Posts

 বেড়াতে গিয়ে মজারু              ১৭  বেড়ানো নিয়ে যাদের বাড়াবাড়ির অন্ত নেই , তারা যে করোনা পরিস্থিতির বন্দী দশায় ঝিমিয়ে পড়বে এ তো নতুন কিছু নয় !!! তা হবারই ছিল । কিন্তু নিউ নরমাল নামক পরিস্থিতির আগমনে তারা যে এক ঝটকায় ,  ঝটপট ঝিমুনি কাটিয়ে উঠে জোগাড় যন্ত্রে সামিল হবে এ কথাও সবারই জানা। তবে উঠল বাই , কটক যাই বলার উপায় সত্যিই আর নেই।  কোনো কালেই যদিও আমাদের এমন ধারা ছিল না ,  এখন তো ওমন হওয়ার সম্ভাবনাও নেই ধারেকাছে। চারটে পরিবারের যাওয়ার কথা দিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, শেষমেষ তা দাড়ালো ৫০% এ। অর্থাৎ দুই পরিবার হাত ধরাধরি করে , চার চাকায় চেপে একদিন বেরিয়ে পড়লাম সকাল সকাল। আমাদের তিনজনের বোঁচকার সংখ্যা এবারও বেশির দিকে , করোনাজন্য , চেক লিস্টিতে আরো ক'জনা যে জায়গা করে নিয়েছিল বলাই বাহুল্য। গুছু করতে করতেই ভোর ভোর বেরিয়ে পড়া বাদ সাধলো , ঘন্টা খানেক দেরিতে এগিয়ে পড়লাম। খানিক চুপি চুপি , কারণ বিরুপ মন্তব্য শুনে মন ভারি করা মানা ছিল , এমনিতেই ঝোলার ভার বেশ বেশিই ছিল ... মন হাল্কা না রাখলে সে সব বইব কেমনে তোমরাই বলো !!...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ১৬ বেড়ানোর মজার ঘটনার কথা লেখার শুরু করে গাড়ি এগিয়ে চলেছে আস্তে ধীরে। হঠাৎ আমার এক বান্ধবী কাম পাঠিকার অনুরোধে আবার কলম ধরতেই হোলো। যে ঘটনার ঘনোঘটা নিয়ে লেখার অনুরোধ , তা কতোটা মজার , তাতে সন্দেহ আছে যথেষ্ট । বলার মতন ঘটনা অবশ্যই, কিন্তু মজার বোধহয় নয়।  যে কোনো বিষয় লিখতে গেলে গোড়া থেকে শুরু করাই আমার স্বভাব । to the point answer লেখা , একদা আয়ত্তে ছিল , এখনও ছাত্রছাত্রীদের ওমন গাল ভরা জ্ঞানের বাণী দিয়ে থাকি ... বিষয় অনুযায়ী দরকারি সব লেখার আর অদরকারি বিষয় বাদ দেওয়ার নির্দেশ... এই সব আরকি !!! কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে ... কিছু কথা বিস্তারে শুরু করলেই আমার কর্তামশাই কথার মাঝখানে কেটে ছেঁটে  বিষয়কে পয়েন্টে এনে ফেলেন। তবে কিছু কিছু আমার নিজস্ব এলাকায় একদমই আমি হাত গলাতে বা নাক গলাতে দিই না । সেখানে আমি আমার মতন‌ই চলি ।  তো কথা হলো গিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইতিবৃত্তের উপস্থাপনা । তো ছোট্ট পুপের যখন ১০/১১ মাসের বয়ঃক্রম, তখন দুজন মিলে ঠিক করলাম ওর বেড়ানোর হাতেখড়িটা দিয়ে দেওয়া উচিত। অনেকেই আঁতকে উঠলেও , এই সব বিষয়ে আমার আবার বলতে নেই সাহস...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ১৫ বাঙালির বেড়ানোর একাল সেকাল নিয়ে কাটাছেঁড়া করলে বেশ রকম ফেরের দেখা মেলে। আগেকার বেড়ানো দীপুদা অর্থাৎ কিনা দীঘা , পুরী ও দার্জিলিং এর মধ্যে প্রধানত  ঘোরাফেরা করলেও  তখনো স্বাস্থ্যকর গন্তব্য ছিল পশ্চিম , যেখানে মূলতঃ যাওয়ার কারণ ছিল স্বাস্থ্য উদ্ধার। আর ছিল কাশি । কাশিতে যে বাঙালির কতটা চারিয়ে যাওয়া শিকড় , তার অনেক প্রমাণের ছড়াছড়ি আমাদের বাঙলা সাহিত্যের আঙিনায় উঁকি মারলেই পষ্ট দেখা যায়। এখন বিশ্বায়নের বাতাসে আমরা দেশ , বিদেশ সবেতেই বেড়িয়ে বেড়াচ্ছি । আমি আপাতত পকেট বুঝে দেশেই আছি ... বাহির( বিদেশ ) পানে চোখ মেলিনি , সাথির হিয়ার হাল বেহাল করার কোন ইচ্ছে নেই।  তো যা বলতে চাইছি , তা হলো বেড়ানোর নানা রকমের ধরনের মধ্যে  এক রকম হলো আয়েস করে , আরামে বেড়ানো ।এর বিপরীতের দেখাও মেলে । মূলতঃ ছাত্র জীবনের পকেটমানী নির্ভর বেড়ানোয়।  তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে বেড়ানো, অনেকটা রাজাকীয় মেজাজে , কিন্তু পকেট সামলে নিয়ে অবশ্যই। বেড়াতে গেলে আমাদের কলকাতার , কসবার ছাপোষা আপাদ মস্তক সংসারী ভদ্রবাবুর ভাবটা অনেকটাই দাড়ায় এমন .... যার নে...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ১৪ ছোট থেকেই শুনে এসেছি বার্ধক্যে বারাণসী যাওয়ার কথা । কিন্তু সেই চল এখন আর নেই । যার যখন যেমন সময় , সুযোগ আর টানের টানাটানি চলে সে তখন সেদিকেই হাঁটা দেয় , উঠিয়ে ঝোলা । তাই বলে সবাই যে ভোলার মতন ভালো মানুষ এমন ভাবারও কোনো কারণ নেই। ভালো মন্দের মিশেলেই আমরা তৈরি।  তবে আমাদেরও মেঘে মেঘে বেলা অনেকটাই এগিয়েছে। যদিও আমার সাথি , তা মানতে নারাজ ।  তো বয়সের আলোচনা বাদ দিলাম।  আমরা নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে ভালোবাসি । আর দেখতে , ইতিহাস জানতেও মোটের ওপর ভালোই লাগে ।কাজেই সেই ভালো লাগার হাত ধরেই বেরিয়ে পড়া । ধর্মীয় স্থানের মাহাত্ম্য থেকেও তার ইতিহাস , আর্কিটেকচার জানি, হামলে পড়ে শুনি। গতবারের বেনারস , এলাহাবাদ ও লক্ষ্ণৌ যাওয়া এক‌ই কারণ জন্য ।তার  ব্যতিক্রম হবে কি করে ?  ট্রেনে বাপসোহাগী কন্যা এবার আপার বার্তে তার বাবার সাথে যখন শুয়ে পড়লো , আমি সত্যিই হাপ্ ছাড়লাম ....  যাক্ বাবা রাতের মতো নিশ্চিন্তি !!!! কিন্তু সে যে সিনেমার ট্রেইলার ছিল .... তা বুঝলাম রাতের গভীরতার সাথে সাথেই । প্রথম রাউন্ডে , মানে ঘুম আসার আগে দেখলাম.... মানে দে...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ১৩ বেড়ু বেড়ু করতে যারা সিদ্ধহস্ত , তাদের বেড়ু ভণ্ডুল হ‌ওয়ার অভিজ্ঞতা যে , কোনো না কোনো সময় হয়নি , তা হলপ করে কেউ কি বলতে পারবে ? মনে তো হয় না । আমাদের যুগলের এমন বেড়ু ভণ্ডুলের বেশ কিছু অভিজ্ঞতা মজুদ আছে । সেই যে সপ্তপদীর পর মিষ্টি মধুচন্দ্রিমা  যাওয়া ,  সে তো বটেই , তার পিছনে পো ধরে আরো অনেকবার নানা রকমের গুরুতর কারণ জন্য বেড়ানোতে দাড়ি , fullstop দিতে হয়েছে।  অসুস্থতা , আত্মীয় বিয়োগই প্রধান কারণ। অসুস্থতাতে এক একবার এক একজন এগিয়ে এসেছে ... আগে কে বা প্রাণ করিবেক দান style এ । এই দলে আমার মা , শ্বাশুড়ি মা , আমার কন্যা যেমন সামিল । এই অধমও আছি । এখানে দুই মায়ের অসুস্থতা জনিত কারণ একটা সুন্দর ব্যালেন্স এর দারুন example । বিয়ের শুরু থেকেই তো একটা ব্যালেন্সের খেলা শুরু হয় , সেখানে মা-তুমি আর মা-আপনি দুজনের performance একঘর ।কেউ আর " তোমার মায়ের জন্য .ইত্যাদি প্রভৃতি ..... বলে কোমর বাঁধতে পারিনি।  এই সব কারণে বাঁধা পড়েছিল দার্জিলিং , বেনারস, মাইথন ও নৈনিতাল যাওয়া। তারমধ্যে যাবোই যাবো এই ভাবনা নিয়ে প্রথম তিনটে জায়গায় পরে ঘু...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু (১২)   আমার এ যাবৎকালের ঘোরাফেরার মজার ঘটনা তোমাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিলাম বিগত কয়েকটা post এ। কতোটা মজা পেলে তোমরা , সেটা তোমরাই বলতে পারবে.... । তবে অনেকেই যে মন দিয়ে পড়েছ ,আর তাদের যে ধৈর্যচ্যুতি  ঘটেনি তাও জেনেছি, ভালোই লেগেছে তাই। এবার একটা মজার ঘটনার কথা বলব ভাবছি... যার প্রত্যক্ষদর্শী আমি ন‌ই। কিন্তু .....  সে প্রায় একযুগ আগের গল্প .... আমার তখন সদ্য বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। একটু আধটু দেখা সাক্ষাৎ চলছে .... কোর্টশিপ । যা নিয়ে বাড়িতে মায়ের মেজাজের পারদ ওঠানামা করছে । কারণ , আর কিছুই না ... সেই চিরন্তন মায়েদের ভাবনা ... যদি কোন কারণে চারহাত এক না হয় , তাহলে ???? আর আমি বকুনি খেয়েও , আবার অভিসারে যাচ্ছি মাকে জানিয়েই😕। কারণ এ সময়ে মনে একটা ঘোর চলতে থাকে,যার background এ একটা গান ঘোরাফেরা করে .... যখন ডাকলো বাঁশি, তখন রাধা যাবেই যমুনায়... টাইপ। আর মাকে লুকিয়ে কেন যাবো ?? এখন সেই বাঁশি , I mean ফোন নিয়েছে এক কোণ.... তবে একদিন গিয়েছিলাম .... মাকে লুকিয়ে ... আর সেদিনই মামাতো দিদির মেয়ের সাথে দেখা .... যেখানে বাঘের ভয়.... সেখ...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু (১১) বেড়াতে যাওয়ার ঘটনার ঘনঘটায় রাজধানী ভ্রমণও সাথে আছে। দিল্লি চলো বললেই তো আর যাওয়া যায় না !! রাজধানী বলে কথা । বেশ কয়েকবার টালবাহানা পেরিয়ে দিল্লি, আগ্রা ও ভরতপুর যাওয়া ঠিক হলো। পুপে (আমার  কন্যা) তখন হাঁটতে শিখেছে। ওখানে পৌঁছে ঘোরাঘুরি শুরু হলো। চারিদিকে ইতিহাস ওতপেতে বসে আছে। যেখানে , যেদিকে যাই আমার কন্যা বিপরীত দিকে হাঁটা দেয় ।এ যে ভবিষ্যতের forecast ছিল .... এখন বুঝতে অসুবিধা নেই। তখনো সে নিয়ে বিস্তর ঝামেলা বেধেছিল আমাদের মধ্যে। কিন্তু সে ঝামেলার সমাধান পরদিন বিনা প্রয়াসেই হয়ে গেল। কারণ বিশেষ কিছু নয় .... প্রথম দিনের হন্টনে আমার কন্যার বুদ্ধি খুলে গেল বলতে পারো .... দ্বিতীয় দিন আমাদের দিল্লির আপাত আবাস বঙ্গভবনের নিচে নেমেই সে ঘোষণা করল .... " বাবা কোলে "। ব্যাস সারা ভ্রমনে বাবার কোলে চেপে মজায় ঘুরতে লাগলো সে। আর আমার কর্তার মাজা ব্যাথার প্রকাশ পেতে লাগল তার বাছাই করা শব্দ চয়নে। সে সব শব্দ  প্রকাশিত হওয়ার মতন নয়কো । আর তেনার সব রাগ গিয়ে পড়ল মুঘল শাসনকর্তাদের ওপর। কেন ?? আহা বুঝলে না !! তাঁদের স্থাপত্য কীর্তি দেখতে গিয়ে গাড়ি...