্কেলে সময়ে আসার জন্য বেছে বেছে শব্দ প্রয়োগ শুরু হলো ...আর তারপরেই কটাক্ষ লটবহরের সংখ্যাধিক্যের জন্য, কিন্তু তোমরাই বলো কন্ডাক্টর যদি আমাদের আগাম না ডাকে আমরাই বা কি করব ??? যাক ... চিন্তার কারণেই বাক্যবাণ, যা ভালবাসার আরেক নাম ... সোহাগ করে যে , সে তো শাসন করতেই পারে , তাই না ??? 

এবার ভোরের অপেক্ষা আর মুম্বাই বেড়ু ....  

 ভোর রাতে মুম্বাই পৌঁছলাম আমরা । আগেই লিখেছি , যার ডেরায় আমাদের মুম্বাই এর দিন গুলো কাটাবো বলে স্থির করা , সে হল আমার কর্তা মশাই এর পাড়াতুত বন্ধু , সে আমার থেকে বছর দেড়েকের বড় মোটে । আমাদের কোর্টসিপ পর্বেই আলাপ করিয়ে দিয়েছিল । তখন থেকেই সে আমারও বন্ধু । পাড়াতুত বন্ধুত্ব তো বয়স মেনে হয় না , কাজেই আমার কর্তার থেকে সে বছর তিনেক ছোটই । এখন যদিও দুজনের পাড়া ভিন্ন কিন্তু বন্ধুত্ব অভিন্ন হৃদয়ের । সাগ্নিকের তখন বিয়ে হয়নি , ও কর্মসূত্রে ওখানে থাকত কমলকে নিয়ে । সে একাধারে সাগ্নিকের বাজার সরকার, রাঁধুনি , সবকিছু । ওদের পূর্ব পরিচিত , বিশ্বাসী কলকাতার ছেলে । কাকিমা , মানে সাগ্নিকের মা , তার ছেলেকে একা একা অচেনা শহরে পাঠাতে নারাজ , তাই এই ব্যবস্থাপনা । কমলের যেমন সুন্দর ব্যবহার, তেমন রান্নার হাত । সেদিন সপ্তাহের শুরুয়াত , কাজেই সাগ্নিকের সাথে আগের বলা কথা অনুযায়ী ঠিক হল যে , সারা সপ্তাহে ওর ব্যবস্হাপনায় আমরা সব ঘুরবো , দেখবো দুজনায় । রাতে ওর সাথে দেখা হবে ঘরে ফিরে , সপ্তাহান্তে এক সাথে সবাই খেতে যাব ওর পরিচিত কোন রেস্তোরাঁতে । অতএব মেঘনাদের ভূমিকায় সাগ্নিক অবতীর্ণ হল আর আমাদের বোম্বাই ওরফে মুম্বাই দর্শন শুরু হল সেদিন একটু পর থেকেই। 

মুম্বাইতে আমার ছোটবেলার দুই বান্ধবীর বসবাস , বৈবাহিক সূত্রে । তাদের সাথেও এই সুযোগে যোগাযোগটা ঝালিয়ে নেবার ভাবনা মনে রয়েছে । সেই মতনই প্রথম দিন সাগ্নিকের দেখানো পথে আমরা বেরিয়ে পড়লাম, অফিস যাওয়ার পথে ভাসি (Vashi )স্টেশনে আমাদের নামিয়ে , ও চলে গেল । ওখান থেকে ট্রেনে ভি.টি , ওখান থেকে সমুদ্র তট ,তারপর খানিক সমুদ্র বিহারে এলিফ্যান্টা কেভস্ দর্শন, ফিরতি পথে এক বান্ধবীর সাথে মোলাকাত ... বেড়ু পুরো জমে ক্ষীর । কিন্তু .... পরন্তু বলেও একটা ব্যাপার আছে তো ; সেদিন সবই হল বটে তবে ... "কিন্তু যুক্ত" হয়ে ভরপুর ভাবে। ভাসি থেকেই যে ট্রেন সরাসরা ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস (ভি.টি ) যায় ,তাতে ওঠার  সাগ্নিকের নির্দেশ না বুঝে একটা দূরের স্টেশন থেকে আগত ও ভরন্ত , ভাসি হয়ে যাওয়ার ট্রেনের দেখা পেতেই কিছুই ছানবিন না করে তাতে দুজন উঠে পড়ে , দেখি বসার কোনো জায়গা নেই।  ভালো ভিড় , তবে সে ভিড় সহ্য করার মতন । আমরা দুজন ভিড়ে আর ভিতরে ভিড়লাম না , দরজার কাছেই দাঁড়ালাম। পরবর্তী স্টেশন থেকে পুরো চলমান ভিড় যখন ট্রেনে এন্ট্রি নিল , আমরা ভয়ানক ভড়কে গেলাম। দুজন মুখোমুখি গভীর দুখে দুখী দুপাশে ভিড় চাপে অনিবার !!! দুর্নিবার 😳 দুজন চাপের গুঁতোয় ওমন যুক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়েও ঘেমে আকুল , পরের স্টেশন ছিল বিপরীত দিকে , সেখান থেকেও আরো ভিড় ট্রেনের অন্দরে প্রবিষ্ট হল আর আমার কর্তা কানে কানে বলল( একদমই কানাকানি করার মতন কাছেই ছিল সে ) ... " পরের স্টেশনে নেমে যেতেই হবে , এ ভাবে সকলের সাথে গা ঘষাঘষি করতে পারছি না ।" ভিড় আমাদের এমন পাবলিক প্লেসে ভয়ানক রকম কাছে নিয়ে এসেছে , ওই দিনের পর ওমন মুখোমুখি আর হলাম কই ?? কিন্তু ও ছিল একদমই চাপে পড়ে দম আটকে মুখিয়ে মুখোমুখি , ওতে করে রোমান্টিক হওয়ার উপায়ের থেকে আনরোমান্টিক বেদনা আর ভয় লাগছিল । কানে মন্তর দেওয়ার পর মাথা হেলিয়ে সমর্থন জানালেও (ওই ভিড়েও জনতা মুখরিত কিনা !!),  এবারের নতুন ভাবনা গজিয়ে উঠল , নামব কি করে ?? দুজন নামতে পারবো তো ?? এর মধ্যেই খানিকটা অংশের পথ, ট্রেন সমুদ্রের ওপর দিয়ে যায় নাকি !!! নাকি এ জন্যই বললাম কারণ জনসমুদ্র ছাড়া , দরজার কাছাকাছি দাঁড়িয়েও আর কিছুই চোখে পড়েনি , কর্তা মশাই পরে বলেছিলেন... " দেখোনি ?? সমুদ্র? " আর সমুদ্র !!! তখন বাহুবলীর বাহু আর শার্ট ছাড়া নজরে ধরা দিয়েছে জনতার মাথা !!!! পরের স্টেশন এল , টানাটানি , ধস্তাধস্তির যুদ্ধ শেষে প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে আমরা নামতে সক্ষম হলাম।  অতদিন আগে হলেও পরিষ্কার মনে আছে সেই স্টশনের নাম আর উক্ত ঘটনা .... গোয়াণ্ডি(Govandi) । এবার ???? নেমে দুজন চাপহীন জড়াজড়ি মুক্ত হয়ে কিছুক্ষণের জন্য ন যযৌ ন তস্থৌ হয়ে ভেবলে দাঁড়িয়ে রইলাম। আস্তে আস্তে ধাতস্ত হয়ে প্রথমেই দুজনে বললাম...বাপ রে বাপ  ! আস্তে ধীরে স্টেশনের বাইরে এলাম , একে ওকে জিজ্ঞেস করে সদুত্তর না পেয়ে একটু এগিয়েই একটা বাস ডিপো নজরে এল , আমাকে একটু দাঁড়াতে বলে তিনি এগিয়ে ওখান থেকে সদ্য ছাড়া বাসে উঠে পড়লেন । আমার সামনে এলে আমিও উঠে পড়ব ... কিন্তু একি ?? বাস যে না থেমে গতি বাড়িয়ে এগিয়েই চলেছে , বিপদে মাথা কেমন যেন শূন্য হয়ে যেতেই দেখি হিরো , বাস থেকে গালি বর্ষণ করতে করতে ঝাঁপ... মাটিতে । পাশেই দাঁতের দোকান খুলে কজন অটো চালক মজা দেখছিল । তাদের কাছে যেতেই তাদের দাঁতের বিকশিত চেহারা আপাতত ঢাকা পড়ল , জানা গেল একটা অঞ্চল পর্যন্ত অটো করে যাওয়া যেতে পারে , সেখান থেকে বাহন বদল করে ভি.টি , তারপর আরব সাগরের তীরে .... । এবার  দুজন শক্ত করে দুজনার  হাত চেপে  ধরে , অটোতে চেপে বসলাম। যথাস্থানে নেমে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত এক উত্তরপ্রদেশীয় ট্যাক্সিচালকের ট্যাক্সিতে গদিওমান হয়ে অবশেষে সাগর তীরে এলাম । এতক্ষণ পর সাগরের পারে এসে মন যেন একটু মুক্তি পেলো । একদিকে "গেট ওয়ে অফ ইন্ডিয়া " , অপর দিকে বিখ্যাত হোটেল তাজ । তখনো সেখানে আতঙ্কবাদীর ছায়া পড়েনি । ও বছরের শেষ দিকে সে সব ঘটেছিল । আমরা গিয়েছিলাম বছরের প্রথম দিকে । 

আমরা চারদিকে অনেক পায়রা আর লোকজনের চলা ফেরা দেখতে দেখতে এগোলাম , সামনেই এলিফ্যান্টা যাওয়ার ফেরি চলাচলের  টিকিট কাউন্টার।  কর্তা মশাই এগিয়ে গেলেন টিকিট কাটতে , আমি আস্তে আস্তে সমুদ্রের দিকে হাঁটতে লাগলাম,  আমাদের বঙ্গোপসাগরের মতন জোরালো ঢেউ নয় , তবে ভাল লাগছিল।  হঠাৎই সামনে থেকে আসা দুই অচেনা ব্যাক্তির একজন আচমকা আমার দিকে এগিয়ে এসে হাত ধরে টান মারতেই , চীৎকারটা মাতৃভাষাতেই বেরল ... একি !! হচ্ছেটা কি ? কর্তা মশাই টিকিট  নিয়ে সেদিক পানেই আসছিলেন , আমার গলা শুনে এক ছুটে কাছে আসতেই ,  ছুটকারা মিলল !!! আর সে আপদ রঙীন হওয়ার এক্টো করল আর আমার জীবনের  নায়ক অপরিচিত জায়গায় হিরো গিরি স্থগিত রাখল , কলকাতা হলে .... । পরে সমুদ্র যাত্রা কালে আমার আতঙ্কিত অবস্থার উন্নতিকল্পে মননিবেশ করল সে , বলল ... ওমন গরু খেদানোর শান্তনিকেতনী ঢঙে দুষ্টু লোকের মোকাবিলা হয় না । অ-মাইক গলার প্রয়োগ করা জরুরী। কি বাজে কথা যে বলে না !! আর হেঁসোরাম হয়ে যাই আমি ... অগত্যা ।

এরপর জল যাত্রা শেষে , নামলাম ডাঙায় , সেখান থেকে আবার টিকিট , এবার , টয়ট্রেন ... সব অধ্যায় পেরিয়ে কেভস পৌঁছলাম ১৫০ সিঁড়ি বেয়ে , সিঁড়ির সংখ্যা আগের ( ঔরঙ্গাবাদ ও মহাবালেশ্বর) থেকে অনেক কম হলেও,  সকাল থেকে একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনার ঘনঘটায় কিনা জানি না , এখানে  সিঁড়ি আরোহনে বেশ কাহিল হয়েছিলাম দুজনেই। সব দেখার মাঝে মুম্বাই এর ওই কেভস্ নিবাসী এক বাঁদর একবার আমার কাছে ধেয়ে আসতে আত্মরক্ষার জন্য সাথের পেপসির বোতল ( যদিও প্রায় খালি ) দিতে হল ... চিতা ভী পিতা হ্যায় জানতাম sprite এর বিজ্ঞাপনের কল্যাণে ,সেদিন থেকে জানলাম বান্দর ভী পিতা হ্যাঁয় , but Pepsi । 

ওখানকার সব কিছু দেখার পর , দুপুরের খাবার খেয়ে আবার এক প্রস্থ টয়ট্রেন ও ফেরি যাত্রা করে আমরা মূল ভূখণ্ডে ফিরলাম।  তখন ঘোর দুপুর । মালাড নিবাসী প্রিয় বান্ধবীর সাথে দেখা করার কথা বিকেলে , কাজেই হাতে তখন  অনেকটা সময় , হারা উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে এদিক ওদিক ঘুরলাম , সময় কাটালাম পথে পথেই । এভাবেই নাকি যে কোন নতুন জায়গার গন্ধ নেতে ঽয় । গন্ধ কতটা ভিতরে পৌঁছল , জানা নেই  , তবে ৪টে নাগাদ বন্ধুর কর্তা মশাই কে কল করে , আমরা অটো করে চলে এলাম চার্চ গেট স্টেশনের সামনে । ওখানেই ওরা আসবে আমাদের সাথে দেখা করতে।  তারপর একসাথে আমরা সন্ধ্যা কাটিয়ে ফিরে যাব নিজের নিজের ডেরায় । কিন্তু ওরা বেশ দেরিতে এল , অপেক্ষার শেষ হল । 

এবার চারমূর্তির অভিযান শুরু হল । আমাদের লক্ষ্য ছিল মেরিন ড্রাইভ , সেই মতোই এগিয়ে পড়ে সেখানে হাজির হলাম । সত্যিই খুব ভাল লাগছিল , এক পাশে বান্ধবী , অন্য পাশে প্রিয় বান্ধব ... । বেড়ানোর ব্যাপারটা সব সময়ই এতো ভাল যে জঙ্গলে গেলেও কখনও ভয়ঙ্কর লাগে না , কিন্তু এই শহরে , ঘরে যখন বান্ধবগড়ের আগমন ঘটে , তখন খুবই গোলমাল লাগে । গল্পে গল্পে জানলাম,  ওরা সেদিন বাড়ি ফিরবে না , আমাদের সাথেই নবী মুম্বাই ফিরবে , তবে রাত্রি যাপন করবে ওই খারগারেই আমার বান্ধবীর মেজমাসির বাড়িতে । বাড়ি ফিরবে পরের দিন । টুকটুক মুখ চালানোর মতন ড্রাই খাবার যা ছিল , তার সদ্ব্যবহার করা হল । সন্ধ্যা মিলিয়ে গেল রাতের আঁধারে । মেরিন ড্রাইভ এর আলোয় দৃশ্যমান হল কুইনস নেকলেস । তবে ওপর থেকে দেখার অভিজ্ঞতা কখনও সামনে থেকে হয় না , তা বলিউডের সিনেমার দৌলতে হয়ে গেছে এই যা । তবে সে যাই হোক খুবই ভাল লাগছিল । একটা সময় আমরা এবং ওরা দুই দল হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা দুই বান্ধবী আর ওরা দুই কর্তা মশাই।  পরিচয় আগে একবার হলেও,  এবার ভাল করে হওয়ার সুযোগ ঘটছে । আসলে আমার বান্ধবীর বিয়ে ঠিক হবার পর পরই , (ওর শ্বশুরবাড়ি চূঁচূড়াতে ), আমি আমার জনা তিনেক আত্মীয়ের বাড়ি ঘুরতে গিয়েছিলাম ও দিক পানে ,  তখন যোগাযোগ করে দেখাও করেছিলাম সমুদার সাথে । ফিরতি পথে আবার বন্ধুনীকে মতামত ( আমাদের দুজনার ) জানিয়েছিল ইতিবাচক দিকেই ।

যাক গল্পের শেষ নেই ,  কিন্তু এক সময় উঠতেই হল , ভি.টি থেকে ট্রেনে উঠতে হবে । সকালের বিভীষিকার ছবি মনের ক্যানভাসে ভেসে ভেসে উঠলেও একসময় ওরা দুই জন অভ্যস্থ কায়দায় আমাকে নিয়ে ট্রেনে সিধিয়ে গেল এবং সমুদা আমাদের দুই বন্ধুর বসার বন্দোবস্ত করেও দিল । আমার কর্তা মশাই শুরুতে না পেলেও পরে বসার জায়গা পেলো । সমুদা আগেই পেয়েছিল । গুছিয়ে বসে আমাকে বলল ... " এখানে ভিড়ে নিজেকে ভাসিয়ে দিলে , আপনিই ট্রেনে উঠে যাবে , চেষ্টার দরকারও হবে না ।" শুনলাম,  বুঝলাম কিনা জানি না , কারণ ভিড় তো জল নয় , যে ভাসবো !!! কেমন করে ভাসবো ? আর সব চেয়ে মুশকিল কি জানো ?? জলে আমার বড় ভয় !! সাঁতার জানি না যে ??

যাক এসবের মধ্যেই এক সময় ভিড় ফাঁকা হল , রাত তখন ১১ টার আশপাশে । জানলার হাওয়ার প্রভাবে আমার বান্ধবীর চোখে তখন নিদ্রা দেবী আসব আসব করছেন । এক সময় গন্তব্যও এসে পড়ল ।আমাদের নামার  পর আবার চমক .... এর মধ্যেই কখন আমার কর্তা মশাই তার বন্ধুকে ফোন করে সবার রাতের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলে দিয়েছে । আর কমল তো আছেই হাতা খুন্তি আর উপকরণ নিয়ে ।  একেই বলে ডবল মজা । মজার ওপর মজা । অতএব একসাথে সাগ্নিকের ডেরায় ফিরে আলাপ , বিলাপ ( আমাদের সকালের ঘটনা ) , গালি , তালি সব মিটিয়ে পেট পুরে বাঙালি খাবার খেয়ে , ওরা মাসির বাড়ি চলে গেল , এখানে পৌঁছে রাস্তার থেকেই আমার বান্ধবী তার মাসির বাড়ি চিহ্নিত করেছিল , একদমই পাশে । 

সেদিনের পর্ব মিটিয়ে , অনেক ধরনের অভিজ্ঞতায় ঝোলা ভরিয়ে আমরা ঘুমের দেশে পাড়ি জমালাম । আগের ভোর রাতে পৌঁছানোর পর থেকে অনেক ধরনের হুটোপুটির দরুণ দারুণ ঘুমে ডুব দিলাম । পরের দিনের আরো অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করতে হবে তো !! তাই না ??? 

প্রথম দিনের ঘটনার ঘনঘটা পেরিয়ে আমাদের মুম্বাই বেড়ু পরের দিনে পড়ল । আগের দিনের ঘটনার দরুণ আমরা এ দিন অতি সচেতন হয়ে রওনা দিলাম।  কোথায় ?? আরে !!! বলিনি বুঝি ??? হ্যাঁ , তাই তো ;  আগেই বলেছিলাম যে ওই চত্বরে দুই বান্ধবী বাসা বেঁধেছে বৈবাহিক সূত্র ধরে । এক বন্ধুর সাথে মোলাকাত তো ভালোই হলো , এবার পালা অন্যজনের । সে তখন থাকত , একটু দূরে থানেতে । মুম্বাই পৌঁছে আগের সকালে ওর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা প্রথমে ব্যর্থ হতেই , ঘরের উক্ত দুই বন্ধু যুক্তি করে , যুক্ত হয়ে  আমাকে উত্যক্ত করতে লাগল .... " বন্ধু ফোন ধরছে না , তোমায় চায় না "... ইত্যাদি প্রভৃতি বলে । কি করি ?? এ সব ভেবে আকুল হয়ে বান্ধবীর দেওয়া অন্য একটা নম্বরে ফোন করতেই ঘরের বন্ধুদের মুখে আপাতত তালা পড়ল । কারণ আমার বান্ধবী  ফোন ধরল তো বটেই,  সাথে সাথে তার উচ্ছ্বসিত কন্ঠস্বরে আমার সব আশঙ্কার অবসান হল । কর্তা মশাইকে ডেকে , ফোনেই সে জানালো সাদর আমন্ত্রণ।  তার কন্যা তখন ছোট্ট, নিজের নানা রকম শারীরিক অসুস্থতার জন্য দেখা করতে আসা সম্ভব যে নয় , সে কথা সে আমার কর্তার কাছে পেশ করল। তারপরের গল্প খুবই জলবৎ তরলং । আগেই বলেছি যে এবার আমরা খুব সাবধানী। প্রথমে বাসে করে স্টেশন,  তারপর নির্ধারিত ট্রেনের টিকিট কেটে দুবার ট্রেন বদল করে আর তারপর ট্যাক্সি চেপে বান্ধবীর অ্যাপার্টমেন্টে হাজির হলাম।  সারাদিন চলল , খাই দাই , গল্পের মজলিস , আর পুকচুটাকে অনেক আদর করার পালা। কাকিমা , মানে বান্ধবীর মা তখন ওখানেই ছিলেন , ওনার হাতের অনবদ্য মেথি চিকেন পেট পুরে খেয়ে , রেসিপি শিখে এবার ফেরার পালা । ফিরতি পথে ওর কর্তা মশাই আমাদের স্টেশনে নামিয়ে দিতেই , তার কথা মত আমরা ফিরতি ট্রেনের টিকিট কাটলাম ফার্স্ট ক্লাসের । হ্যাঁ , ওখানে ট্রেনের ক্লাসের ভিন্নতা বজায় আছে । দুই ক্লাসের দামের মধ্যে বিস্তর ফারাক , তা ভিড় মুক্ত রেখেছে প্রথম ক্লাসকে। এই তথ্য জানা থাকলে প্রথম দিনের বিভীষিকার হাত থেকে রেহাই মিলত । তবে সেদিন থানে যাওয়ার সময় স্রোতের ভিন্ন  দিকে যাওয়ার দরুণ , ভিড়ের ভীতি চাপেনি আমাদের ওপর । তাই  দিনটা ভালোভাবেই কাটিয়ে ফিরলাম । 

পরের দিন সাগ্নিকের ঠিক করা ভাড়া গাড়িতেই আমাদের মুম্বাই দর্শনের পালা চলল। একে একে কমলা নেহেরু পার্ক , আরো একখানি পার্ক ( নাম মনে নেই ) সমুদ্রের ভিতর হাজি আলি , চৌপাট্টি বীচ্ , মার্কেট প্লেস পেরিয়ে ঘুরপাক খেলাম । সাথে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির এবং সমুদ্রের ধারে অবস্থিত মহালক্ষ্মী মন্দিরও বাদ গেলো না । সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরের সিকিউরিটি ব্যবস্থার কড়াকড়িতে ক্যামেরা , মোবাইল সবই ড্রাইভার দাদার কাছে গচ্ছিত রেখেই গিয়েছিলাম । 

মুম্বাই ঘুরতে যাচ্ছি ... সে কথা শুনে এখানে অনেকেই বলেছিল  শাহরুখকে দেখতে পাবি .... বলে কি ?? পরে বুঝলাম, দেখলামও। অবাক হবার কিছুই নেই,  সারা দেশেই এনাদের পথে পথে দেখতে পাওয়া যায় পোস্টারের দৌলতে । সে সব আলাদা করে বলার কি আছে বলো দেখি !!! যত্তোসব !!! 

ঔরঙ্গাবাদের আমাদের one day trip এ আলাপ হওয়া এক দিদিভাই সেমি পৈঠানি শাড়ির খবর দিয়েছিলেন , দোকানের নাম সহ , দাদর্ ক্রস করার সময় চোখের সার্চ লাইট জ্বালিয়ে এক গোলপানা চৌরাস্তার মাথায় সেই দোকানের দর্শন মেলার পর , সেখানেও হানা দিয়ে আর একখান অন্য শাড়ি বাগিয়ে ঘরে ফিরলাম  সন্ধ্যার দিকে , সেদিন মধ্যাহ্ন ভোজন পথেই  হয়েছিল । দর্শনীয় স্থান কিছু কিছু দেখা না হলেও,  সব মিলিয়ে এই বেড়ুতে এতোটাই মজা হয়েছিল , যা যা দেখা হয়নি , তার জন্য কোন খারাপ লাগা মনে দানা বাঁধেনি । 

ঘোরার শেষ দিকে এক অভিনব ট্রিপের ব্যবস্থা করে দিল সাগ্নিক । সেই ট্রিপ আরো জমে উঠল আমাদের প্রথম দিনের চারমূর্তির একত্রিত হবার পর। এর মধ্যেই একদিন রাতে ঠিক করা হল কাছেই গোয়াগামী পথে আলিবাগ পেরিয়ে , মুরুদ জঞ্জিরা ফোর্ট  ও আলিবাগের মাঝামাঝি সমুদ্রের ধারে পড়বে তুলনামূলক ফাঁকা কাশিদ বীচ্ । সমুদ্রের হাতছানি সহ একটা দিন যাপনের মনোরম ঠিকানা । সকালে রওনা দিয়ে দিন শেষে ফেরা । ওখানে এক বেলার / একদিনের থাকা খাবার উপযুক্ত ব্যবস্থাও মজুত।  

ফোনাফোনি করেই বার্তা এদিক ওদিক ছুটল , সেই মত যাওয়ার আগের রাতে বান্ধবীরা চলে এল সাগ্নিকের ডেরায় । একসাথে খাওয়া , গল্পের পর আবার আমরা ওরা দুই দল দুই ঘরে অনেক অনেক আড্ডার পাট মিটিয়ে ঘুম দিলাম, সকালে চটজলদি তৈরি হয়ে চারজন রওনা দিলাম সাগ্নিকের ঠিক করা গাড়িতে ।সেদিনও সাগ্নিকের অফিস । তবে সেদিন যেহেতু ছিল আমার জন্ম নেওয়ার তারিখ , সেই মত কথা হল ফিরে আমাদের সকলকে নিয়ে সাগ্নিক বেরবে । একেবারে ঠাসা কার্যাবলী ।

গান চলল , গাড়ি চলল , কিছু পরেই শহরের কংক্রিটের জঙ্গলের অদল বদল চোখে পড়তে শুরু করল , প্রকৃতি তার দরজা খুলতে শুরু করল । হাইওয়ের ধারে এক জায়গায় ডান হাতের কাজ ভালোই  হল । ড্রাইভার দাদা কলার উঁচিয়ে ঘোষণা করলেন  , এ পথের থেকেও গোয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেক গুণ এগিয়ে । সত্যিই তাই , নানাজনের বর্ণনা আর ছবি দেখে তেমনই ধারনা হয়েছে ।  কবে যে যেতে পারব আর ধারনার বাস্তবায়িত রূপ  দেখব ... কে জানে ?? আমাদের এই করোনাজনিত লক অ্যান্ড কি এর চক্করে সব বেড়ানোর দোর গোড়ায় সংশয় আর ভয়ের তালা পড়েছে । তাও আমরা নিজের মতন সাবধানতার কবজ এঁটে যাচ্ছি বটে , কিন্তু সেই আগের সতস্ফূর্ততা যে কবে ফিরবে ?? 

আগের কথায় ফিরি ... এক সময় আমাদের সাথি হল  আরবীয় সমুদ্র । নিজেদের মধ্যে গল্পের থেকেও প্রকৃতি দর্শন হচ্ছিল বেশি । সাথে  গাড়িতে চলছিল মন পসন্দ গানা । এক সময় পথ ফুরালো , আমরা আমাদের সেদিনকার দিনযাপনের ঠিক করা ঠিকানায় পৌঁছলাম। বাগান ঘেরা ছোট্ট দোতলার একতলায় অবস্থিত হোমস্টে । দুটোই ঘর , ঘর সংলগ্ন বাথরুম আর একখান বড় হল ঘর । আপাত দৃষ্টিতে বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।  খুঁটিয়ে দেখার সময় আর তখন কার হাতে ?? সমুদ্র যে ডাক দিয়েছে কোন সকালে !!! সাথের ছোট ব্যাগ পত্তর ও মোবাইল ঘরে রেখে ( আমার অতি সাবধানী কর্তা মশাই মোবাইল সাথেই রাখলেন প্লাস্টিকের মোড়কে ) আমরা এবার চললাম। কোথায় বলো তো ?? ঠিক ধরেছ সাগর দার ডাকে সাড়া দিয়ে আমার গানে জীবন আনতে চললাম। সাগরের ডাক উপেক্ষা করে , তোমার ডাকে সাড়া দিতে বয়ৈ গেছে কি বলা যায় কখনো ?? 

এমন জনমানবহীন রোমান্টিক বীচ্ আমি বাপু আর দেখলাম না এখনও। দিনটা সপ্তাহের শেষ দিকে হলেও শেষ দিন ছিল না । কারণ যাই হোক , বীচে পৌঁছেই নজরে এল ওখানে শুধুই আমরা ৪ মূর্তি। আর সমুদা উদাত্ত ঢেউ এর দিকে একদম দামাল ভঙ্গিতে ছুট তারপরই এপাং ওপাং ঝপাং 🙃🙂 কিন্তু একি !!! সমুদা পাচন খাওয়া মুখ নিয়ে ঝপাং থেকে উঠে আসছে কেনো ?? সমুদ্দুরে কি কোনও ওত পাতা বিপদ বসে ? মুম্বাই পৌঁছে ইস্তক সময় গতিক বড়ই বেগতিক দিকে ঝুঁকে আছে । 

আমরা কাছে যেতেই রহস্য উন্মোচিত হল ... আসলে সমুদা যখন ঝপাং হল , উত্তেজনার বসে টাকার ব্যাগ সহ ডাইভ দিয়েছিল !! টাকার ভিগি ভিগি চেহারা একদমই দর্শনধারী নয় , আর তার গুণ তো বিচার করা যাবেই না যতক্ষণ না শুখা নোটের দেখা মিলছে । কিন্তু সমুদাকে আমরা একটু ক্ষণের মধ্যেই সাগরদার জিম্মা করে দিলাম তার অর্ধাঙ্গিনীর সাথে ,টাকার শোক তখন ঢেউ এর ঝোঁকে উধাও । ওদের বিয়ের পর ওটাই প্রথম outing ছিল , কাজেই ওরা ভেসে গেল প্রেমের জোয়ারে , ভাসাবো দোহারে style এ , আমরা কর্তা গিন্নি একটু পুরাতন বিবাহিত ( তখন বছর ৪) তাই বিজ্ঞের মতন একে অপরের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে হাসলাম।  আমাদের মুশকিল হলো ... আমি পা ডোবার বেশি জলে যাই না , আমি কুমির ডাঙা খেলতে সেই ছোট্ট থেকেই ভালবাসি ঠিকই  তবে কুমির হিসেবে নয় , তাই ডাঙা ডিঙোতে ভয় পাই বটে !!! এদিকে তিনি জলের ধারে গেলে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না , জলের মাঝে বেচারা (?) আমাকে পায় না । কিছুক্ষণ বাদে আমার বান্ধবী মর্তে মানে সাগরপারে আমাদের দিকে নজর ফিরিয়ে , কিঞ্চিত লাজুক লাজুক মুখে ফেরত এলেন , ওদিকের দাদার ডাকাডাকি উপেক্ষা করে । আমরা ওকে আশ্বস্ত করলেও তিনি সেন্টু মিশিয়ে যা বললেন,  তাতে  আমার সেন্টুও সেন্টপার্সেন্ট অন হয়ে গেল .... " ওর সাথে আরো বেড়াবো , তোকে কি আর এ ভাবে পাবো ?? " 

ব্যাস্ , ক্লোজআপ নেওয়ার কেউ নেই কো সেথা , তবে আমার কর্তার মুখ ক্লোজ করা এসব ক্ষেত্রে অসম্ভব !!! যাক্ , মোটের ওপর এরপরের অঙ্কে ( mathematics নয় 🙏🏻) আমার কর্তা সমুদ্দুরে নোনতা জল খেতে ঝপাং হল আর কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা গেল ওরা আর আমরা আলাদা টিম , যতই টিমটিম করুক । কিছু সময় পর আমার যা হয় আর কি , রোমান্টিক পরিবেশে গান পায় , আমার বান্ধবী আবার নাচের দিকের কেরামতি , কাজেই সাগর তীরে পুরো সাংস্কৃতিক মধ্যাহ্ন যাপন শুরু হল ....  হঠাৎই নাচা গানার মাঝে বিভোর  দুই কুশীলব দেখি ওই টিমের দুই শ্রোতা এবং দর্শকও স্রোত ঠেলে হাজির , পলিপ্যাক থেকে গামছা , তোয়ালের বন্ধন মুক্ত  হয়ে ক্যামেরাও বেরিয়ে পড়েছে !!! দূরে দেখা যাচ্ছে মুরুদ জনজিরা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ ....সবটাই ভারি  অপূর্ব । নাচ গান শেষে চারজন এগিয়ে পড়লাম... না রে ভাই , ফোর্ট অনেক দূরে ওদিক পানে পাড় ধরে হাঁটা শুরু করিনি , ওখানে এক দুদিন থাকলে হাল্কা চেষ্টা করা যেতো  হয়তো বা , যেমন , একবার নিউ দীঘা থেকে সমুদ্রের পাড় ধরে আর হাতে হাত ধরে  পাড়ি দিয়ে সামান্য দূরে পুরাতন দীঘায় হাজিরা দিয়েছিলাম .... এবার না হয় আর একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করতে হতো !! কারণ এ ধরণের পুরাতন ফোর্ট দেখলেই কেমন দুব্বল হয়ে পড়ি আমি আর আমার মনে পড়ে যায় চিত্রহারে দেখা এক পুরাতন হিন্দী ছায়াছবির দৃশ্যায়ন,  সাথে আমাদের কিশোর কুমারের বিখ্যাত গানের কলি .. " রাত কাল ই (?)  এক্ খোয়াবো মে আই অউর গলে কা হার হুই ... 🎼 " 

তো যা বলছিলাম দীঘা , পুরীর সমুদ্রে হুটোপুটির পর আপামর বাঙালি যা খোঁজে,  আমরা সে পথই ধরলাম । এবং বলতে নেই খানিক এগিয়ে একটা ঝুপড়ি গোছের দোকানে ডাবের দর্শনও মিলল , ঝুপড়ির পাশে আবার দুই  গাছে বাঁধা হ্যামকের দেখা মিলল । ফেলো কড়ি .... ধরো দড়ি ... মানে হ্যামকে দোল খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে বটে । আমার এসব ইচ্ছে একদমই নেগেটিভ দিকে , কারণ পড়ে গেলে , একেই কোমরে চোট , যদি আবার পাকায় ঘোট ... তখন ? কিন্তু , বান্ধবীর ইচ্ছা মতন , সে একখান দোলায় দুলে বা ঝুলে যখন পাশে হাঁটু মুড়ে বসা সমুদার ছবি আমাদের ফটোগ্রাফার তুলেই ফেলল , আমার কর্তার ইচ্ছাপূরণ করতে আমাকেও এক পথে হাঁটতেই হল , কর্তা মশাই এর হাত খাঁমচে ধরে , অনেক কসরত করে ঝুলে পড়লাম । বাপ্ রে !! সে এক খান ছবি বটে , মুখে ভয়ার্ত হাসি প্রকাশিত । যাক এসব মিটিয়ে হোম স্টের দিকে ফিরতে গিয়ে আর এক কাণ্ড !! বেলা যত গড়িয়েছে রোদ তত ভাজা ভাজা করেছে পথ ঘাট , এদিকে যাওয়ার সময় একজন বাদে কেউই চটি পরে যাইনি । ফেরার পথে এবার কুমির ডাঙার বদলে কিতকিত খেলা কাজে লাগালাম দুই বান্ধবী। তা দেখে একজন ছুটে এসে জুতো খুলে দিল , আমরাও ওমন হিংসুটে নই , ভাগ যোগ করে দুজন এক এক পাটি চপ্পল পায়ে গলিয়ে , এক পা বাঁচিয়ে,  দে ছুট্ । বাকি দুজনও আমাদের কোমল চরণে রোদ্দুর সয় না এ সব টিপ্পনী কাটতে কাটতে জোরে জোরে পা চালিয়ে ফিরল , কারণ চুপিচুপি বলি ওনাদের পদ যুগলেও তাপ এবার চাপ দিতে শুরু করেছিল ।

ফিরে এসে জলদি জলদি স্নানের পাঠ মিটিয়ে কব্জি ডুবিয়ে খেলাম , ওখানকার বাগানে চেয়ার টেবিল পেতে । গরম ভাত ,স্যালাড,  ডাল আর হাল্কা দেশী মুরগীর ঝোল । আহা !! খিদের মুখে যেন অমৃত।  এসব মিটতে মিটতে বিকেল হয়ে গেল , আর কিছু পরেই  আমরা ফেরার পথ ধরলাম । 

যথা সময় আমরা ফিরলাম,  ফিরে একটু পরেই গাড়িতে আমাদের নিয়ে সাগ্নিক কথা রাখতে চলল । নিয়ে গেল চেম্বুরে ওর পরিচিত এক তারকা খচিত রেস্টুরেন্টে । সেখানে খ্যাঁটন মিটিয়ে ফিরলাম বেশ রাত করেই । ফেরার পথে তখন সবারই মন ভার , কারণ আমাদের বেড়ুর সে দিনই  শেষ রজনী । পরের দিনের ফিরতি ট্রেন জ্ঞানেশ্বরী । 

এরপরের অধ্যায় একদমই সংক্ষিপ্ত , পরের দিন এক প্রস্থ বান্ধবীর সাথে তার মাসির বাড়ি ঘুরে , বিকেলে বান্ধবীর সারপ্রাইজ গিফ্ট সহ সারপ্রাইজ আগমনের পালা মিটিয়ে , সময় মতন সাগ্নিকের বাহনে চেপে ফেরার পথ ধরলাম । অনেক গুলো দিন বাইরে কাটিয়ে মন তখন নিজের নিকেতন পানেই ফিরতে চাইছিল । অতএব মন চলো নিজ নিকেতনে গাইতে গাইতে ট্রেনে উঠে পড়লাম ...  আবার পরের ঘোরার স্বপ্ন নিয়েই  ফিরে এলাম । 

Comments

Popular posts from this blog

আক্কেল সেলামি

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৮