বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৩
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৩
পরের দিন ভোর রাতে ঘুম ভাঙ্গলো দেবাশ্রিতার ফোনে । দক্ষিণ ভারতীয় খাবারে পৈটিক অঞ্চলে বেশ গোলমাল হয়েছে তার , সাথে তার কন্যার শরীরেও নানান গোলোযোগ। এদিকের চিকিৎসক তুরন্ত কিছু ওষুধ ব্যাগ থেকে ঝাড়াই বাছাই করে দিয়ে এল ... আমরা আরেক রাউন্ড নিদ্রায় নিজেদের সঁপে দিলাম। ঘুম ভাঙ্গার পর শান্তশ্রীদি ও রামুদার সাথে কথা বলে একটু সময় হাতে রাখলাম ঘুরতে বেরনোর আগে। শরীরকে আমি সব সময় আগে রাখি , আগলে রাখি। কারণ শরীর ঠিক, তো সব ঠিক । সেদিন নবমী । আমরা ঘুরবো মাইশোর ও তার আশপাশের কিছু ইতিহাসের ঘাঁটি সহ আরো কিছু দর্শনীয় স্থান।
নানান ধরনের ওষুধ খেয়ে , আনুসঙ্গিক সব কিছু সেরে নিয়ে আমরা ফের খাবার ঘরে হাজির হলাম, একদিনের অভিজ্ঞতার আলোয় খাবার বেছেবুছে নিয়ে বসে গেলাম। এর মধ্যে একখান খাবার এর উপকরণ ময়দা নাকি চাল তার চ্যালেঞ্জ আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল মাস্টার সেফের দরবারে ... আমি ছিলাম যথারীতি চালের দলে আর আরেকজন ময়দা নিয়ে ময়দানে নেমেছিল। ভেতো বাঙালী বলে কথা !!! কোনটা চাল আর কোনটা ময়দা চিনুম না ???? তাই কি হয় নাকি ???? সেফ বাবাজি এত রাজনীতি জানবেন কি করে উপকরণ আর পদ্ধতি ব্যক্ত করে খুশি র জোয়ারে ভাসতে ভাসতে তিনি রান্নাঘর মুখী হলেন। আসলে রান্না র উপকরণ জানা আসল উদ্দেশ্য হলেও তার রান্নার সুখ্যাতও করা হল তো !!! তবে ?? যার সাথে চ্যালেঞ্জ সে ও বাঙালি ই বটে ... তবে ভেতো বাঙাল নয়কো। রুটি প্রিয়া বলা যেতেই পারে তাকে ... কিন্তু সে যে ওমন ময়দার তৈরি খাবারকে চালে তৈরি বলে তার চুল চেরা ভুল বিশ্লেষণ করবে কে ভেবেছে ? তবে সব ধন্দ কাটতেই , সে ভেঙচি কেটে আমার কর্তাকে নালিশ স্টাইলে ছোট্ট কালের মতন বললে ... দাদা , দেখলেন ??? আপনার বৌ সেফকে ধরে সেফ খেললো ???? আমি আর খেলব না কিন্তু একদম !!!
ওমন বললেই কি আর তা মনের কথা ?? মোটেও না । আমরা আরো খেললামও আবার ঘুরলামও .... খেয়ে নিয়ে শুরু হল আমাদের City tour .... প্রথমেই আমরা গেলাম শ্রীরঙ্গপত্তনা মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে । গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই দেখি সামনের দিকে এক মন্দির আর আমাদের নাকের ডগায় সাজুগুজু করা ঝকঝকে তকতকে ঘোড়া দণ্ডায়মান। মন্দির আমাদের লিস্টিতে ছিল না ... তাই আমরা একটু দো মনা করছিলাম , ঘোড়া ও তার সহিষ ঘাড়ে এসে পড়তে দরদাম করে আমাদের মধ্যে জনা চারেক ( দুজন দুজন করে ) ঘোড়ায় চড়ে ছবিতে ধরা দিয়ে এগিয়ে পড়ল ... আমাদের দেবাশ্রিতা খান কতক বার চেষ্টা করে শেষমেষ ইতি দিল ... পাদানি বড় উঁচু তে ... আমার ইচ্ছে করলেও সাহস পেলাম না , সাহস দিতেই অন্বেষা উঠে পড়ে চমক লাগিয়ে দিল আমাকে ... অদ্ভুত আনন্দ হল ... যাক একটু একটু করে পাঁপড়ি মেলে ফুটে উঠুক ... ভাইজাগে একখান চেয়ারে উঠে , সেখান থেকে টেবিলে চেপে তারপর ঘোড়া চড়েছি .... Same size এর বড়সড়ো ঘোড়া বটে এখানেও । এ ব্যাটা যে চেয়ার টেবিল কিচ্ছুটি রাখে নাই । কর্তা মশাই একবার কুফরীতে খচ্চর টাইপ ঘোড়াতে চড়তেই সে বেটি ... পটি করে দিয়েছিল !! আমি আরেক ঘোড়া ব্যাটার পিঠে বসে তখন হেসে ই খুন ... তাতে তার যে গায়ে বেশ লেগেছিল ... তখন বুঝিনি ... এখন দেখছি , বুঝছি । এরপর ধনৌলটিতে এমন ধারার বড়সড়ো ঘোড়াতে আমি আর পুপে উঠলেও, তিনি ওঠেননি। এবারেও উঠলেন না !!! কাজিরাঙাতে হাতির পিঠে অনেকেই উঠে ছিলাম , সেখানেও হাতি ব্যাটা একই কর্ম করেছিল !!! রামো !!!! যাক তিন ঘোড়া পাশের মাঠে সাওয়ারী নিয়ে এক পাক মেরে চলে এলো আমাদের কাছে। একে একে ছোট্ট হিল্লোল সহ অনিন্দ্য , দুই সখী ও অন্বেষা ঘোড়া চড়া শেষ করে নেমে পড়তে ই আমরা মন্দিরের দিকে হাঁটা দিলাম। এই মন্দিরে রয়েছেন ভগবান বিষ্ণু। এগিয়ে জুতো জমা করে V I P টিকিটের টিকি ধরে এগিয়ে পৃথক দিক দিয়ে চারদিক ঘেরা এক চাতালে এসে বুঝলাম ১১ জন jointly বোকা হয়েছি ... পরে হাজার কথা বলে গায়ের ঝাল মেটালেও অন্য সকল দর্শনার্থী না বোঝা অভিব্যক্তি নিয়ে তাকিয়ে রইল কারণ ওখানে ভাষা আর খাবার এক বড় ধরনের অন্তরায় !!! আর গেটের কাছে দাঁড়িয়ে যে আমাদের ভিন্ন খাতে বইয়ে দিয়েছিল ... সে যে আমাদের বলা ভাষা ভালোই বুঝেছে তার প্রমাণ মিলল তার শুরুতে রণং দেহী মূর্তি আর পরে পৃষ্ঠ প্রদর্শন দেখে । দেবাশ্রিতা , আমাদের মধ্যে খুব ভক্তি মতি , কিন্তু কিন্তু করলেও দক্ষিণ ভারতীয় দেবতা র অ-দর্শন জনিত দুঃখ ভুলে সামনে এগিয়ে গেল ... যদিও ইনি আমাদের পরিচিত দেব বিষ্ণু .... হালে এ দিকেও ইনি প্রভাব বিস্তার করছেন ... যিনি কৃষ্ণ তিনি ই কালী মাতা আবার তিনিই বিষ্ণু .... নমঃ বিষ্ণু নমঃ বিষ্ণু নমঃ বিষ্ণু 🙏🙏🙏🙏
এবারে আগের দিনের সেই সখির শরীরে নানান গোল পাকিয়ে উঠতে শুরু করল ... আমরা এগিয়ে যাওয়ার পথের ধারে মন্দির গামী এক রথকে দেখলাম ... রথে উপবিষ্ট দেবতা ছিলেন কিনা ভাল করে বোঝার আগেই রথের ওপরে সামনে আসীন সম্ভবতঃ এক পুরোহিত মশাইকে দেখলাম ... দেখতে দেখতেই রথ মন্দিরের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেল , আমরা সকলে দুই গাড়িতে চড়ে এগিয়ে চললাম পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ... পথে দুই জায়গায় গাড়ি থামিয়ে চালক দাদা বললেন কিছু ... জনা দুই নেমে ছবি তুলে এসে জানিয়ে গেলো যে ... টিপু সুলতানের সাথে যেখানে ইংরেজদের যুদ্ধ হয় আর যেখানে টিপু সুলতান মৃত্যু বরণ করেন ... এ সেই স্থান । পরের গন্তব্য ছিল এক মসজিদ ... যেখানে টিপু সুলতান যেতেন নামাজ পড়তে ... পেরিয়ে গেলাম ... নামলাম টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন আবাস ( Summer Palace ) এর সামনে । এখানে এক নেট গ্যাঁড়াকলে জীবন জেরবার হয়ে একশেষ !!! টিকিট কাটার সম্পূর্ণ পদ্ধতি নেটে সেঁটে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমাদের দলের নেট বিশারদ অন্বেষা, অনিন্দ্য আর রামু দা অনেক কাঠখড় থুড়ি ডেটা খরচ করে ভিতরে প্রবেশের শিলমোহর ছেঁকে তুলল নেট ঘেঁটে। আমরা বাকি রা সময় বৃথা বয়ে যেতে দিইনি মোটেও। পাশের এক ডাল পালা ও মেলে ধরা গুঁড়ি যুক্ত গাছের গুঁড়ি র ওপরে ,সামনে ও পাশে নিজেদের রকমারি ভাবে ক্যামেরা বাগিয়ে বন্দী করলাম ও হলাম। নেট গ্যাঁড়াকল কেটে গেলে এক গাইডের গাইডলাইন ধরে জানতে জানতে সামার প্যালেস মুখী হলাম। এখানেও ইতিহাস দেখে শুনে চমকিত হতে হতে , ছবি তুলে বাইরে এলাম। জানলাম টিপু সুলতানের আসল প্রাসাদ আর নেই, তা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। আছে শুধু তার ইতিহাস, ছবি । বাস্তবে দাঁড়িয়ে আছে একমাত্র টিপু সুলতানের এই গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ ও তার সমাধি সৌধ। প্রাসাদের ঠিক সামনে অবস্থিত কামানের সামনে পিঠ চিতিয়ে আর কামানের পিছনে দাঁড়িয়ে ও তাকে জড়িয়ে অনেক রকম ছবি তোলা হল। স্মৃতি তে ধরে রাখার নানান ছবি তুলতে তুলতে আমরা বাইরে বেরিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কসে গলা ভিজিয়ে এগিয়ে চললাম গাড়ির দিকে ... আরো খানিকটা গেলেই দেখা মিলবে টিপু সুলতানের সমাধি সৌধের। রোদের তেজের সাথে তখন খিদে যোগ দিয়েছে ... এখানে সেই সখি র শরীরের কথা ভেবে তার বাবা গাড়ি থেকে নামলেন না , বাকিরা সৌধের গেটের সামনে শশা ও আরো কিছু রসালো, নুন লঙ্কা মাখানো ফল খেয়ে পেটকে খানিক খিদের কথা থামাতে বলে সৌধ দেখতে ঢুকে পড়লাম ... ফাঁকা , পরিষ্কার বাগান ঘেরা সৌধ দেখে যারপরনাই আনন্দিত হলাম। এদিকের এক গিন্নি কর্তার বিহনে ভিডিও কলে সমিধি স্থল কর্তা মশাইকে দেখিয়ে তবে আরাম পেলেন । তারপর অনেক কায়দা বাজির স্মরনীয় ছবি তুলে বেলা চারটের কাছাকাছি খাবারের দোকানে জড়ো হলাম। সেদিন নবমীও বটে , খাবার পরিবেশনের সাথেই তারা মিষ্টি র বাক্স দিয়ে গেল হাসিমুখে। আমরাও খিদের মুখে সোনা মুখ করে নিরামিষ খাবার খেয়ে পেট পূজো সেরে বেরিয়ে পড়লাম ।
ওখানকার সরকারি ছাপ মারা দোকানের নাম কাবেরি এম্পোরিয়াম ... যেখানে চন্দনের সব কিছু, মাইশোর সিল্ক , হাতির দাঁতের কাজ করা ঘর সাজানোর সামগ্রী ও আরো অনেক কিছুই পাওয়া যায় নির্ধারিত দামে । আমার কর্তা মশাই আগের বারও নাকি গিয়েছিলেন .... কিন্তু গুগল ম্যাপ দেখালো আমাদের পরবর্তী গন্তব্য বৃন্দাবন গার্ডেন আর কাবেরি এম্পোরিয়াম দুজন দুদিকে অবস্থিত ... ওদিকের শাড়ি কলকাতায় মিললেও বৃন্দাবন গার্ডেন কে কলকাতায় পাব কেমন করে ??? তাহলে .... ঘচাং ফুঁ । আমি মনের দুঃখ মনে চেপে চুপ থাকলাম, আগে মা আর এখন তিনি এই দুই স্থানে আমি খাপ খুলতে অভ্যস্ত। বাদবাকি জায়গায় আমি ভারি শান্ত ও লক্ষ্মী টাইপের। এখানে অদ্ভুত ভাবে আমার তিনি , খানিক তার আমাকে শাড়ি কিনে দেওয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করলেন । ভাবা যায় !!!! কিনে দেয় প্রতি বার তবে খেলিয়ে খেলিয়ে ... এর হলোটা কি ?? ভাবতে ভাবতেই শান্তশ্রীদি শান্ত ভাবে উপায় বাতলে দিল ... " চল না , পথে কোন না কোন সরকারি শাড়ির দোকান দেখে নেবো , ঠিক মতন মনে হলে কিনবি না হলে না " সত্যিই তো আমাদের বঙ্গে কি শুধু ই তন্তুজ ই সরকারি শাড়ির দোকান ????
মনটা ঝট করে ভাল হতে শুরু করতে না করতেই আমরা থামলাম ও নেমে পড়লাম এক ঝকঝকে তকতকে দোকানের সামনে ... ভিতরে প্রবেশের পর শাড়ি সহ সব দেখলাম ঘুরে ফিরে। এরপর আমার পছন্দের প্রিন্টেড মাইশোর সিল্ক কেনা হল ... বাছাবাছি করে নিলাম। দেবাশ্রিতা আর আমি কিছু পরেই ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম মন তখন বেশ চনমনে।
নবরাত্রি উপলক্ষে জনতার ঢল তখন বৃন্দাবন গার্ডেন মুখী। সন্ধ্যায় সেখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো আছে। এদিকে পথঘাট নবরাত্রি র মহিমায় , বাঁধনে বাঁধা। আমরা চললাম সেই ৭০/৮০ এর দশকের হিন্দী ছায়াছবির গানের দৃশ্যে দেখানো গার্ডেন গুলির মধ্যের অন্যতম বৃন্দাবন গার্ডেনে। এক জায়গায় গাড়ি আমাদের নামিয়ে বলে দিল যে , সরকারি বাসের ফ্রি সার্ভিস গ্রহণ করে আমরা বৃন্দাবন গার্ডেনে পৌঁছে , ঘুরে , সব দেখে আবার সরকারি বাসে আসীন হয়ে ফিরে অপেক্ষারত গাড়ি চড়ে আবার হোটেলে ফিরে আসব। অগত্যা ..... এক প্রশস্ত ও অল্প উচ্চ স্থানে অবস্থিত চত্বরে আমরা গাড়ি থেকে নেমেই দেখলাম সার বেঁধে দাঁড়ানো সরকারি বাস । সরকারি বাসের ধরন ধারন , চলন বলন সবেতেই আমাদের রাজ্যের পরিচিত স্বাদ গন্ধ বর্তমান। উঠে পড়তে আর ভর্তি বাস ছাড়তে শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। ঝাকাতে ঝাকাতে নাচাতে নাচাতে মসৃণ পথ পেরিয়ে বাস হল বৃন্দাবন গার্ডেন গামী। দূর থেকেই এক ব্রিজ পেরিয়ে কয়েক শত গাড়ি পরিবেষ্টিত গার্ডেনের কিয়দংশ দৃশ্যমান হল ... অগুণিত মানুষ দেখে তখন আমরা সকলেই যারপরনাই শঙ্কিত। বাস এক মোড়ে এসে বাঁক নিলো বাস ডিপোর অন্দরে। বেশ অনেকখানি পথ পেরিয়ে যখন বাস স্থির হলো , তখন অন্তরে দাগা নিয়ে আমরা বুঝলাম ... সামনে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তবে মোড় তারপর বৃন্দাবন ( গার্ডেন ) । বাস আমাদের অনেক হাটিয়ে তবেই বৃন্দাবন দেখাবে ... তার আগে নয়কো। বাস ডিপো থেকে মোড় ওবধি পৌঁছে দেখি দিন ঢলে নিজ্জস রাত এসে পড়েছে , যতোই বলিউডি গানে রফি সাহেব বলুন না কেন ... " দিন ঢল্ যায়ে ফির্ রাত না আয়ে " । বৃন্দাবন গার্ডেনের বলিউডী নায়ক নায়িকার হাতছানি তখনো আমাদের গার্ডেন গামী করে রেখেছিল ... মোড় পেরিয়ে খানিক দলবদ্ধ ভাবে বৃন্দাবনে ( গার্ডেন ) পদার্পণ করলাম। বাপ রে !!! কি ভিড় ..... আলোয় মোড়া বাগানে কোথায় বলিউডের চেনা ছবি ??? সব ভিড়ে হারিয়ে একাকার । লাইট ছিল জনতা র হরেক ভাষার কলতান অর্থাৎ সাউন্ড ছিল ... কিন্তু একত্রিত করা লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের চিত্রনাট্যের অলিন্দে জনতা কে ঠেলে এগিয়ে পৌঁছাতে পারলাম না। ভিড়ে র চাপে হাঁসফাঁস করে ফাঁকা তে বেরিয়ে সকলে দম নিলাম ... যৌথ ভাবনা আমাদের নিয়ে চলল সোজা বাস ডিপোর দিকে ... মাঝে পথ আটকে ছিল দেবাশ্রিতা আর তার সর্ব রাজ্যে ফুচকা খাওয়ার জেদ ... সকালে ওষুধের প্রয়োগ ,রাতে তাতে ফুচকা চাপা দেওয়া নিয়ে একটু বাধা দিলেও, পরে পরেই ... আর no তর্ক মোডে ঘুরে গেলাম। কারণ তর্কের তোড়ে যদি আমার সব রাজ্যে গিয়ে শাড়ি কেনা তে হাত পড়ে ??? তখন ???? ওদিকের শাড়ি তো আমাদের রাজ্য থুড়ি আমাদের শহরেও মিলবে কিন্তুক ওদিকের ফুচকা বাবাজি তো ওদিক থেকে এদিকে এক্সপোর্ট হবে না , তবে ? এখানে ফুচকা পেলেও সে তো কলকাত্তাইয়া ই বটে !!! কর্ণাটকীয় হবে না মোটেই। তবে আমরা তামিলনাড়ু তে গেলাম, মনেও করালাম .... কিন্তু 🤔🤫
যাক , এদিকে দুই সখি র এক সখি র শরীর গতিক দুপুর থেকেই ছেড়ে দে মা শুয়ে বাঁচি হয়ে ভয়ানক বিগড়ে ছিল ... তাকে সহানুভূতি জানাতে গেলেও কচি ধাড়ি সকলকেই সে ক্যাচোর ম্যাচোর করে ভাগিয়ে দিচ্ছিল ... তাতে অন্য সখির গোঁসা হলেও ভিড়ের বহরে সে সব ঘর পাততে পারল না ... এই যা ভাল দিক । কিন্তু মোড়ে এসে দেখলাম ... আসার সময়কার ভিড় নেহাৎ ই শিশু ছিল । এই সব আপদকালে আমার কর্তা মশাই এর পরিষ্কার মাথা আরো পরিষ্কার হয়ে যায় ( টাকের কথা কইছি না , যদিও টাক হ্যায় !!!)...ঝট করে দুখান অটো রিক্সা ঠিক করে ভাগ যোগ করে একটাতে আমাদের কয়জনকে ঠেলে তুলে , বাকিদের নিয়ে অন্যটা তে চেপে বসল .... কারণ ডিপো থেকে যে বাস বেরিয়ে ফিরতি পথ ধরছিল, তাতে তিলধারণের জায়গা দেখা যাচ্ছিল না ।
অটো এসে আমাদের নামাল সেই অল্প উচ্চ চত্বরে। নেমে দেখি সেখানেও মেলাই লোক বাস ধরে বৃন্দাবন গার্ডেন মুখী যাওয়ার জন্য মরিয়া ... আবাক বিস্ময়ে দেখলাম কয়েকজন দরজার ভিড়ে একটুও না ভড়কে জানালা বেয়ে বাসে ঢুকে কারোর না কারোর কোল জুড়ে ল্যাণ্ড করছে ... 🙄🤭
চোখ কপালে উঠে গেলেও একসময় তাকে টেনেটুনে নামিয়ে খুঁজে পেতে দুই গাড়িতে ভাগাভাগি করে উঠে পড়লাম। আলোকিত পথ পেরিয়ে, ঠাণ্ডা আমেজ মেখে দিনের শেষে হা ক্লান্ত আমরা হোটেলে যখন ফিরলাম, তখন শরীর জোড়া ক্লান্তির সাথে সাথে মন ভরে উঠেছে পূর্ণতায় ... । সেদিন ফ্রেস হয়ে আমরা গেলাম হোটেলের পুল সাইড রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে । এক সখি পুল সাইডে খাবারে পেট ভরিয়ে, মাসিমণির সাথে ফোনের দেশে ঘুরে ঘুম দিতে গেল , তো অন্য সখি ঘরে সবার থেকে হাইড করে জল মুড়ি খেয়ে ঘুম দিল আরেক মুড়ি ( লেপ মুড়ি)কে সাথে করে। পরের দিন আমরা মাইশোর কে বিদায় জানিয়ে যাব তামিলনাড়ু র আরেক বলিউডের পরিচালকদের প্রিয় পাহাড়ি শহর উটিতে। যা অতি অবশ্যই আমার স্বপ্নের গন্তব্য ।
Comments
Post a Comment