Posts

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৬

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৬ উটিকে ছুটি করার মন কেমনের ভোর হল.... তবে এ কথাও ঠিক ওখানে আমরা মন ভরে ঘুরতেই গিয়েছিলাম। থাকতে যাইনি। তাই শুধু মাত্র সুন্দর স্মৃতিকে মনের মণিকোঠায় রেখে পরের গন্তব্যে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।কোথাও বসবাস করা শুরু করলে তার ভাল ও খারাপ সবটুকু গ্রহণ করে তাকে ভালবাসতে হয়,কিন্তু ঘুরতে গেলে ভাললাগার আশেপাশে যদি কোনকিছু খারাপের ছোঁয়াচ লাগে তা চিরকালের জন্য যেন দাগ রেখে যায়... যদিও এ আমার নিজস্ব ভাবনা। গম্ভীর কথাকে বাদ দিয়ে আসলে নকলে কথা এই যে,সেদিন আমাদের উটিকে এবার তবে যাই বলে বেরিয়ে যাওয়ার কথা এই দাক্ষিণাত্য ভ্রমনের আমাদের সর্বশেষ গন্তব্য কোয়াম্বাটরে। তবে যাওয়ার পথের বৈচিত্র্য যেমন তার প্রকৃতিতে ছিল,তেমন ছিল গন্তব্যে পৌঁছানোর যানবাহনে ও ধরনেও বটে। কি রকম ??? অনেক ধারার রকমবেরকম না হলেও দুরকমের যানবাহনের গল্প আছে এর সাথে জড়িয়ে ধরে। কথা ছিল জয়সন আমাদের পোঁটলা পুঁটলি সহ নিয়ে প্রথমে যাবে উটি রেল স্টেশন। সেখানে আমাদের নামিয়ে ; শুধুমাত্র লটবহর সহ সে চলে যাবে কুন্নুর রেল স্টেশন। তবে আমরা কি করব ??? সেখানেই তো আসল চমক আর গল্পে ২নম্বর যানবাহনের  প্রবেশ.... ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৫

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৫                      উটিতে এক কণকণে ভোর উঁকি দিল । ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুমের আমেজ ঘরে বিরাজমান তখনো। ভোরের ঘুম জাগরণের এই সন্ধিক্ষণ টা আমার মতন অনেকেরই ভারি প্রিয় , বিশেষ করে শীতের ভোরে লেপের ওম মেখে আরো খানিক গড়াগড়ি , আমার কর্তা মশাই বলেন ... মৌজ করছে !!! উটিতে ওমন এক ভোর হাজির, নিজের শহরে মৌজ / মোজ করার সময় কোথায় ? সাত সতেরো ঘুরপাক সে ঘরে র ভিতরে হোক কি বাইরে হোক ... শুরু হয়ে যায় আর মৌজ মুখ গোজ করে কাজে যোগ দেয়। এখানে তাড়া থাকলেও তা কাজের না , সময়ে ঘোরাঘুরি করতে বেরনোর তাড়া। এক সময় ঘুম কে ভাগিয়ে সবাই কে জাগিয়ে আমার কন্যা চালু হল ‌সেদিন ঘরে শুয়ে থাকার দাবি নিয়ে !!! হরে কৃষ্ণ !!!! ঘুম ভেগে তো গেলোই সাথে আমি ভয়ানক রেগেও গেলাম। পুপেকে দেখে একদমই খুব কাহিল মনে হচ্ছিল না ... পথের ক্লান্তি ঘুমের পর থাকার কথা নয় আর motion sickness এর পর্ব পেরিয়ে গেছে বেশ একদিনের কাছাকাছি সময়ে । তাহলে ??? আসলে ফোনে ফোনে বেশ খান তিনেক রাতের বেশি টা কাবার করে তখন পুপে দেবীর শরীর জোড়া ঘুম আর ক্লান্তির ঢল নেমেছে।...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৪

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৪ পরের দিন আমাদের বেরিয়ে পড়ার কথা বেশ সকাল সকাল ... কারণ সেদিন দশমী অর্থাৎ দশেরা। এই দশেরাতে অনেক পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় সকাল থেকে। কারণ সেই ভীমা র নেতৃত্বে বেরিয়ে পরে সাজুগুজু করা হস্তি ও মানুষের নগর জোড়া পরিক্রমা। আমাদের এক বাহন চালক রঘু জী আমাদের যতোটা আতঙ্কিত করে সকাল ৭টা র সময়সীমা দিয়েছিলেন , আমরা তার অজানিতে অপর গাড়ির চালকের সাথের কথোপকথন  থেকে রঘুজী র গল্পে কতটা দুধ আর কতটা জল পষ্ট বুঝে নিয়ে মাইশূরু ঘুরু শেষ করার অর্থাৎ মাইশুরুকে যাই বা বাই করার সময় ঠিক করে নিলাম, নিজেদের আর রঘু জী র দেওয়া সময়ের মাঝ বরাবর। এদিকে সেদিন এক সখি র হাসি মুখ দেখতে না দেখতেই আরেক সখির শরীর খারাপের পো ধরা বিরস বদন দেখার শুভ (?) সূচনা হয়ে গেল জলখাবার টেবিলেই। এক যাত্রায় ভিন্ন ফল কি কখনো কাম্য ??? মোটেও না !!! মাঝের একদিন ডিউটি শেষ করতে‌ কিঞ্চিত দেরির জন্য ঘরে বিস্তারিত বকুনি খেয়ে পরের দিন home front কে ঠাণ্ডা করতে রঘু জি ছুটি করেছিল। আমরা রঘু জী কে ছাড়া অন্য বাহন চালকের সাথে ছুটে ছুটে ঘোরাঘুরি করেছিলাম মাইশোর। সেদিন ছিল আমাদের মাইশুরু র ঘুরু । বকুনির কথা জানত...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৩

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৩ পরের দিন ভোর রাতে ঘুম ভাঙ্গলো দেবাশ্রিতার ফোনে । দক্ষিণ ভারতীয় খাবারে পৈটিক অঞ্চলে বেশ গোলমাল হয়েছে তার , সাথে তার কন্যার শরীরেও নানান গোলোযোগ। এদিকের চিকিৎসক তুরন্ত কিছু ওষুধ ব্যাগ থেকে ঝাড়াই বাছাই করে দিয়ে এল ... আমরা আরেক রাউন্ড নিদ্রায় নিজেদের সঁপে দিলাম। ঘুম ভাঙ্গার পর শান্তশ্রীদি ও রামুদার সাথে কথা বলে একটু সময় হাতে রাখলাম ঘুরতে বেরনোর আগে। শরীরকে আমি সব সময় আগে রাখি , আগলে রাখি। কারণ শরীর ঠিক, তো সব ঠিক । সেদিন নবমী । আমরা ঘুরবো মাইশোর ও তার আশপাশের কিছু ইতিহাসের ঘাঁটি সহ আরো কিছু দর্শনীয় স্থান।  নানান ধরনের ওষুধ খেয়ে , আনুসঙ্গিক সব কিছু সেরে নিয়ে আমরা ফের খাবার ঘরে হাজির হলাম, একদিনের অভিজ্ঞতার আলোয় খাবার বেছেবুছে নিয়ে বসে গেলাম। এর মধ্যে একখান খাবার এর উপকরণ ময়দা নাকি চাল তার চ্যালেঞ্জ আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল মাস্টার সেফের দরবারে ... আমি ছিলাম যথারীতি চালের দলে আর আরেকজন ময়দা নিয়ে ময়দানে নেমেছিল। ভেতো বাঙালী বলে কথা !!! কোনটা চাল আর কোনটা ময়দা চিনুম না ???? তাই কি হয় নাকি ???? সেফ বাবাজি এত রাজনীতি জানবেন কি করে উপকরণ আর পদ্ধ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬২

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬২ মাইশুরুতে শুরু হল আমাদের প্রথম রাউন্ড রাত্রি যাপন , রাতের খাবার খেতে গিয়ে সকলে মনের মতন উওর ভারতীয় তাওয়া রুটি , নান , চিকেন কারি , ভাত , ইয়ালো ডাল আর আলুজিরা পেয়ে যারপরনাই মন খুশ করে পেট পূজো সেরে যে যার মতন দিনের শেষে ঘর ও ঘুম মুখী হলাম। পুপে আবার তার অন্বেষা মাসিকে সাহস দিতে তার সাথে ঘুমুতে সঙ্গ দিতে গেল ... সাথে র‌ইল ফোন নামক আপদ । বেড়াতে বেরিয়ে আর না না ধ্বনিতে হোটেল মুখরিত না করে ... অল্প নিষেধ বার্তা কানে গুঁজে দিলাম। কিন্তু তা বোধহয় আমাদের ঘরেই রয়ে গেল , কানে ঢুকলো না ... তার শারীরিক প্রমাণ মিলল ঠিক দুদিনের মাথায়। আসলে বাঁধন একটা আছেই , যা অদৃশ্য ... সেই বাঁধন খানিক হাল্কাভাবে রাশ ধরে রাখা বাঁধন। এঁটে চেপে বসা বাঁধন নয় .... আরো একটু আলগা করলেই লাগাম ছাড়া ভাবে ভাসতে শুরু করে কিছু না কিছু গোল পাকিয়ে ফেলে , নিজের পরিধির বোধ এখন পর্যন্ত জাগেনি আমাদের কন্যার .... আর তখন আমাদের , ওকে বোঝানোর পথ খুলে যায়, যা বাঁধা দেওয়ার কারণ বিষয়ক ... একবার পুরীতে মৌ এর ঘরে ঘুমিয়ে কিছু গোল বাঁধিয়েছিল ... কিছু সমস্যা র কথা লজ্জা করে মৌ আন্টিকে বলতে না পেরে ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬১

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬১ মাইশোর এখন যুগের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে নাম বদল করে হয়েছে মাইশুরু। মহিষাসুরের দেশ নাকি এই মাইশোর / মহিশূ‌র। এখানকার চামুন্ডা পাহাড়েই আমাদের মা দূর্গা দুষ্টের দমন করেছিলেন বলে কথিত , বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। আমাদের মাইশূরু ডাইরি সেদিন শুরু হল কিছু পরেই। ঘুরতে যখন গেছি ঘুরু দিয়ে ই যে তা শুরু হবে সে আর এমন কি কথা ? ঠিক হল পথের ক্লান্তি দূর করতে সকলে ফ্রেস হয়ে , দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ব মাইশোর প্যালেসের উদ্দেশ্যে। তারপর বৃন্দাবন গার্ডেন ঘুরে হোটেলে ফিরে আসব। কলকাতা থেকে নিয়ে আসা ঘরোয়া খাবার সব তখনো পেটে পোরা হয় নাই , ঠিক হল হোটেলের খাবারের সাথে ঘরের খাবারে রসনা তৃপ্তি হবে মিলিয়ে মিশিয়ে ‌... কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ দুই প্রদেশের মিল মিশ ভাল চোখে দেখলেন না ... অগত্যা পরের জন্য তা ঘরে ( হোটেলের) রাখা হল ... পরে সে সব বিন ( dustbin) মুখী হলো সঙ্গে করে নিয়ে গেল আমার দুখান চামচে ... ওরা ওদের নাম স্বার্থক করে খাবারের চামচা হয়ে ভিন দেশে রয়ে গেল 😝। আমরা চট জলদি খেয়ে আরেক কম ধড়াচূড়োয় সজ্জিত হয়ে রাজার বাড়ি দেখতে চললাম ‌। আমাদের দুখান গাড়ির ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০ মন্দারমণি ও দীঘা ঘোরার ফাঁকে ফাঁকে ই পরবর্তী বেড়ুর ভাবনা কে গড়ে পিঠে নেওয়ার কাজে লেগে পড়লাম। অনিন্দ্য আর দেবাশ্রিতা কে ভাবনা transfer করে প্রাথমিক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ফেললাম। পথ তখন অনেক বাকি । মা বলতেন , লাখ কথা না হলে নাকি বিয়ে হয় না , আমার তো এক‌ই কথা মনে হয় বেড়াতে যাওয়ার স্থান, কাল ও পাত্র নির্বাচনের প্রাক্কালেও।  সাগর পাড় থেকে ফিরে বারংবার মিটিং, সিটিং ... ইটিং করতে করতে আমরা দলে ভারি করার আরো জনা কতক জোগাড় করে ফেললাম। জায়গা ঠিক হল ... আমার এক স্বপ্নের গন্তব্য উটি। তার লেজুড় হয়ে সাথে মানানসই আরো কিছু স্থান যুক্ত করা হল। আমাদের কোর্টশীপ পর্বে , তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ... ভাববাচ্যে ... কোথায় যাওয়ার ইচ্ছে ? তখন আমার ভূগোলের জ্ঞানের বেশিরভাগ সীমাবদ্ধ ভূগোল ব‌ই আর বন্ধুদের থেকে শোনা বর্ণনা য়। সেই মতন ভাবনা আর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে ঝুটি ধরে উটি কে বের করে পেশ করেছিলাম। তেনার কলেজের দল ওদিকে গিয়েছিল ... তাই আমার অপেক্ষা করতেই হল ... বিয়ের ২১শে পা দেওয়া র খান কতক মাস আগে অবশেষে গুটি গুটি উটি র দেখা মিলল। ব্যাপার টা সত্যিই গুটি গু...