Posts

Showing posts from June, 2025

আক্কেল সেলামি

 " দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম ...." এই সব প্রবচন শুনতে শুনতে জীবনের পথ কে না চলেছে ? কিন্তু সব প্রবচন মরমে পশে তখন‌ ই যখন যাতনা অঙ্গ জুড়ে হাজিরা দেয়। মা বলতেন , তোর কবে আক্কেল হবে ? হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি এসে সব আক্কেল প্রকাশিত হল। প্রথম দেখা দিয়েছিল নতুন সম্পর্কে আবদ্ধ হ‌ওয়া র বছর চারেক কি পাঁচেক পরে। কন্যার আগমন তখন‌ ও ঢের দূরে।  বিয়ের পর কার না আক্কেল হয়েছে ? ওই বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠান আক্কেল দানকারী হিসেবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত। আমার‌ ও হল। Maxillofacial surgeon যখন আক্কেল মুক্ত করলেন , চাপ তেমন বোধ করি নি। শিশু মঙ্গলের আউটডোরে দন্ত বিশারদ চিকিৎসকের সামনে চক্ষু মুদে হাঁ করলাম ‌...  মুখখানা শুধু অবশ হল , আক্কেল গেল । বাকি আক্কেল তখন গুপ্ত স্থানে আসীন। আমিও সখার হাত ধরে আইসক্রিম খেয়ে ও সাথে বার আইসক্রিম নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। No চাপ at all !!!  বছর গড়িয়ে চললো , আবার নানান দাঁতে দন্তশূল । চিকিৎসা চলা কালীন বছর ৩/৪ আগে আক্কেল গুড়ুম। আক্কেল যে একের অধিক তাই তো ছাই জানতাম না। নিশ্চিন্ত ছিলাম যে সে তো তুলে ফেলে দিয়েছি !!! পর পর ধাক্কা। জানলাম হাতে থুড়ি মুখে আরও তিন উঁ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৬

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৬ কোলাঘাটের হোটেল বলো এখনকার কায়দার রিসর্ট বলো ; সে এক এলাহি কায়দাবাজির খাসমহল। কায়দা আগে থাকলেও খানিক খানিক ঘরোয়া ভাব‌ও ছিল বা ; সে সবের পরোয়া না করে পুরো দস্তুর পর পর ভাবের বাতাবরণ হয়েছে দেখলাম। পৌঁছে গেলাম সেথায়। রিসেপশনে ফ্যাশন সো হচ্ছে নাকি দ্বিধা দ্বন্দে মন দোদুল্যমান হল। কিছু পরিধেয় দেখে ব্যোমকে চমকে ট্যারা হয়ে গেলাম। দেখলাম,বুঝলাম ও জানলাম যে এখনকার হিসেব মতন আধুনিক হওয়া আমার আর হলো না। তবে আমার থেকেও ওজনদার মহিলা ধরাধাম আলো করছে দেখে আগের ভাবনায় যতটা মুষড়ে পড়েছিলাম সেটা কেটে গেল। তবে ওজনদার মহিলা গণের সাহসী পোশাক পরার ব্যাপারটা বেশ চলমান হয়েছে তার জ্ঞান প্রাপ্ত হলাম।  মধ্যে মধ্যে সময় বয়ে গেল । আমরা ঘরের দখল পেলাম। পাশাপাশি। আমার তখন আরেক রাউন্ড ক্ষিদে চাগিয়ে উঠেছে। সাথের বাকিদের সঙ্গ গুণ নয় তো কম খেয়ে রওনা হওয়ার দরুণ তখন পেটে আগুন জ্বলছে। ঘরে দেড় দিনের সংসার সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু তাৎক্ষণিক খাবারের অর্ডার দিয়ে আমরা বাহিরে পুলে র দিকে যেতে মনস্থ করলাম। যদিও আমি স্থলে স্বচ্ছন্দ সব চেয়ে বেশি। কিন্তু পড়েছি যে যবনের হাতে ; রক্ষে...

মুম্বাই জমজমাট

  মুম্বাই জমজমাট   আমাদের বিয়ের বছর চারেক পর আমরা মুম্বাই গিয়েছিলাম। যাওয়ার মাস চারেক আগে থেকেই চাপানউতোর চলছিল জায়গার বাছাই নিয়ে । মুম্বাই যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মত ছিল অজন্তা , ইলোরা হয়ে মুম্বাই গমন । ওদিকের মতামত ছিল ভিন্ন ... খাজুরাহো হলে কথা ছিল অন্য, বৌদ্ধ, জৈন আর হিন্দুদের গুহা স্থাপত্য দেখার কোন মানে নাকি নেই !!! কিন্তু মুম্বাই ঘুরে গোয়া যাওয়ার মানে আমি বিনা চশমাতেও পষ্টাপষ্টি বুঝেছিলাম । মন ভার , মুখ ভার ... মন খারাপের দিস্তা নিয়ে স্মৃতি হাতড়ে স্কুলের বান্ধবীর অজন্তার বর্ণনা চিন্তা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলাম .... অতঃপর ভাগ্য সুপ্রশন্ন হল বলতে হবে ... কর্তা মশাই রাজি হলেন অবশেষে । আহা !! মোটেও গিন্নির মুখ চেয়ে ... এমন ভাবার কারণ নেইকো । ওই চাপানউতোর কালে বলা ভালো হেনকালে মুক্তি পেল সন্দীপ রায়ের পরিচালিত " কৈলাশে কেলেঙ্কারি " । আমরা দেবাদেবী দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহে দেখতে গেলাম ... দেখলাম...মন জয় করলো কিনা সিনেমার ইলোরার গুহা মন্দির !! ভাবা যায় ?? সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে , বাড়ি ফেরার পথেই বলতে শুনলাম... " এবার অজন্তা ইলোরাটা ঘুরে আসি...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৫

 বেড়ানোর কথা ভাবতে মানা নেই কোনো। অর্থাৎ কিনা মানস ভ্রমণ। এ বছরের গোড়ার দিকে কর্তামশাই অন্যের অপারেশন করার বদলে নিজের অপারেশন করালেন। শরীরে খান কতক গুড়ি গুড়ি পাথর যুক্ত হয়ে , বিস্তর সমস্যার সৃষ্টি করছিল। অতএব দাও তাদের বের করে !!! সে সব মিটতে , দুজনায় ঠিক করলাম , এ বছর এখন আর ঘুরতে যাওয়ার প্রশ্ন না তোলাই ভাল । অপারেশনের পরে বেড়ানোর রেশনে তখন টান। খানিক সামলে সুমলে একটু দূরের দিকে যাওয়ার কথা ঠিক হল পরের দিকে। যদিও তার রাফ ওয়ার্ক এখন বিশ বাও জলে । হেনকালে তেনার ছোটকালের পাড়াতুত বন্ধু বেড়ানোর পোকা কে টোকা দিয়ে জাগিয়ে দিল .... কিন্তুক মনস্থির করার পরেই সে বেড়ানোর গাছে তোলার মই সরিয়ে অফিসের টুরের গপ্পো শুনিয়ে হাওয়া হলেন !!!! এদিকের জন তো গাছে বসেই গর্জন করে ব্যক্ত করলেন যে , হাম জায়েঙ্গে জরুর। রেগে গেলে ইংরেজি অথবা হিন্দি বলার দস্তুর থাকলেও তিনি নির্যস বাংলাতে বলে দিলেন যে যাবোই যাবো। কেউ যাক না যাক !!!  দুঃখের কথা বলি কারে ??? কন্যা তার সর্বক্ষণের সঙ্গীদের সাথে বেড়াতে কিঞ্চিত বোর ফিল করে কিনা কখনও খোলসা করে না বললেও "তিন জনে যাব শুধু !!!" বললে একখান দুখী রামের...
 আজ একটা অন্য গল্প বলি .... সবাই নয় না-ই শুনলো থুড়ি পড়লো , কেউ কেউ তো পড়বেই। তো যা বলছিলাম .... আমার ছোটবেলার প্রথম পুষ্যির কথা। আমার বন্ধুরা সকলেই নামে তো বটেই , কেউ কেউ আবার রীতিমত তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে ও চেনো। হ্যাঁ , একদম ঠিক ধরেছ আমি কুট্টুসের কথা-ই বলছি। ওর আগে কিছু পোষার শখ থাকলেও , মায়ের অনুমতি মেলেনি। তাহলে কুট্টুস -ই বা এলো কেমনে ?? সেটা ই হলো ওই কুট্টুস নামের মতোই ছোট্ট একটা গল্পের হাত ধরে। কুট্টুস ছিল একটা কাঠবেড়ালি। ওই যে ছোটদের ছড়ার বই এ দেখেছিলাম , পড়েছিলাম কাজী নজরুল এর জবানীতে.... " কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি পেয়ারা তুমি খাও ??? " সেই পরিচিত একরত্তি ছোট্ট প্রাণী। সরস্বতী দির ছেলে একদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঝড়ে পড়ে যাওয়া ছোট্ট বাচ্চা কাঠবিড়ালি কে পেয়েছিল , আমাদের পিছনের পাড়া আমবাগানের রাস্তায়। বাড়ি ফিরে সে তার মাকে দিয়েছিল .... তারপর হাত বদল হয়ে মায়ের জিম্মায়। খাওয়া শেখেনি। আমাদের খাবার টেবিলে একটা খবর কাগজে ওকে রাখলাম.... দক্ষিণের জানলার হাওয়ায় কাগজ সহ সে উড়ে যায় আর কি !!! এতোই ক্ষীণজীবি তখন। তুলোয় ভিজিয়ে দুধ খাইয়ে তিনি ক্রমে শক্...
 খাদ্য বিভ্রাট পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে , কেউ জানি না । রয়েছে ভয় , আতঙ্ক আর ক্ষীণ আশা আগের মতন জীবনে ফেরার। আশা ছাড়া থাকতে পারি না আমরা। আর অধিকাংশ বাঙালি যা পারে না তাই হলো খাওয়া দাওয়ায় বাঁধন দিতে । সেই কবে থেকেই বাঙালি কবি ঈশ্বরী পাটনী কে দিয়ে মা অন্নপূর্ণার কাছে বর আদায় করে নিয়েছিলেন ... আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।  অধিকাংশ বাঙালি ভ্রমণ বিলাসী যেমন সত্য , তেমনই সত্যি অধিকাংশ বাঙালির খাদ্য প্রীতি। তো এ হেন পরিস্থিতি তে তারা যে সব ফেলে খাদ্য না পাওয়া নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হবে , এ আর এমন কি ??  আর সেই আতঙ্কে আতঙ্কিত বাঙালি মুক্ত কচ্ছ হয়ে বাজারে সিধিয়েছে নির্ধারিত সময়ে । থলে, ব্যাগ , বস্তা যা হাতের কাছে মিলছে সব ই চলেগা। হাতে থলে , মুখে মুখবন্ধ আর চোখে আতঙ্ক নিয়ে বাঙালি বাজারে, দোকানে সর্বত্র মানে যা তার নাগালের মধ্যে।  এই পরিস্থিতি যে হতে পারে এমনটা সপ্তাহ দুয়েক আগে শুনেছি , গুরুত্ব দিই নি। তো কি ? আমি তো বাজার সরকার ন‌ই , তাই একটু একটু বেশি উপাদান মজুদ হতে শুরু করলো। একদিন রাগ করে বলেই ফেললাম যে , আগে অনেক বড়ো ফ্রিজ এর অর্ডার দেওয়া হোক । কিন্তু ...
 গোলমেলে কোভিড  আলাপ পরিচয়  নয় নয় করে , আর ভয় ভয় করে কাটিয়ে ফেললাম অনেকগুলো দিন , মাস । কিন্তু আর কতদিন ??? এই প্রশ্ন সবার , কিন্তু উত্তর জানা নেই কারোর। বেশ কিছু নতুন নতুন শব্দের সাথে আলাপ পরিচয় জমে উঠেছে এই কয় মাসে । স্যানিটাইজ , কোয়ারেন্টাইন , হোম আইসোলেসন , অ্যসিম্টমেটিক , লকডাউন , আনলক ওয়ান/ টু/থ্রি /ফোর , ওয়ার্ক ফ্রম হোম , অনলাইন ক্লাস, ওয়েবিনার , নিও নর্মাল ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে নিজেকে, পোশাক পরিচ্ছদকে , বাইরের ব্যবহার্য সামগ্রী কে , কাঁচা বাজারকে, প্যাকেটজাত দ্রব্য কে .... অর্থাৎ সব কিছুকেই আপাদমস্তক পরিস্কার করার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে কাঁচা সব্জিকে শুধুমাত্র জল দিয়েই ভালো ভাবে পরিস্কার করা স্বাস্থ্যসম্মত। সাবান জলে খাবার সামগ্রী কখনোই পরিস্কার করা উচিত নয়। এর ফলাফল মারাত্মক । এখন কিছু না হলেও ভবিষ্যতে কি হবে বলা মুশকিল। সাবান বা ডিটারজেন্ট কোনো ভাবেই শরীরের ভিতরে যাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। সব কিছু এখন অনেকটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শুরুর দিকের , কি যে করি ভাবটা খানিকটা হলেও বদলে গেছে। আমরা যে অভ্যাসের দাস , তা যেন আরো একবার নতুন ধারায় , নতুন ভাবে প্রমাণি...
   আজ বেশ অনেকদিন হয়ে গেল , লকডাউন চলছে । আমরা অনেক কিছুই শিখলাম , জানলাম , স্বনির্ভর হলাম। যে কোন বিষয়ের দুরকম দিক থাকে-ই , এখানে-ও কোনো ব্যতিক্রম নেই। নেতিবাচক দিক সত্যিই ভয়ঙ্কর ও তার ব্যপ্তি বিশ্বজনীন। ইতিবাচক দিক-ও আছে । আমরা তা বুঝতে পারছি, কিন্তু মন জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে আতঙ্ক, তাই ইতিবাচক দিকের প্রভাব বিস্তার সুদূরপ্রসারী হচ্ছে না। আপেক্ষিক ভাবে আমরা বেশ অসুবিধায় থাকলেও , এখন অনেকটাই ধাতস্ত হয়েছি। কষ্ট কি হচ্ছে না ? নিশ্চয়ই হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। অগত্যা। অনেকেই এখন নিরূপায় হয়ে সহকারিনী ডেকে নিয়েছেন।আমরা এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক, আর ক'দিন টানতে পারি !!!  তবে এই সুযোগে নতুন করে প্রকৃতি কে চিনলাম, জানলাম। দেখলাম যে , সে প্রতিদিন প্রাণে আসে নব নব রূপে। মন , প্রাণ ভরিয়ে দেয়। জীব জগতের উচ্ছাস দেখলাম মানুষ বাদে অন্যদের মধ্যে। কলকাকলিতে মুখরিত সকাল। তাদের ঘরে ফেরার গান আবার শুনি গোধূলি বেলায়। মাঝের সময়ে-ও তারা চারদিকে তাদের উপস্থিতি জানান দেয় নানাভাবে।ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাওয়া টিয়া, বক আরো নাম না জানা কতো শতো পাখি।  নতুন ভাবে যোগাযোগ হলো পুরোনো...
 গরমের সব্জি বাহার আমাদের দেশে ছয় ঋতুর ভাগ যোগ যাই থাকুক না কেন , মোটামুটি তিন ধরনের আবহাওয়ার আবেদনই প্রবল । আর তা নিয়েই চলে আমাদের নানা নিবেদন । তো সেই তিন মূর্তি হলেন গলদ ঘর্ম গরমকাল , ঝমঝমে-ছিটেফোঁটা বর্ষাকাল আর সোনা রোদ আর লেপের ওম মাখানো শীতকাল।        শীতকালীন সব্জির রকম বাহারের পর গরমকালের সব্জি নিতান্তই ঝিম ধরা ধরনের। শীতকালীন সব্জির কথায় চোখের সামনে সারি সারি রঙীন সব্জির ছবি ভেসে ওঠে , সেখানে গরমের সব্জি একদমই সংখ্যালঘু দলের । কিছু কিছু আইটেম কমন পড়লেও , শীতকালের উপস্থাপনা আর গরমের উপস্থাপনার বৈপরীত্য চোখে পড়ার মতন । গরমকালের সব্জির নামও বিশেষ সুবিধের নয় । ঝিঙে , পটল , ঢ্যাড়স গরমের বাজারের হিট আইটেম, কিন্তু হট্ ফেভারিট কি ?? আসলে নামই হট হ‌ওয়ার পথে প্রধান অন্তরায় !!!! পটল ব্যাপারটার নামে না যাওয়াই ভালো , কেমন একটা পটল তুলেছি এমন ফিলিং হয়। তবে হাল্কা ঝোল , তেল গরগরে রান্নায় পটলের নাম ডাক মোটের ওপর ভালই।    বিয়ের পর আমার নতুন ঠিকানায় আসার পর , বাবা বললেন যে পটল দিয়ে ডালনা ছাড়া কি বা এমন হয় ?? হয় কিন্তু !!!! আর সে সব খেলে প...
                                 রোজনামচা                               শুচিস্মিতা ভদ্র  " একটু বেরিয়ে পড়লে কি খুব সমস্যা হবে ?" .... রিক্তার আকুলতা প্রলয়ের দৃষ্টি এড়ায় না । কিন্তু এই লকডাউনে বেরিয়ে পড়া উচিত না অনুচিত সেই নিয়ে মনের দ্বৈরথে প্রলয় নিজেও যথেষ্ট বিব্রত। বিগত কয়েক মাস ঘরের চার দেওয়ালে কাজের বোঝা , একঘেয়েমি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।  অতিমারির অভিজ্ঞতা কারোর নেই । প্রলয়ের বাবা, মা ও দুই দাদা থাকে হাওড়ার কদমতলায়। সেখানেও যাওয়ার উপায় নেই। কতদিন আদরের দুই ভাইঝি তিথি আর মিঠিকে দেখেনি !! ওয়ার্ক ফ্রম হোমের গেরোয় জীবন জেরবার। সে একটা বেসরকারি ফার্মে কর্মরত। বাড়িতে বেশ আনন্দে, নিশ্চিন্তে আছিস .... এমনটা যারা বলছে , তাদের হাতের কাছে পেলে , প্রলয় যে কি করতো !!!  রিক্তা গৃহবধূ , কিন্তু সে একমাত্র সন্তান। এই পরিস্থিতিতে বাপের বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই। বাপি ও মামনি সব সামলে নিলেও মেয়ে কে বিয়ের পর এতোদিন না দেখে থা...
 নানা রকমের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ আছে । তার মধ্যে শারীরিক কিছুর ব্যাপার এবার শীতে হাড়ে হাড়ে টের পেলাম...এখনো পাচ্ছি । নানাবিধ ব্যাথায় যারপরনাই কেলান্ত হয়ে পড়েছি বটে । সে.....ই পূজোর পর পর কানের কনকনানি পর্ব শেষ হতে না হতেই ঠাণ্ডা কাল সাথে নিয়ে এলো হাড়ে হাড়ে ব্যথার আলিঙ্গন। কি আপদ !! কি বিপদ !! বেতো রুগীর মতন সর্বাঙ্গে ব্যাথা ... মনে পড়ল ঠাকুমার ঝুলির সেই সব রাজকন্যেদের কথা , দুষ্টু রাণীদের কথা , যাদের কিনা হাড় মুড়মুড়ি ব্যারাম ছিল । তবে সেখানে তা সারাই করতে প্রাণপাত করত রাজকুমার অথবা স্বয়ং রাজা মশাই । এখন সে রামও নেই, সে রাজ্যও নেই । ইনি একদমই প্রবচনের রাম,নিদেন পক্ষে রামায়ন খ্যাত শ্রী রাম চন্দ্র, কিন্তু কদাপি রাজনৈতিক নয়কো🤫। তো যা বলছিলাম, মনের ব্যথা, মাথার ব্যথা, পেটের ব্যথার ও কানের ব্যথার পর নতুন সংযোজন হাড়ের ব্যথা । মাথার ব্যথার এক ধরনের কারণে সেই ছোটকালে চশমা ধারণ করতে হয়েছিল । আরো অনেক কারণ সমুদ্রে সে তার অংশের কাজ করে চলেছে , সেই থেকে । আমার কর্তার মতে মাথা থেকে ব্যথার গতি যখন নিম্নগামী তখন তা শিগগিরই দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে ...নামতে নামতে । এ সব কথায...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ( যুক্ত ) শুচিস্মিতা ভদ্র  বেড়ানোর ইতিবৃত্ত  বেড়ানোর একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে ... কতশত অচেনা মানুষ ক্ষণিকের জন্য চেনা হয়ে যায় ... হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটা গান আছে এই বিষয়ক ... "এই যে পথের এই দেখা , হয়তো পথেই শেষ হবে ..... তবুও হৃদয় মোর ভাবে সঞ্চয় কিছু যেন রবে .... ক্ষণিকের এই জানা শোনা ... স্মরণে করে যে আনাগোনা ..... " 🎶🎶🎶🎶.... এমনটা জীবনের পথ চলতে গিয়েও হয় আর তারই সংক্ষিপ্তকরণ হয় বেড়াতে গিয়ে। এই স্বল্প পরিচিত মানুষের কাছ থেকে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যে আমরা সমৃদ্ধ হ‌ই।  অপরিচিতকে পরিচিত করতে আমার কন্যার জুড়ি মেলা ভার। একবার জামসেদপুর বেড়িয়ে ফিরতি ট্রেনে উঠে, সিটে বসেই পুপের প্রথম প্রশ্ন ... "আচ্ছা মা , ওরা কারা ( আমাদের সামনের যাত্রীদের নির্দেশ করে ) ? চিনতে পারছি না তো !!!!".... বোঝো কাণ্ড !!! দুনিয়া শুদ্ধু সবাইকে যে চেনা যায় না , তা সে মানতে নারাজ। একে জীবন জুড়ে চেনা মানুষই হঠাৎ হঠাৎ করে অচেনা হয়ে যায় কারণে, অকারণে ,সামান্য কারণে !!! তো এভাবেই যাত্রা পথে আলাপচারিতায় মনোনিবেশ করে আমার কন্যা। দিনকালের হাল...
 অবসাদ .... কথাটা আজকাল খুব শুনতে পাই। আমরা আজকাল মাঝে মাঝে ই বলি , খুব ডিপ্রেস্ড লাগছে । কেন ? আমরা কি খুব একা হয়ে যাচ্ছি ? মন খুলে কথা বলার লোক নেই? নাকি আজকের অনেক কাজের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছি কূল হারা সাগরে ? কিন্তু কাজের ধরণ বদল হলেও কখনো ভেবেছি কি , আগেকার মানুষের কাজ কম ছিল না, আর তাদের কায়িক পরিশ্রমের কথা নাই বা বললাম। তাহলে কি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করবো না ? ফিরে যাবো পুরাতন দিনে ? মোটেই না, এগিয়ে যাওয়া , নতুন কে , ভালো-কে গ্রহণ করার মধ্যেই তো সামগ্রিক উন্নতি ।  কিন্তু তার পরেও ভাবতে হবে .... কবি গুরু বলেছেন... " তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে, আমায় কভু, ক্ষণিক তরে , আজি হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে,আমি সাঙ্গ করবো পরে...." কি সুন্দর ভাবনা । এই তুমি হতে পারে যে কোনো প্রিয় জন। মা, বাবা, সন্তান, বন্ধু , দিদি, দাদা , স্বামী , স্ত্রী অথবা অন্য কেউ। নিজের মনের আনন্দ, কষ্ট যে শুষে নেবে এক লহমায়। আমার ও মায়ের অনেকটা এমন রসায়ন ছিল। আমি চলে যাওয়ার পর মা আস্তে আস্তে অবসাদগ্রস্ত হয়েছিলেন , বিশেষ করে আমাদের পোষ্য সারমেয় চলে যাওয়ার পর যা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। যদিও ম...
 "হাতে কালি , মুখে কালি  বাবা আমার লিখে এলি ?" ... ছোট্ট বেলায় স্কুল ফেরৎ অনেক পড়ুয়াদের এমন দশা নিয়েই কোন আদ্যিকালে যে এই ছড়া কাটা হয়েছিল, কে জানে ? মায়ের মুখে শুনতাম। যদিও ওমন ধারা আমার ক্ষেত্রে হলেও, তুলনায় কম হোতো । একটু ঠাণ্ডা স্বভাবের জন্য কালি ঝুলি মেখে কালিন্দী হয়ে বকুনি খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। আমার বকুনি ছিল দীর্ঘমেয়াদী খাওয়া বিষয়ক । যাক সে কথা । তো কথা হচ্ছিল কালি নিয়ে । আমাদের অক্ষর পরিচয় হলো , হাতে এলো পেনসিল । লেখো , ইরেসার দিয়ে মুছে ফেলো , ভোঁতা হলে শার্পনার দিয়ে কেটে ফেল । ছোট হয়ে গেলে মায়ের ভাঁড়ার থেকে আরো নতুন পেনসিল চেয়ে নিলেই হোলো । কি সুন্দর সহজ সরল ছোট্ট জগত । নিজের সেই সব অমূল্য সম্পদ রাখার জন্য রঙ্গীন একখান্ পেনসিল বাক্স !!! ভাবা যায় ??? এর পরে হঠাৎই চোখে ধরা দিল আরো সম্মানজনক পেন , যদি ফাউন্টেন পেন হয় ... তাহলে তো কথাই নেই!!!
 কাজ, কাজ আর কাজ। বলা যায় কাজ সাগরে / মাঝারে ডুব দিয়েছি .....তবে অরূপরতনের আশা নিয়ে নয় একেবারে-ই । তবে কিছু অরূপরতন মিলেছে ... ওজন নামক অবাধ্য ব্যাপারটা বাধ্য হয়েই কিছু টা কমেছে অথবা আর বাড়ে নি , পুরোনো কিছু হারানো বিষয় আবার ভুস্ করে অনেক দিন পরে ভেসে উঠেছে । তবে নিশ্চিত সবাই, যে , আমরাও পারি । বিদেশে যারা প্রবাসী , তারা আগেই দেখিয়ে দিয়েছেন যে , তারা কি, না পারে একা হাতে !! আমরা তখন বলেছি যে , ওখানে সহজেই সব করার উপায় হাজির। এখন কিন্তু বলতেই পারি , আমরা কি না পারি !!!  ঘরের সবাই এখন সকল কাজের কাজি আর বাঁধা বাঁধন ছাড়াই সব কাজে হাত লাগাই আমরা। নিরূপায়.... । কাজ আর অকাজ দিয়ে আতঙ্কিত মনকে যতটা চাপা দেওয়া যায় আর কি !! "জগত জুড়ে ভয়ের মেলা, ভয় ভেঙে দাও প্রভু ".... এ এখন আমাদের সবার আকুতি। এই ভয়ের রাজ্যে আমার কর্তা এখনো ধীর , স্থির এক‌ই রকম , কি করে ?? জানা নেই। চুপিচুপি হয়তো বা অতোটা ধীর নয়। আমার ভয় ব্যাকুলতা যদি beyond control হয়ে যায় ,ওকে দেখে !!! এ হয়তো তার জন্য করা কড়া সংযম ।  আমি সবকিছুর মাঝে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে ভয়কে নিজের মধ্যে ঢুকতে দেবো না ,...
 ভ্রমণ যখন গল্প  শুচিস্মিতা ভদ্র  কথাটির আক্ষরিক অর্থ যে ঘুরতে যাওয়া / পর্যটন / বেড়াতে যাওয়া তা আমরা সকলেই কম , বেশি জানি । আরেক ধরনের ভ্রমণ হয় মনে মনে । কবি বলেছেন যে , কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে । খুবই সত্যিই। মনে মনে আমরা স্বদেশে , বিদেশে , কল্পলোকে যে কোন স্থানে ভ্রমণ করতে পারি । এ ধরণের ভ্রমণের সুবিধা অসুবিধার কথা আলোচনা না করে , একটা কথা বলাই যায় এমন মানস ভ্রমণ তো বটেই, যে কোন বেড়ানোর খুঁটিনাটি তথ্য বোঝাই বই পড়তে ভ্রমণ পিপাসু মন সব সময়ই রাজি । মনের ভ্রমণকে বাস্তবায়িত করতে হলে এমন একজন সঙ্গীর দরকার সব সময়ই। এমন , সঙ্গী বলো , বন্ধু বলো আর কে বা আছে বই ছাড়া ? বর্তমানে অবশ্যই আছে আমাদের মুঠোফোন, যাতে নেট ঘেটে বেড়ানোর আদি অন্ত সবই আমাদের নখদর্পনে , তবুও বই এর, কোন বিকল্প হয় না । তাই আজও ভ্রমণ কাহিনী , ভ্রমণ পত্রিকা হারিয়ে যায়নি । নতুন নামে , নতুন মোড়কে ভ্রমণ সাহিত্য আজও চির নবীন।  মানস ভ্রমণের পিছনেও থাকে কোন না কোন রসদ , যেমন সত্যিকারের শোনা কোন বেড়ানোর গল্প, কোনও বইতে পড়া অথবা ছবিতে দেখা বেড়ানোর ইতিবৃত্ত , এ ছাড়া আছে দূর...