বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০
মন্দারমণি ও দীঘা ঘোরার ফাঁকে ফাঁকে ই পরবর্তী বেড়ুর ভাবনা কে গড়ে পিঠে নেওয়ার কাজে লেগে পড়লাম। অনিন্দ্য আর দেবাশ্রিতা কে ভাবনা transfer করে প্রাথমিক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ফেললাম। পথ তখন অনেক বাকি । মা বলতেন , লাখ কথা না হলে নাকি বিয়ে হয় না , আমার তো একই কথা মনে হয় বেড়াতে যাওয়ার স্থান, কাল ও পাত্র নির্বাচনের প্রাক্কালেও।
সাগর পাড় থেকে ফিরে বারংবার মিটিং, সিটিং ... ইটিং করতে করতে আমরা দলে ভারি করার আরো জনা কতক জোগাড় করে ফেললাম। জায়গা ঠিক হল ... আমার এক স্বপ্নের গন্তব্য উটি। তার লেজুড় হয়ে সাথে মানানসই আরো কিছু স্থান যুক্ত করা হল। আমাদের কোর্টশীপ পর্বে , তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ... ভাববাচ্যে ... কোথায় যাওয়ার ইচ্ছে ? তখন আমার ভূগোলের জ্ঞানের বেশিরভাগ সীমাবদ্ধ ভূগোল বই আর বন্ধুদের থেকে শোনা বর্ণনা য়। সেই মতন ভাবনা আর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে ঝুটি ধরে উটি কে বের করে পেশ করেছিলাম। তেনার কলেজের দল ওদিকে গিয়েছিল ... তাই আমার অপেক্ষা করতেই হল ... বিয়ের ২১শে পা দেওয়া র খান কতক মাস আগে অবশেষে গুটি গুটি উটি র দেখা মিলল। ব্যাপার টা সত্যিই গুটি গুটি ... কেন তা ক্রমশঃ প্রকাশ্য।
আমার কলিগ , আমাদের সকলের প্রিয় অন্বেষা আমাদের ঘুরু ঘুরু টিমে যুক্ত হল এই বার আর এল শান্তশ্রী দি তার পরিবার সহ। আমরা হলাম সেই কাশ্মীরের মতন টীম এগারো। যদিও কমন মেম্বার আমরা আর দেবাশ্রিতা রা । শান্তশ্রী দি বারকতক আমাদের সাথে বেরিয়ে পড়তে চাইলেও খাপে খাপে মেলানো যায়নি। এইবার গল্প যখন গৌড়চন্দ্রিকাতে পৌঁছে গেছে ... দিদি র ফোন ... এরপরের গল্প এই ... যে , আমরা হলাম একত্রিত .... শান্তশ্রী দি দের আকাশ পথের টিকিট যদিও অন্যজন মারফত কাটা হল , কিন্তু যাত্রা কালে দেখি হাম সাথ সাথ হ্যায় ... কিন্তু পরন্তু তো থাকতেই হবে ... প্রতিবার ই ঘুরতে যাওয়া সূচনার কাছাকাছি কিছু না কিছু গোল পাকিয়ে ওঠে , এবার ভয়াবহ গোল পাকলো , যখন আমরা আরেক মিটিং বনাম ইটিং এ অনিন্দ্য র সাথে বসে অনলাইনে হোটেল বুকিং এর দুয়ারে জড়ো হয়েছি । হোটেল বুকিং চলা কালীন শারীরিক সমস্যার খুচরো ( আসলে বড়সড়ো ) প্রকাশ ... বিশালাকৃতি প্রাপ্ত হল ... আমরা আতঙ্কিত হয়ে জানলাম , কতকটা চাক্ষুষ করলাম হার্ট এ্যাটাক।
এনজিওগ্রাম , এনজিওপ্লাস্টি পেরিয়ে , সাবধানতার বলয়ে বসবাস করে চিকিৎসকের থেকে সবুজ সংকেত নিয়ে আমরা শারদীয়া যাপনে ব্যতিব্যস্ত শহরকে পিছনে রেখে সপ্তমীর ভোরে আকাশপথে যাত্রা করার কথা ঠিক হল।
গোড়াতে যদিও কথা ছিল আমরা আকাশ পথে ব্যাঙ্গালুরু হয়ে বাসে চেপে মহীশূর আসব। ব্যাঙ্গালুরু তে সবাই নিজের নিজের আত্মীয়, বন্ধু কূলের সাথে কোলাকুলি করে বাকি ঘোরা ঘুরে , ঘরে ফিরব। আমার দিদি র ছোট ছেলে , ওদিকে কলেজতুতো বন্ধু, আরেক বন্ধুর দিদি ... মেলাই চেনা মুখ ... কিন্তুক সে সবে এরা ঢ্যারা দিয়ে সিধে মহীশূর মুখী হলো ... এই কর্তন পর্বে আমি কলেজে বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবসের যোগা কীর্তণে সামিল হতে গিয়েছিনু ... ফিরে দেখি খাতা , নানা রঙের কলম সব আছে কিন্তু ব্যাঙ্গালুরু কে শুরু তেই বেবাক ঘচাং ফুঁ করে দিয়েছে। দিয়ে আবার বলছে কিনা ... দুঃখ পেয়ো না , কেমন !!!!
দিন গেল গড়িয়ে পুপের পরীক্ষা, আমাদের নানান রকম রঙ বেরঙের প্রস্তুতি পর্ব পেরিয়ে শহর হল বানভাসী। সে সব পেরিয়ে বাপের বাড়ি এলো ঘরের মেয়ে উমা , তার সন্তান সহ । আমরা খান কতক বিস্তারিত পূজোর পরিক্রমা সেরে নিয়ে সষ্ঠী পেরিয়ে যাই যাই সময়ে সব গুছু করে আকাশ পথে উড়ব বলে দুগ্গা দুগ্গা করে বেরিয়ে পড়লাম। সবাই জমা হয়ে খান কতক ছবি তুলে আর খানা তল্লাশি র হুজ্জুতি সামলে বিমান মুখী হলাম।
আরেক ইতিহাস প্রসিদ্ধ শহর হায়দ্রাবাদে আমাদের বিরাম স্থান নির্ধারিত করা ছিল ... আকাশপথে চলাচলের বিড়ম্বনা স্বরূপ । উড়ে উড়ে হায়দ্রাবাদে অবতরণের পর সেখানেই আমরা, ঘর থেকে আনা ঘরোয়া খ্যাটোনে রত হলাম। স্বাস্থ্যকর , ঘরে প্রস্তুত ... ফ্রায়েড রাইস, ওপেন স্যাণ্ডউইচ ( ব্রেড টপিং টোস্ট ) , আলুর দম , চিলি চিকেন তো ছিলোই , আর ছিল দোকানের তৈরি মাফিন আর স্যণ্ডউইচ । আরো সাত সতেরো খাবার সকলের ব্যাগ থেকে উঁকি টুকি করলেও তাদের ব্যাগ বন্দী করে শুরু হল আমাদের পরবর্তী আকাশে ওড়ার অপেক্ষা ।
অপেক্ষার প্রহর ফুরালো , আমরাও প্লেন সহ আকাশের মেঘ মুলুকে র পথ পেরিয়ে মাইথোলজি কথিত মহিষাসুরের দেশের দিকে এখনকার পুষ্পক রথ অর্থাৎ উড়োজাহাজে আসীন হয়ে এগিয়ে চললাম । আকাশে ওড়ার শুরু তে আমার বেশ কেমন একটা অনুভুতি হয় দেখছি , এবার সে অনুভূতি কলকাতা থেকে আসার পথে কমতির দিকে থাকলেও , দ্বিতীয় রাউন্ডে বেশ বাড়ল । খালি খালি লাগার সাথে পো ধরে কান ভোঁ ভোঁ আর হৃদয় জুড়ে ধড়ফড়ানি চলতে শুরু করল !!! মেঘের ওপরে উঠে সিধে হলে আমার তখন ক্ষিদে বোধ ফেরত আসে । অর্থাৎ আমি তখন আপন ছন্দে ফিরি ... এবারে ছন্দে ফিরতে ভারি ধন্দে ছিলাম ... চারদিকে ভয়ানক মেঘ , আকাশ দেখাই দিচ্ছিল না , আর বিগত দিনের নানান খবর শুনে , দেখে যারপরনাই চিন্তার মেঘের মধ্যে চোখ বুঁজে আরো অনেকে র মতন নিদ্রা গেলাম। এ থিয়োরি আমার বেশ কাজে লাগে অনেকক্ষেত্রে। মা বলতেন, দুঃশ্চিন্তায় ঘুম আবার হয় নাকি ?? ও তবে ভয় চিন্তা, যা নাকি original চিন্তা ই নয় !!!
সময় মতন ছোট্ট ছিমছাম মাইশোর বিমান বন্দরে নেমে পড়লাম , ঝকঝকে রোদ আর অফুরান হাওয়া র মধ্যে দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর, পরিষ্কার, সাজানো গোছানো , সবুজ গাছে ঘেরা বিমান বন্দর থেকে লটবহর নিতে সময় তেমন লাগল ও না । বেরিয়ে পড়লাম।যে দুই খান গাড়ি আমাদের নিয়ে হোটেল সহ নানান গন্তব্যে পৌঁছে দেবে আগামী দিন তিনেক ... তারা হাজির হল ... এঁদের সাথে কলকাতায় বসে আলাপ, বিলাপ ও ব্যবসায়িক কথা সব এগিয়ে রেখেছিল আমাদের নীরব কর্মকর্তা অনিন্দ্য ।
পরিচ্ছন্ন ও প্রসস্ত পথ পেরিয়ে , google map এর সহায়তায় গোল গোল ঘুরপাক খেয়ে হা ক্লান্ত আমরা হাজির হলাম বেসরকারি হোটেল লে রুচি তে । অত্যন্ত যে রুচিশীল তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। ওদের আরেকটা উইং ভেজ লে রুচি তে গোড়াতে ভুল করে ঢুকে ভয়ানক ভেঙে পড়েছিলাম ... পরে হাপ ছাড়লাম । তবে ... দাক্ষিণাত্যের খাদ্য ধাক্কা মারবে না , তাই কি রে হয় ভাই !!! ( এই ভাই আর কেউ নয় রে পাগলা , যুগোপযোগী ভাই 😛😆)
@শুচিস্মিতাভদ্র
Comments
Post a Comment