Posts

Showing posts from 2025

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৭

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৭ কোয়াম্বাটর হোটেলে  পৌঁছে আমরা শুরুতে যে যার ঘরে ঢুকে পড়লাম লটবহর সহ।সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে তখন অতি অবশ্যই যে পানীয়ের জন্য মন প্রাণ কাঁদছিল, তা আমার ক্ষেত্রে চা না হয়ে যায় না।আর অবশ্যই আমার পছন্দের পারা যে বাঁধা আছে দুধ দিয়ে ঘনো করে ফোটানো আদি অকৃত্তিম দুধ চায়ে,তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কোয়াম্বাটরে ওদিকের কাউকে কিছু বোঝানোর ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় ভাষা।এ উটির মতন দেশী বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনা সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র নয়,কাজেই চা খেতে চেয়ে বেজায় চাপে পড়ে গেলাম। হোটেলের রান্নাঘর থেকে যে চায়ের অর্ডার নিয়ে গেল,তার নানান ডিরেকশনে মাথা হেলানোতে আমরা যারপরনাই সন্দিগ্ধ হয়ে গেলাম।কিছু পরে শান্তশ্রী দি রান্নাঘরে হানা দিয়ে আপাতত খান দুয়েক ভাষা ও সাংকেতিক ভাষার প্রয়োগে অর্ডার গ্রহণকারীর হেলানো মাথার পাঠোদ্ধার করে ঘরে এসে জানান দিল... সকাল ছাড়া চা মিলবে না মোটেও। যখন তখন চা পিনা মানা হ্যায়। আজব !!! আমরা যখন তখন চা খাই , খেতে দিই। কফি চাইলে হয়তো দিলেও দিতে পারত... এদিকে চায়ের থেকে কফি বা কাপিই (সাউথ ইন্ডিয়ান উচ্চারণে)র আদর কদর বেশির দিকে,যদিও চা ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৬

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৬ উটিকে ছুটি করার মন কেমনের ভোর হল.... তবে এ কথাও ঠিক ওখানে আমরা মন ভরে ঘুরতেই গিয়েছিলাম। থাকতে যাইনি। তাই শুধু মাত্র সুন্দর স্মৃতিকে মনের মণিকোঠায় রেখে পরের গন্তব্যে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।কোথাও বসবাস করা শুরু করলে তার ভাল ও খারাপ সবটুকু গ্রহণ করে তাকে ভালবাসতে হয়,কিন্তু ঘুরতে গেলে ভাললাগার আশেপাশে যদি কোনকিছু খারাপের ছোঁয়াচ লাগে তা চিরকালের জন্য যেন দাগ রেখে যায়... যদিও এ আমার নিজস্ব ভাবনা। গম্ভীর কথাকে বাদ দিয়ে আসলে নকলে কথা এই যে,সেদিন আমাদের উটিকে এবার তবে যাই বলে বেরিয়ে যাওয়ার কথা এই দাক্ষিণাত্য ভ্রমনের আমাদের সর্বশেষ গন্তব্য কোয়াম্বাটরে। তবে যাওয়ার পথের বৈচিত্র্য যেমন তার প্রকৃতিতে ছিল,তেমন ছিল গন্তব্যে পৌঁছানোর যানবাহনে ও ধরনেও বটে। কি রকম ??? অনেক ধারার রকমবেরকম না হলেও দুরকমের যানবাহনের গল্প আছে এর সাথে জড়িয়ে ধরে। কথা ছিল জয়সন আমাদের পোঁটলা পুঁটলি সহ নিয়ে প্রথমে যাবে উটি রেল স্টেশন। সেখানে আমাদের নামিয়ে ; শুধুমাত্র লটবহর সহ সে চলে যাবে কুন্নুর রেল স্টেশন। তবে আমরা কি করব ??? সেখানেই তো আসল চমক আর গল্পে ২নম্বর যানবাহনের  প্রবেশ.... ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৫

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৫                      উটিতে এক কণকণে ভোর উঁকি দিল । ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুমের আমেজ ঘরে বিরাজমান তখনো। ভোরের ঘুম জাগরণের এই সন্ধিক্ষণ টা আমার মতন অনেকেরই ভারি প্রিয় , বিশেষ করে শীতের ভোরে লেপের ওম মেখে আরো খানিক গড়াগড়ি , আমার কর্তা মশাই বলেন ... মৌজ করছে !!! উটিতে ওমন এক ভোর হাজির, নিজের শহরে মৌজ / মোজ করার সময় কোথায় ? সাত সতেরো ঘুরপাক সে ঘরে র ভিতরে হোক কি বাইরে হোক ... শুরু হয়ে যায় আর মৌজ মুখ গোজ করে কাজে যোগ দেয়। এখানে তাড়া থাকলেও তা কাজের না , সময়ে ঘোরাঘুরি করতে বেরনোর তাড়া। এক সময় ঘুম কে ভাগিয়ে সবাই কে জাগিয়ে আমার কন্যা চালু হল ‌সেদিন ঘরে শুয়ে থাকার দাবি নিয়ে !!! হরে কৃষ্ণ !!!! ঘুম ভেগে তো গেলোই সাথে আমি ভয়ানক রেগেও গেলাম। পুপেকে দেখে একদমই খুব কাহিল মনে হচ্ছিল না ... পথের ক্লান্তি ঘুমের পর থাকার কথা নয় আর motion sickness এর পর্ব পেরিয়ে গেছে বেশ একদিনের কাছাকাছি সময়ে । তাহলে ??? আসলে ফোনে ফোনে বেশ খান তিনেক রাতের বেশি টা কাবার করে তখন পুপে দেবীর শরীর জোড়া ঘুম আর ক্লান্তির ঢল নেমেছে।...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৪

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৪ পরের দিন আমাদের বেরিয়ে পড়ার কথা বেশ সকাল সকাল ... কারণ সেদিন দশমী অর্থাৎ দশেরা। এই দশেরাতে অনেক পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় সকাল থেকে। কারণ সেই ভীমা র নেতৃত্বে বেরিয়ে পরে সাজুগুজু করা হস্তি ও মানুষের নগর জোড়া পরিক্রমা। আমাদের এক বাহন চালক রঘু জী আমাদের যতোটা আতঙ্কিত করে সকাল ৭টা র সময়সীমা দিয়েছিলেন , আমরা তার অজানিতে অপর গাড়ির চালকের সাথের কথোপকথন  থেকে রঘুজী র গল্পে কতটা দুধ আর কতটা জল পষ্ট বুঝে নিয়ে মাইশূরু ঘুরু শেষ করার অর্থাৎ মাইশুরুকে যাই বা বাই করার সময় ঠিক করে নিলাম, নিজেদের আর রঘু জী র দেওয়া সময়ের মাঝ বরাবর। এদিকে সেদিন এক সখি র হাসি মুখ দেখতে না দেখতেই আরেক সখির শরীর খারাপের পো ধরা বিরস বদন দেখার শুভ (?) সূচনা হয়ে গেল জলখাবার টেবিলেই। এক যাত্রায় ভিন্ন ফল কি কখনো কাম্য ??? মোটেও না !!! মাঝের একদিন ডিউটি শেষ করতে‌ কিঞ্চিত দেরির জন্য ঘরে বিস্তারিত বকুনি খেয়ে পরের দিন home front কে ঠাণ্ডা করতে রঘু জি ছুটি করেছিল। আমরা রঘু জী কে ছাড়া অন্য বাহন চালকের সাথে ছুটে ছুটে ঘোরাঘুরি করেছিলাম মাইশোর। সেদিন ছিল আমাদের মাইশুরু র ঘুরু । বকুনির কথা জানত...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৩

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬৩ পরের দিন ভোর রাতে ঘুম ভাঙ্গলো দেবাশ্রিতার ফোনে । দক্ষিণ ভারতীয় খাবারে পৈটিক অঞ্চলে বেশ গোলমাল হয়েছে তার , সাথে তার কন্যার শরীরেও নানান গোলোযোগ। এদিকের চিকিৎসক তুরন্ত কিছু ওষুধ ব্যাগ থেকে ঝাড়াই বাছাই করে দিয়ে এল ... আমরা আরেক রাউন্ড নিদ্রায় নিজেদের সঁপে দিলাম। ঘুম ভাঙ্গার পর শান্তশ্রীদি ও রামুদার সাথে কথা বলে একটু সময় হাতে রাখলাম ঘুরতে বেরনোর আগে। শরীরকে আমি সব সময় আগে রাখি , আগলে রাখি। কারণ শরীর ঠিক, তো সব ঠিক । সেদিন নবমী । আমরা ঘুরবো মাইশোর ও তার আশপাশের কিছু ইতিহাসের ঘাঁটি সহ আরো কিছু দর্শনীয় স্থান।  নানান ধরনের ওষুধ খেয়ে , আনুসঙ্গিক সব কিছু সেরে নিয়ে আমরা ফের খাবার ঘরে হাজির হলাম, একদিনের অভিজ্ঞতার আলোয় খাবার বেছেবুছে নিয়ে বসে গেলাম। এর মধ্যে একখান খাবার এর উপকরণ ময়দা নাকি চাল তার চ্যালেঞ্জ আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল মাস্টার সেফের দরবারে ... আমি ছিলাম যথারীতি চালের দলে আর আরেকজন ময়দা নিয়ে ময়দানে নেমেছিল। ভেতো বাঙালী বলে কথা !!! কোনটা চাল আর কোনটা ময়দা চিনুম না ???? তাই কি হয় নাকি ???? সেফ বাবাজি এত রাজনীতি জানবেন কি করে উপকরণ আর পদ্ধ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬২

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬২ মাইশুরুতে শুরু হল আমাদের প্রথম রাউন্ড রাত্রি যাপন , রাতের খাবার খেতে গিয়ে সকলে মনের মতন উওর ভারতীয় তাওয়া রুটি , নান , চিকেন কারি , ভাত , ইয়ালো ডাল আর আলুজিরা পেয়ে যারপরনাই মন খুশ করে পেট পূজো সেরে যে যার মতন দিনের শেষে ঘর ও ঘুম মুখী হলাম। পুপে আবার তার অন্বেষা মাসিকে সাহস দিতে তার সাথে ঘুমুতে সঙ্গ দিতে গেল ... সাথে র‌ইল ফোন নামক আপদ । বেড়াতে বেরিয়ে আর না না ধ্বনিতে হোটেল মুখরিত না করে ... অল্প নিষেধ বার্তা কানে গুঁজে দিলাম। কিন্তু তা বোধহয় আমাদের ঘরেই রয়ে গেল , কানে ঢুকলো না ... তার শারীরিক প্রমাণ মিলল ঠিক দুদিনের মাথায়। আসলে বাঁধন একটা আছেই , যা অদৃশ্য ... সেই বাঁধন খানিক হাল্কাভাবে রাশ ধরে রাখা বাঁধন। এঁটে চেপে বসা বাঁধন নয় .... আরো একটু আলগা করলেই লাগাম ছাড়া ভাবে ভাসতে শুরু করে কিছু না কিছু গোল পাকিয়ে ফেলে , নিজের পরিধির বোধ এখন পর্যন্ত জাগেনি আমাদের কন্যার .... আর তখন আমাদের , ওকে বোঝানোর পথ খুলে যায়, যা বাঁধা দেওয়ার কারণ বিষয়ক ... একবার পুরীতে মৌ এর ঘরে ঘুমিয়ে কিছু গোল বাঁধিয়েছিল ... কিছু সমস্যা র কথা লজ্জা করে মৌ আন্টিকে বলতে না পেরে ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬১

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬১ মাইশোর এখন যুগের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে নাম বদল করে হয়েছে মাইশুরু। মহিষাসুরের দেশ নাকি এই মাইশোর / মহিশূ‌র। এখানকার চামুন্ডা পাহাড়েই আমাদের মা দূর্গা দুষ্টের দমন করেছিলেন বলে কথিত , বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। আমাদের মাইশূরু ডাইরি সেদিন শুরু হল কিছু পরেই। ঘুরতে যখন গেছি ঘুরু দিয়ে ই যে তা শুরু হবে সে আর এমন কি কথা ? ঠিক হল পথের ক্লান্তি দূর করতে সকলে ফ্রেস হয়ে , দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ব মাইশোর প্যালেসের উদ্দেশ্যে। তারপর বৃন্দাবন গার্ডেন ঘুরে হোটেলে ফিরে আসব। কলকাতা থেকে নিয়ে আসা ঘরোয়া খাবার সব তখনো পেটে পোরা হয় নাই , ঠিক হল হোটেলের খাবারের সাথে ঘরের খাবারে রসনা তৃপ্তি হবে মিলিয়ে মিশিয়ে ‌... কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ দুই প্রদেশের মিল মিশ ভাল চোখে দেখলেন না ... অগত্যা পরের জন্য তা ঘরে ( হোটেলের) রাখা হল ... পরে সে সব বিন ( dustbin) মুখী হলো সঙ্গে করে নিয়ে গেল আমার দুখান চামচে ... ওরা ওদের নাম স্বার্থক করে খাবারের চামচা হয়ে ভিন দেশে রয়ে গেল 😝। আমরা চট জলদি খেয়ে আরেক কম ধড়াচূড়োয় সজ্জিত হয়ে রাজার বাড়ি দেখতে চললাম ‌। আমাদের দুখান গাড়ির ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৬০ মন্দারমণি ও দীঘা ঘোরার ফাঁকে ফাঁকে ই পরবর্তী বেড়ুর ভাবনা কে গড়ে পিঠে নেওয়ার কাজে লেগে পড়লাম। অনিন্দ্য আর দেবাশ্রিতা কে ভাবনা transfer করে প্রাথমিক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ফেললাম। পথ তখন অনেক বাকি । মা বলতেন , লাখ কথা না হলে নাকি বিয়ে হয় না , আমার তো এক‌ই কথা মনে হয় বেড়াতে যাওয়ার স্থান, কাল ও পাত্র নির্বাচনের প্রাক্কালেও।  সাগর পাড় থেকে ফিরে বারংবার মিটিং, সিটিং ... ইটিং করতে করতে আমরা দলে ভারি করার আরো জনা কতক জোগাড় করে ফেললাম। জায়গা ঠিক হল ... আমার এক স্বপ্নের গন্তব্য উটি। তার লেজুড় হয়ে সাথে মানানসই আরো কিছু স্থান যুক্ত করা হল। আমাদের কোর্টশীপ পর্বে , তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ... ভাববাচ্যে ... কোথায় যাওয়ার ইচ্ছে ? তখন আমার ভূগোলের জ্ঞানের বেশিরভাগ সীমাবদ্ধ ভূগোল ব‌ই আর বন্ধুদের থেকে শোনা বর্ণনা য়। সেই মতন ভাবনা আর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে ঝুটি ধরে উটি কে বের করে পেশ করেছিলাম। তেনার কলেজের দল ওদিকে গিয়েছিল ... তাই আমার অপেক্ষা করতেই হল ... বিয়ের ২১শে পা দেওয়া র খান কতক মাস আগে অবশেষে গুটি গুটি উটি র দেখা মিলল। ব্যাপার টা সত্যিই গুটি গু...

স্টোন ম্যান

 ECG করতে গিয়েই সিস্টার যখন বললেন ... " স্যার আপনি কি স্ট্রেস করছেন ?" ডাক্তার বাবু দন্তবিকশিত করে বললেন ... " কৈ না তো !!!! " এদিকে অর্ধাঙ্গিনী র তখন সঙ্গীন অবস্থা। ভীতিজনক অবস্থান যার সর্বাঙ্গ জুড়ে তার কাছে এ সব ভারি ভয়ানক ব্যাপার। এদিকে বিকশিত দন্তের মালিকের হস্তগত রিপোর্ট বলছে যে তিনি স্টোন ম্যান।  চিন্তামণি হয়ে আকুল হলাম ... তিনি  হাসলেন !!! ঘরে জড়াজড়ি ও আকুলতাকে ফুৎকারে উড়িয়ে তিনি কলেজকে জড়ানোর নির্দেশ দিলেন। ভাবনা কমলো খানিক।  আমার পরিচিত সকলের অভিজ্ঞতার হাত ধরে জানলাম ... ভয়ের কিছু নাই । ছোট অপারেশন। ঘরে বলতেই খেলা গেল ঘুরে ... কে বলেছে ??? কন্যার কাছে এক সংবাদদাতার নাম শুনে পিতাশ্রী গম্ভীর হলেন।  কটা দিন চলে গেল ভয় ভীতি ছাড়া ... একদিন কইলেন ... " সব বুঝে নাও কেমন ?"  ভাবনা হাজির। দুয়ারে ভাবনা ... এ আবার কেমন কথা ?? হাঁকপাক করতে করতে কলেজ গেলাম। সকলে এক বাক্যে কইল ... নিজ্জস ভয় দেখাচ্ছে। শুধু কলেজ নয় আরো খান কতক বন্ধুগণ বললে ... একটু যদি চিন্তিত না হও, চলে ??? ডাক্তার বাবু চিন্তিত করে তোমাকে মাপছেন!!!  এদিকে সব কিছু ই অজানা। যা জা...

বাধ্যতামূলক বাধ্যতা ?

 এক এক জগতের এক এক ধরন ধারণ । হাসপাতাল বলো কায়দা করে নার্সিং হোম ( বেসরকারি হাসপাতাল) বলো সে জগতের সাথে পরিচয় আমার দু ভাবেই বেশ পাকাপোক্ত। বৈবাহিক সূত্রে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগে ভাগেই মা কে নিয়ে চিকিৎসালয়ে যাতায়াতের হাতেখড়ি হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি এলেন ‌‌.... তখন তিনি ছাত্র। শিশুমঙ্গলের আবাসিক। DNB পাঠরত। ছাত্রাবাস থেকে সপ্তাহান্তে আসতেন , বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহরে তা দিতাম । মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিখ্যাত গান বাজতে থাকত। একদম appropriate গান ... এসো এসো এসো প্রিয়, এসো আমার ঘরে ‌... 😃 এরপর গঙ্গা য় অনেক জল বয়ে গেল ... দূর থেকে নার্সিং হোম কে দেখতে দেখতে পুপের আগমনের মাস দুয়েক আগে এক সমস্যা র জন্য observation এ গেলাম। একদিন শুয়ে , বসে লেজ নাড়িয়ে চলে এলাম । পরের বার তো পুপে দেবীর আগমন উপলক্ষ্যে হাজিরা ... বিস্তারিত জ্ঞান বোঝাই হয়ে ছানা কোলে ঘরে ফিরলাম। নার্সিং হোম এর ধরন দেখার মতন শরীর ও মন তখন নেই। ঘুম পূরণ হতে না হতেই কখনো গোলাপী তো কখনো সবুজ তো কখনো নীল পোঁটলা করে পুপেকে আমার কাছে দিয়ে যেতো নার্সারি র সিস্টার। বিকেল থেকে সবাই আসতেন দেখতে ... বেশ দর্শনীয় ব্য...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৯

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৯ হতাশ অবসন্ন শরীর মন নিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম সকলে। শরীর তখন হা ক্লান্ত। অবসন্ন শরীরে হাল্কা ঘুম দখল নিতে শুরু করল ; কারণ আমরা দীঘা ত্যাগী হয়ে ফেরার সেই সাগর পার দিয়ে পাড়ি জমানোর পথ ধরব ধরব করছি। আলো আঁধারের বুক চিরে নোনা হাওয়ার ঝাপটায় ঘুম আরো চোখের পাতায় আঠা মাখাচ্ছে। হেনকালে ঘুম জাগরণের মাঝে কানে এল চা পান বিরতির কথা ; এবং অত‌এব এক চায়ের ছাউনি র সামনে নেমে পড়লাম একে একে। আমরা দেবা-দেবী ক্ষতিকর দুধ চা , বাকি সব কলরব করে আগা পাশতলা লালা চায়ের গুণ কীর্তন করতে করতে নানান দল নানান চা পান done করলাম। বিয়ের পর খেয়ালে করে দেখেছি ; যে , খাদ্য তালিকায় আমার অপছন্দের খাবার নেহাৎ ই নগন্য । বৈবাহিক জীবন তখন নবীন ; খাবারের ভাগযোগ জনিত ‌হৃদয় বিদারক কথা কারে ক‌ই প্রাণসখা ছাড়া ? কি নিষ্ঠুর !!!! খান কতক দিন দুখের কথা নিবেদনের পর বলে কিনা ... " কোন খাবার টা ভালবাসো না বলো দেখি ? কোনটা কিঞ্চিৎকর হলেও মনে দুঃখের বাণ ডাকবে না ? " তো এখন আমি এত বছরে একদম লিস্টি করে ফেলেছি ‌.... কি কি খেতে মোটেও ভালবাসি না । এখন চোখ বুজে বলে দিতে পারি ‌... দিন শুরুর হোক বা পরের হোক ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৮

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৮ সাগর দা র আয় আয় ডাকে তো হাঁটা দিয়ে অনেক খানি পাড়ি দিয়ে তবেই তাকে ছুঁতে পারলাম। কিন্তু তিনি বেশ উত্তপ্ত। কখনো এত দেরি করে সাগরের কাছে আসিনি। উষ্ণতা বাড়িয়ে আমাদের সাদরে গ্রহণ করলেন । এর আগে গরমাগরম রোদের মাঝেও জলে নেমে ভারি আরাম পেয়েছি , এবার মনে হল যেন গা স‌ইয়ে নেওয়া কোন উষ্ণ প্রস্রবণে নেমেছি। এমনিতে পায়ের পাতা ডোবানো জলে যদিও আমি স্বচ্ছন্দ ; বাকি দের উৎপাতে প্রতিবার জলকে চল যেমন হয় , তেমন হয় দূরকে চল । এবার‌ও এক‌ই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও পিছনে বিকেলে দীঘার মন্দির দর্শন নামক হুড়ো চালু ছিল তাই রক্ষে !!!!  বয়সের সাথে সাথে খানিক খানিক সাহস অর্জন করেছি ; কোলাঘাটের পুলে তার প্রমাণের ছবি জ্বল জ্বল করছে ; কাজেই সখাকে চেপে ধরে খাবি খেতে খেতে নোনা জল খেতে লাগলাম ভরপুর। তবে গরম জলে আরাম নেইকো। জলে জলীয় প্রাণীর বেশির ভাগ তখন হোটেলের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরাতে মধ্যাহ্ন ভোজনের পরবর্তী ভাতঘুমের আবেশে আবিষ্ট। খানিক নোনতা গরম পানি তে নাকের জলে চোখের জলে হয়ে বুঝলাম সাগরের ঢেউ জোড়া কাব্য তখন ভয়ানক গরম গদ্যের আকার প্রাপ্ত হয়েছে। আমি গুটি গুটি সাগর পাড়...

প্রতিবাদ

                                                                            প্রতিবাদ                                                                       শুচিস্মিতা ভদ্র "এখন ঘোর ভাঙেনি তোর যে, মেলেনি তোর আঁখি"- অনেক দিন পর গানটা FMএ শুনে তন্ময় হয়ে গেছিল লালিমা। বাবার বড়ই প্রিয় গান ছিল এটা।সকালে ছোট্ট লালিমাকে ঘুম থেকে জাগানোর পর আধো ঘুমন্ত , আধো জাগন্ত লালিমাকে প্রায় ই কোলে নিয়ে মজা করে ভরাট ও দরাজ গলায় গানটা গেয়ে উঠতেন শীর্ষেন্দু।বাবা আজ নেই, প্রায় বছর ঘুরতে চলল।সময় নদী যে কখন বয়ে গেল ? লালিমা টেরই পেল না।এতগুলো দিন যে কি ভাবে কেটে গেল বাবাকে ছাড়াই , ভাবলে লালিমা, বাবার আদরের লালি অবাক হয়ে যায় ! অথচ এটাই সত্য।দিন চলে য...

স্মৃতি টুকু থাক

                                                          স্মৃতিটুকু থাক সমুদ্রের জলে ফসফরাস থাকে, তাই এত রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে পাড়ে জলরাশির আছড়ে পড়া এত দূর থেকেও রত্নাকর দেখছেন।একের পর এক ঢেউ আসছে, আবার আসছে, আবার আসছে........।অবিরাম এর কোনো শেষ নেই। এখন রাত প্রায় দুটো, রত্নাবলী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।কিন্তু রত্নাকরের আজ ঘুম আসবে না । কী অদ্ভুত নাম "রত্নাকর"।বাবা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন ? এই প্রশ্ন করলে শুধু হাসতেন, কোনো উত্তর দিতেন না । স্কুলে, কলেজে , বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বত্র বন্ধুরা নামকরণ করে করে দিয়েছিল।এমনকি কলেজের মানব স্যার ও দস্যু রত্নাকর বলে সম্বোধন করতেন। এক এক সময় খুব অভিমান হোতো বাবার ওপর। আর কী অন্য কোনো ভাল নাম ছিল না !!!! একদিন কাছে ডেকে মানব স্যার বলেছিলেন "নামে কিবা আসে যায় !!! যে রত্নাকর সেই তো মহা কবি বাল্মীকি, তা কী ভুলে গেছো ?"  খুবই শান্ত শিষ্ট ছিলেন। রত্নাবলী র সাথে যখন বিয়ে হলো, তখন বাসরে শ্যালিকারা নামটি নিয়ে মজা করা...

তরুণ তুর্কি

                                                                       তরুণ তুর্কি                                                                     শুচিস্মিতা ভদ্র পল্টন , ঘন্টাই , গুণগুণ, রুণি, পুটাস, পটাই , মাম্পা এমন সব অদ্ভুত নামীদের নিয়েই "তরুণ তুর্কি" যাত্রা শুরু করেছিল বছর তিনেক আগে । তবে ভাগ্যিস এ সব এদের ডাক্ নাম । তো যে কথা হচ্ছিল ..... "তরুণ তুর্কি" কি কোনো খেলার দল ? নাকি কোনো ক্লাব ? নাকি সমাজ সেবা মূলক সংস্থা ??  হযবরল যারা পড়েছ , তারা তো সকলেই কাক্কেশ্বর কে চেনা , তারা তো বুঝতেই পারছো যে এই প্রশ্নের উত্তরে কাক্কেশ্বর কি বলতে পারে ?? একদম ঠিক ধরেছ , উত্তরটা হতো .... " হয়নি হয়নি ফেলে ।"  সত্যিই ডাহা ফেল ।"...