Posts

Showing posts from 2024

থানা ছুঁয়ে দেখা

 নানা জায়গার অভিজ্ঞতা নানা রকম । আমরা সাধারণত যে সব জায়গা যাওয়া আসা করি , সেখানেও নানান ঘটনা ঘটে , কিছু মজার , কিছু চিন্তার।   জীবনে বেশ কয় বার থানাতে হানা দিয়েছি। তিনবার এটা সেটা হারিয়ে তা নথিভুক্ত করতে missing diary করতে গেছি । এই কিছুদিন আগে এক ভিন্ন কারণে সেখানে হাজিরা দিলাম।  কিছু চিন্তাজনক কারণজন্য মেয়েকে যার কাছে রাখতাম তাকে বরখাস্ত করেছিলাম। সে বাড়ি এসে পরেরদিন হামলা স্টাইলে হুংকার দিলো ... সে রোগা পাতলা হলে কি হবে তার ওই রণচণ্ডী রূপে আবির্ভাবে আমরা মোটা আর মুটি যারপরনাই মুষিক তখন। আমার শরীরে তখন ভীতি জনিত কাঁপন ধরে গেছে । ছোটকালের বান্ধবী পারমিতা সহ আরো অনেকেই বললে ...  সাবধান সাবধান সাবধান !!! পরামর্শ মতন জায়গা মতন কথা হল ... শুনে তেনারা 👮‍♂️👨‍✈️অভয় দিয়ে আমাদের লেখা চিঠির ভিত্তিতে সব লিপিবদ্ধ করবেন বললেন .... যিনি লিখি পড়ি করবেন তার পিছনে দেখলাম মেঝেতে থাবা গেড়ে এক ছিঁচকে চোর বসে আছে । বসার স্টাইলের সাথে চিড়িয়াখানার খাঁচার ভিতরের হালুমের মিল মালুম হচ্ছিল , কিন্তুক সে পরে খাঁচা থুড়ি লকআপে চালান হলেও তখন বাইরেই বিরাজমান ছিল। আর আসে পাশে ...

এসো হে বৈশাখ

 এসো হে বৈশাখ এসো এসো 🎶🎶🎶🎶 ... এই সাদর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গরম গরম  গ্রীষ্মের আগমন হতে না হতেই গান বদলে যায় ... দারুণ অগ্নিবাণে রে !!! কি মুশকিল বলো দেখি !!! তবে আমার সব সময়ের ভালবাসার মাস শীত । এ বছরের শীতে নানান আপদ বিপদের ভারে জর্জরিত থাকলেও শীতের প্রতি প্রেম ভালবাসা কমার প্রশ্নই নেই আমার কাছে । গরমের নানান কষ্টের গল্প লেখার বদলে আজ তার মধ্যেও খুঁজে পাওয়া ভাল র কথা লিখতে বসেছি । আমার মনে হয় কোন ব্যক্তির , কোন বিষয়ের সব কিছু নেতিবাচক হতে পারে না । হয়ত আমি ভুল হয়ত আমি ঠিক ... জানা নেই। আমার এ ভাবে ভাবতে ভাল লাগে। সব সময়ই যে ওমন ভাবে ভাবতে পেরেছি তা নয় , তবে চেষ্টা করি ।  গরমের শুরুতে ভোরের আমেজটা just অসাধারণ থাকে । হাল্কা ঠাণ্ডার মাঝে নরম রোদ আর সাথে পাখিদের কলকাকলি। এক সময় হঠাৎ খেয়ালে ভোরের দিকে ছাদে হাঁটার চেষ্টা করেছিলাম ( গত বছর দুয়েক গরমের শুরুর দিকে [সাময়িক ] ) ... কতশত পাখি যে আকাশ জুড়ে উড়ে যেত ডাকতে ডাকতে তা বলার নয় । মনে হতো বা ওদের দখলে তখন জগত সংসার ।  বিকেলের কালবৈশাখীর পরের ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাঁপটা যখন চোখে মুখে লাগে ( মাইনাস ধুলো 😄 ) আহ...

চিত্র বিচিত্র

 " আরে তোর আঁকা ছবিতে আমরাই বাদ ??? " ----- মায়ের প্রশ্নের উত্তরে একটুও না ঘাবড়ে পুপের জবাব  ... " ধরলো না তো !! কি করবো ?"  ইদানীং তো আঁকায় আক্রান্ত আমাদের পুপে । যেখানেই যান আমার ফিদা হোসেন আঁকতে বসেন ... অনেকেই বেশ ফিদা ওনার গুণ পানায় । আর আমি ভাবি 🤔... যে কদিন করছে করুক ।  আঁক কষতে বসলে তো আঁকসি বাগিয়ে ধরেও সংখ্যা যথাস্থানে প্রয়োগ হয় না !!! একই অঙ্কে যা যা শেখা হোলো তার সব গুলো apply করেও বেচারী করো মন পায় না ।  🙃😛... গুণ করতে গিয়ে mix & match করে ওতে খানিক খানিক গুণ এবং অন্য আরো জ্ঞানের যোগ করে , বাবাকে তাক লাগিয়ে দেবে ভাবল  !!! কিন্তু 🤐 বাবা তো খুশি হলোই না , উল্টে রেগে আগুন হয়ে বলেই দিলো "তুই একটা বে-গুন !!!! " কি দুঃখের কথা বলো দেখি .... মাকে বলেছে পুপে...." ওমন করলে আমার বুকে কষ্ট হয় , মা 🙄"  আমাদের কালে বকুনি খেলে কোথাকার কষ্ট কোথায় উঠতো ---- সত্যিই বলছি একদম মনে নেই কো ।  তো অঙ্কন চলুক ... কিন্তু বাদ দেবে তাতে আমাদের  ??? এই তো সেদিন একজনের প্রশ্নের উত্তরে ঘটা করে যা রাষ্ট্র করে এসেছে সে চত্বরে , কোথায় লুকোই ...

দোষ কারো নয় গো মা

 মা একটা কথা বলতেন , আগে দেখনদারি পরে গুণবিচারী , কথাটা খুব একটা মানতে না পারলেও,  কার্যত অনেক ক্ষেত্রেই এই সত্য উপলব্ধি করেছি আগেও , এখনও।   মজার কথা হল , সাজ গোজ ব্যাপারটাতে বরাবরই আমার দৌড় বেশ পিছনে । তখনকার জামিনী শাড়ির বিজ্ঞাপনের ট্যাগ লাইন আমার ছিল পছন্দের সাজের definition ... তোমাদের অনেকেই যারা আমার সমসাময়িক , জানো সেই বিজ্ঞাপিত বাণী ... ছোট্ট টিপ , হাল্কা লিপস্টিক আর শাড়ি ।  সাজের ক্ষেত্রে রাতের অনুষ্ঠান আর বিয়ে বাড়িতে ওষ্ঠরঞ্জনী হালকার জায়গায় হয়তো গাঢ় হয় , এই যা পার্থক্য ।  সাজের ব্যাপারে আমার সুমিত্রা দি র ( সুমিত্রা সেন ) গানের ক্লাসের (তখন শিখতাম )এক দিদি , শক্তিরূপা দি , পেশাগত ভাবে সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট একবার বলেছিলেন ... ব্যাগে একটা ফেস ওয়াস আর লিপস্টিক রাখি , সারাদিনের কাজের ফাঁকে সুযোগ মতনই ফ্রেস হয়ে , একটু লিপস্টিক লাগিয়ে নিই । শুনে  ভাল লাগলেও,  নিজের ঘরের চৌহিদ্দির বাইরে লিপস্টিক লাগানোর ক্ষমতা আমার সেদিনও ছিল না , আজও নেই।  কলেজে পড়ার সময় সাজার সুযোগ ছিল , মায়েরও হাল্কা সাজে আপত্তি ছিল না , কিন্তু যাদবপুর...

টীকা র টিকি

 " টীকা " শব্দটা নতুন কিছুই নয় , কিন্তু হঠাৎই নতুন get-up এ আমাদের দরবারে হাজির।  নেবো কি নেবো না ... এই দ্বিধায় ধরাধামের জনতা বেশ ভাবিত । আসলে টীকা বলতেই ..... ছোট্ট কালের কথা মনে পড়ে কি পড়ে না ... এমন একটা বোধ হয়। তো কথা হল , তখন টীকা নিয়ে টিক টিক করার ব্যাপারটাই missing ছিল।   কে আর তখন  ছোট্ট  সত্তার মতামত নিয়ে , তাকে  মানুষ বলে গণ্য করেছে !!! ধর তক্তা , মার পেরেক স্টাইলে কোলে কোলে টীকাকরণ কেন্দ্র বা শিশু বিশেষজ্ঞের দরবারে নিয়ে গিয়েই খেল খতম ।  কি নিষ্ঠুর !!! এরপরও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে ... চকোলেট,  লজেন্স নামক টোপ দিয়ে .... । অনেক আপত্তি জানিয়েও লাভের লাভ কিছুই হয়নি !!! কোনও বাঁধা দানই ধোপে টেকেনি ।😔    কিন্তু পরিবর্তনের হাত ধরে এখন নানা বয়সে , নানা রকম টীকার প্রচলন হয়েছে নিজেকে আরো খানিক টিকিয়ে রাখতে ... আর এখন আমরা বেজায় বড় হয়েছি , তাই মতামতের মূল্য আর কেউ না দিক , নিজে তো দিতেই পারি !!!      বাজারে এলো স্লীভহোল জামা । স্লীভলেস আগেই ছিল , এ তার ওপর এক কাঠি । একটু উকি , টুকি স্টাইল ...

Power cut

 কবিগুরু  সুরে সুরে যেমন বলেছেন " এসো হে বৈশাখ এসো এসো "... আবার এমনও বলেছেন ... "দারুণ অগ্নিবাণে রে !!! " তবে গীতবিতানে প্রকৃতি পর্যায়ের পর্যালোচনা করলে কিন্তু দেখা যায় বর্ষার বরিষণের অঝোর ধারা ঝরে পড়েছে বারংবার। তাতেই মনে হয়েছে কবি হয়তো বা বোলপুরের বৃষ্টি সর্বোপরি বর্ষার প্রেমে মাতোয়ারা ছিলেন । হবে না ই বা কেন ... বর্ষার বৃষ্টি ধারায় সমগ্র প্রকৃতি যে সতেজ হয়ে প্রাণ প্রাচুর্যে ভরে ওঠে , মেতে ওঠে । এ দিকে গ্রীষ্মের ঘর্মাক্ত কলেবর নিয়ে আর যাই হোক কাব্য হয় না সাধারণের । বিশ্ব কবির ভাঁড়ারেও  গরমের বন্দনা নেহাত ই অল্প সল্প  !! তবে হক কথা হল এখনকার তপনের প্রখরতা মারাত্মক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে !!! সেই সাথে অনেকদিন পরে ,  আমরা যারা আশিতে স্কুলে যেতে শুরু করেছিলাম তখনকার মতন যদি আঁধার রাতের হ্যারিকেন ( যার পাট আর নেইকো) পর্বের কিছুটার পুনরাবৃত্তি হয় তো গল্প পুরো জমে ক্ষীর !!!  গত বুধবারে রাজ্য থুড়ি দেশ জুড়ে ধর্মীয় ছুটি ( প্রায় প্রায় সকলের ) ছিল। মঙ্গলবার রাতের আঁধারের বিভীষিকা তখনও আঁধারে ই বিরাজমান ... পরেরদিন ভোরে ওঠার পাট নেই ভেবে আনন্দ নিয়ে শুতে ...

শাড়ি কাহন

 ছোটবেলার খেলার সাথি ছিল দু বাড়ি পেরিয়ে থাকা সংযুক্তা। ছাদে ছাদে বয়ে  চলত কথার মেল ট্রেন। হতচ্ছাড়া ফ্ল্যাট বাড়ি মাথা চাড়া দিল ... ছাদ বার্তালাপ বন্ধ হল ।  মন খারাপের তোয়াক্কা কে করে ওই বয়সে ?? বাড়ি বাড়ি বাড়াবাড়ি যাতায়াতের মধ্যেই দিন যাপন চলতে লাগল।  পুতুল খেলার সাথে সাথে  স্কুল টিচার খেলা ছিল কমন । আর তাতে শাড়ি পরা মাস্ট।  সেই শুরু !!! সংযুক্তা যদিও আমার থেকে ১১ মাসের ছোট ছিল কিন্তুক শাড়ি পরত দুরন্ত। মায়ের দুখান শাড়ি দুজন পরে আর গামছা দিয়ে মাথায় খোপা করে আমরা টিচার টিচার খেলতাম। সেই শুরু আমার শাড়ি প্রীতি। ভয়ানক রকম শাড়ি পরেও প্রীতি থেকে তা কখনোই ভীতি তে পরিণত হয়নি। কতবার শাড়ি পরে বেকায়দায় পড়েছি , যখন খুলে গেছে  পথে ঘাটে ( সে সব আরেক গপ্পো) 😄!!!  শাড়ি কেনার খেয়াল অনেক পরের ... বলা ভাল বিয়ের পরের সংযোজন।  আগে সুযোগের আর ট্যাকের বিস্তর সমস্যা ছিল। সমস্যার রেশ এখনও আছে , তবে স্বাকার হলে চুপচাপ ফুলে ছাপের পদ্ধতি চলে চোরাগোপ্তা ভাবে ।  গতকাল zee5এ একখান শাড়ি সংক্রান্ত ওয়েব সিরিজ দেখলাম। গল্প সাধারণ । কিন্তু শাড...

চক্ষু চড়কগাছ

 বয়সের সাথে সাথে শরীরের গতি প্রকৃতির অদল বদল হতেই থাকে। নতুন কিছু নয় বটে , তবে যখন যার হয় তার কাছে ভয়ানক রকম নতুন 🤫। কল কব্জা বিকল না হলেও গড়বড় করছে বিস্তর।  বিস্তারিত সার্ভিসিং জরুরি হয়ে পড়ছে।  কিছু বছর ধরেই এমন নব নব উৎপাতে এক একবার চিতপাত হচ্ছি , আবার খানিক মন থেকে মেনে নিয়ে তা সারাই এর দিকে মনোনিবেশ করছি। হালে মাস দুয়েক ধরে চোখ নিয়ে আতান্তরে পড়েছি। চোখে জল , চোখে বেদনা আর এমনিতেই অনেক কিছু চোখে পড়ে না তা ওমনিতেও সামিল হয়ে ঝাপসা পানা দেখে ভয়ানক গোলমাল করে ফেলেছিলাম ক্রমাগত ... একদিন মেয়েকে নিয়ে বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাওয়ার পথে তিন তিনবার তিনজনকে চেনা ভেবে হাসি বিনিময় করার পর মেয়ে শুধরে দিলে ... বললে ... কাকে শুক্লা মাসি বলছ ??? ... আবার কাকে দেখে চিনতে পারছ ভাবছ ??? এ তো অচেনা !!!!  এ দিকে ফোনে মন আর ল্যাপটপ ল্যাপে না হোক প্রায় প্রায় ল্যাপে নিয়ে ঘোরাঘুরি বিস্তর বেড়েছে !!! অগত্যা অগস্ত যাত্রার বদলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের দুয়ারে হাজির হলাম । তিনি পুরাতন প্রেসক্রিপসন দেখে আর এখনকার চোখের ছানবিন করে দেখলেন। বললেন ... 2017তে চোখের প্রেসার বাড়ার দরুণ ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৭

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৭ রাবাংলার শান্ত পাহাড়ি পরিবেশ ছাড়তে মন না চাইলেও আমাদের ওখানে থাকার মেয়াদ ফুরিয়েছিল তাই আমরা সময় মতন  শান্ত সমাহিত পাহাড়ী জনপদ রাবাংলা থেকে বেরিয়ে পড়লাম।  আবার পাহাড়ের পাকদণ্ডী , কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া ,পথের পাশের  নাম না জানা অযত্ন লালিত ফুলের শোভা দেখতে দেখতে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চললাম। ঘন্টা দুই আড়াই পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছলাম সন্ড্রুপসে স্তুপা দর্শনে । প্রবেশদ্বার থেকে টিকিট কেটে স্তুপার দিকে এগিয়ে যেতেই দেখলাম পথের একপাশে সারিবদ্ধ  নানান রঙের মন্ত্র লেখা পতাকা । মা - মেয়ে খানিক রঙ মেলান্তি খেলায় মেতে উঠলাম। বেড়াতে বেরলে আমাদের সুপ্ত অনেক ছেলেমানুষী মনের গহীন থেকে বেরিয়ে , আমাদের অবাক করে দেয় । আমাদের পরিধেয় র সাথে রঙ মিলিয়ে পতাকা বেছে তার সামনে দাঁড়িয়ে ছবিছাবা তুলে স্তুপের সামনে হাজির হলাম !!! কনকনে ঠাণ্ডা আর খানিক সিঁড়ি ওপরে উঠে আমরা হাঁপিয়ে কাপিয়ে একশেষ। বিশেষ করে আমি । শরীর জানান দিচ্ছিল জলদি জলদি পাহাড়ের বেড়ু সেরে ফেলতে হবে । এখানেও যথারীতি বৌদ্ধ ধর্ম গুরু পদ্মনাভ র বিশালকার মূর্তির নিচে এক বৌদ্ধ মনাস্ট্রির প্...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৬

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৬ গ্যাংটক থেকে আমরা চললাম রাবাংলার দিকে। কর্তামশাই যদিও সিকিমে বেশ কয়েকবার এসেছেন কিন্তু তিনি সিকিমের একই জায়গা গুলোর মধ্যেই গোল গোল ঘুরেছেন নানান ক্ষেত্রের বন্ধুদের সাথে । তেনার সাথের এত বছরের অভিজ্ঞতার রেশ ধরে বলতে পারি বিস্তর গাইড সদৃশ ভাবমূর্তির উপস্থাপনা করেই আর নতুন কিছু তার দেখা হয়ে ওঠেনি সেই সব ভ্রমণে । রাবাংলা আমাদের দুজনার কাছেই অচেনা ও অদেখা। পথ চললাম দুপাশের পাহাড়ী জনপদ, পাহাড়ী সৌন্দর্য আর নির্বাচনের নিদর্শন দেখতে দেখতে । বেলা গড়িয়ে বিকেল হল । রাবাংলার পথে শুনেছিলাম পড়বে বিখ্যাত টেমি চা বাগান। কথা ছিল আমরা সেখান ঘুরে নিয়েই রাবাংলার হোটেলের দিকে রওনা দেব। সেই মতন পথের দুপাশের চা বাগানের শোভা দেখতে দেখতে মুগ্ধতার রেশ কাটাতে না কাটাতেই আমাদের বাহন চালক বিজয় ভাইয়া একখান মোড় ঘুরে প্রসস্ত রাস্তার এক পাশে গাড়ি পার্ক করলেন। নামতে নামতেই পথের বিপরীতে একই সাথে  দেখতে পেলাম বড় করে লেখা ও পাহাড়ী ধাপে ধাপে নেমে আসা দুটিপাতা, একটি কুড়ি সমৃদ্ধ রাশি রাশি চা গাছ। ইদানিং সব কিছুতেই ভালবাসা জাহির করার নিদর্শন ছড়িয়ে আছে , তাই হয়তো আসল ভালবাসা ক...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৫

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৫ পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙল যথা সময়ে । দেখি আগের দিনের তুলনায় আকাশ একটু গাল ফুলিয়েছে  , কিন্তু আমাদের গ্যাংটকের দেখা  প্রথম প্রভাতের মতন সে অতোটাও বিষন্ন নয় । মন বলল .. এ হল মানিয়ে নেওয়ার মতন মুখ ভার । তাও মনে যে সংশয়ের দোলচাল একেবারেই ছিল না ; তা নয় । তবে আস্তে ধীরে সময় এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আকাশ আরো খানিক ভার মুক্ত হলো। আমাদের হোটেল ম্যানেজারের দেখানো পথে আমরা আমাদের মন পবনের নাও থুড়ি চার চাকার বাহনে আসীন হয়ে বেরিয়ে পড়লাম জলখাবার খেয়ে। কথা হয়েই ছিল যে আমরা প্রথমেই ছাঙ্গুর পারমিট নিয়ে সেদিকে রওনা দিয়ে , বরফ দেখে আবার ফিরে আসব গ্যাংটকের হোটেলে । সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজনের পরে মালপত্র সহ বেরিয়ে পড়ব রাবাংলার উদ্দেশ্যে। সকালে বেরনোর আগেই আমাদের চাবি বন্ধ সব লটবহর হোটেলের রিসেপশনে জিম্মা করে আমরা হোটেলের ঘর ছেড়ে দিয়েছিলাম ।  অনেক বছর আগে ছাত্র জীবনে আমার কর্তামশাই বার ২/৩ এ দিক পানে ঘুরে গেছেন তার নানান সেট অফ ফ্রেণ্ডস দের সাথে ( একবার স্কুল / একবার কলেজ / একবার পাড়াতুত বন্ধুরা ) । কাজেই স্বাভাবিক ভাবেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে আর বন্ধ...
  বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৪ প্রথমদিনের গ্যাংটকে ঘোরাঘুরি একদম ভিজে ঝুপ্পুস হয়ে গেল। ঘরে থুড়ি হোটেলে ফিরে চা খেয়ে নিজেদের একটু গরম করে নিতে না নিতেই গ্যাংটকে গণ্ডোগোল .... গ্যাংটকের পার্ক স্ট্রিট সম এম.জি.মার্গে যাওয়া নিয়েই হোটেলের ঘরে গোলযোগের সূত্রপাত হতে না হতেই আবহাওয়ার মোড় ঘুরে গেল যথারীতি আমার কর্তামশাই এর দিকেই। আর ঝমঝমে বৃষ্টি আর কনকনে ঠাণ্ডার প্রকোপে আমরা তিনজনেই এম .জি .মার্গের বদলে লেপের ভিতরে গুটিশুটি মেরে ঢুকে পড়লাম আর ঘরের একমাত্র টেলিভিশনে এদিক ওদিক খিচুড়ি অনুষ্ঠান দেখতে শুরু করলাম। আবহাওয়া নানান ধ্বণাত্মক শব্দ সহযোগে দুর্যোগের জানান দিতেই থাকল । এর মধ্যেই আমার কন্যা এখনকার জ্ঞানের আধার Google বাবুর( নেট তখনও সেট ছিল )শ্মরণাপন্ন হয়ে আগামী সব দিনের দুর্যোগের ঘোষণা করে মনটা কে আরো  খারাপে ভিজিয়ে দিল । অগত্যা ভেবে নিলাম কটা দিন নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামেই কাটানো যাবে । কর্তামশাই আমার ভাবনা শুনে চোখ কপালে তুলে বলেই ফেললেন ... তোমার কি লেবেল !!!! এত খরচ করে গ্যাংটকে এলে বিশ্রাম নিতে ???? কি বলব বলো ?? নুনের ছিটে হজম করে নিলাম । তোমরাই বলো , ঘুরতে না পারার হতাশার কথা...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৩  রাতের শেষে ভোর হলেও আলো ফুটল না । চারিদিকের চরাচর কুয়াশার চাদরে আবৃত । বেড়াতে গিয়ে এমন ছন্দ পতনের সাথে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না আদেও তাই মনের আঙিনায়  মেলা মেঘ জমে গেল । বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতির  কিঞ্চিত অদল বদল হলেও সে একদমই নামমাত্র। জানলা খুলে যদি বা দেখি আকাশের মুখ একটুখানি ফর্সা ...পর মুহুর্তেই সে ভরসা নেতিবাচক দিকে রওনা দিচ্ছিল । এ সবের মধ্যেই আমরা জলখাবারের পর্ব মিটিয়ে মোটের ওপর বেরিয়ে পড়ার ধরাচূড়ো পরে ফেললাম আর কতকটা যেন সে জন্যই বেরিয়ে পড়লাম। বেরিয়েই দেখি হাল্কা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। আমরা এগিয়ে চললাম।  আমাদের বাহন চালকের সাথে প্রথমেই আমরা পরের দিনের ছাঙ্গু ও নাথুলা যাওয়ার অনুমতি মিলবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আলোচনা শুরু করলাম । আকাশের ভাব গতিকে অনুমতিপত্রের চারদিকে বেশ সংশয়ের ঘন মেঘের দেখা পেলাম । সামনেই নির্বাচণ তার প্রচারে দু দলের ব্যস্ততার আঁচ পেলাম চলার পথে । আমরা এগিয়ে চললাম আমাদের প্রথম গন্তব্য রুমটেক মনাস্ট্রির দিকে । পাহাড়ী কিন্তু প্রসস্থ পথ ধরে একসময় পৌঁছলাম  , নেমে পড়লাম... সামনে এক জায়গায় ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪২

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪২  এ বছরের ঘুরতে যাওয়ার বাতাবরণ বেশ দুর্যোগ পূর্ণ ছিল শুরু থেকেই।  কারণ গত বছরের শেষ প্রান্তে এসে পা ভেঙে বেশ কিছু ছুটি খরচ হয়ে গিয়েছিল আর সর্বোপরি চক্ষু লজ্জার মাথা মুণ্ডণ করে আবার যাব , ঘুরতে যাব এমন সুপ্ত ভাবনাকে মনের গুপ্ত কোণা থেকে বের করার সাহস হচ্ছিল না । এখন দূরপাল্লার কু ঝিক ঝিকের টিকিট যখন তখন কেটে ফেলার উপায় নাস্তি । সাথের ভ্রমণ বন্ধুদের অসহায়তা জানানোর পর তেনারা গাল ফুলিয়ে বেরিয়ে পড়ার টিকিট টকাটক কেটে ফেললেন । আর দেখা হলেই হাড়ি মুখ আরো হাড়ি করে বলতে থাকলেন যে ... আমাদের সাথে যেতে চাও ই না !!! কি আর বলব 😥 ??  হেনকালে মেয়ের বাৎসরিক পরীক্ষা শুরু হল ... মনের মধ্যে ঝড় চলছে গুপ্ত ভাবেই। মন বলল ... দিন দুই হলেও একটু তাজা বাতাস না পেলে মন খারাপের দিস্তা কাটানোই দায় হবে !!!! কিন্তুক টিকিট তখন ডুমুরের ফুল । এদিকের লোকাল গার্জেন গর্জন করছেন , তিনি সদ্য কন্যার পড়াশোনার তরণীর হাল ধরতে দিন তিনেক ছুটি নিয়েছিলেন ... তাই ঘোরাঘুরিতে আপাতত লাগাম দিতে বললেন ।  মন বেশ খারাপ হলেও  ... একদিন ক্যালেন্ডার খুলে মুখে হাজার বাতির সাময়ি...

বেড়াতে গিয়ে মজারু পর্ব ৪১

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪১ বেড়ানোর গাড়ি কিছু সময়ের জন্য থামাতে হয়েছিল , আসলে নকলে মোদ্দা কথা হল পকেট পুরাণ। শেষবারের ভ্রমণে ভূস্বর্গের যুক্ত হওয়ার ফলে ছাপোষা বাঙালির যা হয় , আমাদেরও পকেট গড়ের মাঠ হয়েছিল। তার থেকে উত্থান পর্ব এখনও চালু , তবে মন বেশ অনেকদিন ধরেই আকুপাকু করছে । হেন কালে আপদ বিপদের প্রথম ঢেউ একেবারে আমায় খাটে শুইয়ে দিল ... পায়ের আঙ্গুল  ভাঙল । বেরিয়ে পড়ার ভাবনা আবার বাক্স বন্দী হল । পদ যুগলের একখান সম্বল করে আর যাই হোক বেরিয়ে পড়া যায় না। ক্যালেন্ডার মোতাবেক শীতকাল হাজির হল । হাড় বিশেষজ্ঞের অনুমতি নিয়ে এক শনিবারের সকালে আমরা ঝোলা ঝুলিয়ে তিন পরিবার রওনা দিলাম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের দিকে। লোধাশুলি র জঙ্গলের নাম শুনেছি আগে মাওবাদীদের গল্পের পটভূমি স্বরূপ। সকলেই রোমাঞ্চিত .... আমি সদ্য পায়ের বিপদ কাটার পরবর্তী ভ্রমণ নিয়ে বেশ চিন্তিত , ইচ্ছে থাকলেও মনে বিস্তর ভয়ের আনাগোনা তখন । পারব তো ?? আমার জন্য অন্যদের ঘোরাঘুরির আনন্দে ছেদ পড়বে না তো ?? আগেও লিখেছি ... আমার ভয় ব্যকুলতা দুখান ক্ষেত্রে মাথা চাড়া দিলেও , ঘাঁটি গেড়ে ঘোট পাকাতে পারে না। তার মধ্যে এ...