Posts

বন্দী শৈশব

 বন্দী শৈশব শুচিস্মিতা ভদ্র  অন্ধকারে ঘরের দেওয়ালের ঘড়িটার দিকে ঘুম ভাঙা চোখে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ প্রথমে সময়টা ঠাওর করতে পারে না। আস্তে আস্তে night lamp এর মৃদু আলোয়, একটু ধাতস্থ হবার পর, সঠিক সময় টা দেখতে পায়। ঠিক , এখন প্রায় রাত আড়াইটে। আজ ও রীমি পাশে নেই। টিকলি , একটু কুঁকড়ে পাশবালিশ জড়িয়ে অঘোর ঘুমে , হয়তো বা স্বপ্নের রাজ্যে .....। ঘুমন্ত টিকলিকে বড়ো মায়াময় লাগে।  আজকের সন্ধ্যার ঘটনায় অনিরুদ্ধ , যারপরনাই হতবাক ও চিন্তিত। বাড়িতে ঢুকে অন্ধকার ঘরে মা আর মেয়ের বিষন্ন রূপ দেখে, খুব দুশ্চিন্তা হয়েছিল। পরে রীমির কাছে, বিষন্নতার কারণ শুনে এত অবাক হয়েছিল !!!! পরে হতবাক.... হতাশ.... চিন্তা .... সবের জগাখিচুড়ী একটা অনুভুতি নিয়ে দিনান্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এখন ঘুম ভাঙার পর সেই mixture feelings টা আবার মাথা চাড়া দিচ্ছে।  অনিরুদ্ধ ওদের শোয়ার ঘরের বাইরে এসে , বসার ঘরে উঁকি দেয়, রীমি নেই। পাশের ছোট ঘরে রীমির দেখা মেলে। কিন্তু একি দেখছে সে ? রীমি টিকলির স্কুলের ব‌ই, খাতা টেবিলে ছড়িয়ে বসে , একমনে কিছু লিখছে। এই ঘরটা ওদের ঠাকুরঘর। যদিও অনিরুদ্ধর জীবনে ঈশ্বরের আ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৭

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৭ ভোর হলো। দোর খুলে বাইরে বেরিয়ে পড়ার আগে ভাগেই দেবাশ্রিতাকে ফোন করলাম। সে বেচারি আগের দিনের খ্যাটনের গুরুপাক সামলাতে তখন‌ই শয্যা ত্যাগ করবে না ; রয়ে সয়ে পরে যোগ দেবে জানান দিল। আমি স্নানের পাট মিটিয়ে ভোরের হাওয়া খেতে নদীর পাড়ে হানা দিলাম। ভোরের একটা টাটকা সতেজ ভাব দেখেছি সর্ব খানেই এক রকম। সে ইঁট কাঠের জঙ্গল হোক , কি নদী , পাহাড় , সমুদ্র হোক !!! সোনার বাংলা রিসর্টের নদীর পাড়ের সাজানো বাগানে তখন একজন morning walker ছাড়াও রয়েছে শুধু মাত্র অনিন্দ্য। আমি হাজির হয়ে এটা ওটা গল্প শুরু করেই জানতে পারলাম ... একটু আগেই অনিন্দ্য, ওদের রুম সংলগ্ন বারান্দায় বন্দী হয়ে পড়েছিল। যদিও এক তলা তাই‌ ঘরবাসীরা নিদ্রা থেকে জাগরিত না হলে একটু শারীরিক কসরতের দরকার পড়তে পারত ; যা অনিন্দ্য র বন্দী দশা ঘুচিয়ে দিতো নিশ্চিত। এখানে তেমন কাজ কারবারের দরকার পড়ল না । শ্যামের ডাকেই নিদ্রা ত্যাগ করে রাধা দোর খুলে ফের নিদ্রা গেছেন।  ভোরে শিশির লেগে থাকা ঘাসের পরে পদচারণা করা খুবই ভাল বলে জানি ; তবে এ ঘাস হলো গিয়ে চৈনিক ঘাস। উপকারিতা আদেও আছে কিনা তাতে চৈনিক সন্দেহ দেখা দি...

আক্কেল সেলামি

 " দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম ...." এই সব প্রবচন শুনতে শুনতে জীবনের পথ কে না চলেছে ? কিন্তু সব প্রবচন মরমে পশে তখন‌ ই যখন যাতনা অঙ্গ জুড়ে হাজিরা দেয়। মা বলতেন , তোর কবে আক্কেল হবে ? হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি এসে সব আক্কেল প্রকাশিত হল। প্রথম দেখা দিয়েছিল নতুন সম্পর্কে আবদ্ধ হ‌ওয়া র বছর চারেক কি পাঁচেক পরে। কন্যার আগমন তখন‌ ও ঢের দূরে।  বিয়ের পর কার না আক্কেল হয়েছে ? ওই বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠান আক্কেল দানকারী হিসেবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত। আমার‌ ও হল। Maxillofacial surgeon যখন আক্কেল মুক্ত করলেন , চাপ তেমন বোধ করি নি। শিশু মঙ্গলের আউটডোরে দন্ত বিশারদ চিকিৎসকের সামনে চক্ষু মুদে হাঁ করলাম ‌...  মুখখানা শুধু অবশ হল , আক্কেল গেল । বাকি আক্কেল তখন গুপ্ত স্থানে আসীন। আমিও সখার হাত ধরে আইসক্রিম খেয়ে ও সাথে বার আইসক্রিম নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। No চাপ at all !!!  বছর গড়িয়ে চললো , আবার নানান দাঁতে দন্তশূল । চিকিৎসা চলা কালীন বছর ৩/৪ আগে আক্কেল গুড়ুম। আক্কেল যে একের অধিক তাই তো ছাই জানতাম না। নিশ্চিন্ত ছিলাম যে সে তো তুলে ফেলে দিয়েছি !!! পর পর ধাক্কা। জানলাম হাতে থুড়ি মুখে আরও তিন উঁ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৬

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৬ কোলাঘাটের হোটেল বলো এখনকার কায়দার রিসর্ট বলো ; সে এক এলাহি কায়দাবাজির খাসমহল। কায়দা আগে থাকলেও খানিক খানিক ঘরোয়া ভাব‌ও ছিল বা ; সে সবের পরোয়া না করে পুরো দস্তুর পর পর ভাবের বাতাবরণ হয়েছে দেখলাম। পৌঁছে গেলাম সেথায়। রিসেপশনে ফ্যাশন সো হচ্ছে নাকি দ্বিধা দ্বন্দে মন দোদুল্যমান হল। কিছু পরিধেয় দেখে ব্যোমকে চমকে ট্যারা হয়ে গেলাম। দেখলাম,বুঝলাম ও জানলাম যে এখনকার হিসেব মতন আধুনিক হওয়া আমার আর হলো না। তবে আমার থেকেও ওজনদার মহিলা ধরাধাম আলো করছে দেখে আগের ভাবনায় যতটা মুষড়ে পড়েছিলাম সেটা কেটে গেল। তবে ওজনদার মহিলা গণের সাহসী পোশাক পরার ব্যাপারটা বেশ চলমান হয়েছে তার জ্ঞান প্রাপ্ত হলাম।  মধ্যে মধ্যে সময় বয়ে গেল । আমরা ঘরের দখল পেলাম। পাশাপাশি। আমার তখন আরেক রাউন্ড ক্ষিদে চাগিয়ে উঠেছে। সাথের বাকিদের সঙ্গ গুণ নয় তো কম খেয়ে রওনা হওয়ার দরুণ তখন পেটে আগুন জ্বলছে। ঘরে দেড় দিনের সংসার সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু তাৎক্ষণিক খাবারের অর্ডার দিয়ে আমরা বাহিরে পুলে র দিকে যেতে মনস্থ করলাম। যদিও আমি স্থলে স্বচ্ছন্দ সব চেয়ে বেশি। কিন্তু পড়েছি যে যবনের হাতে ; রক্ষে...

মুম্বাই জমজমাট

  মুম্বাই জমজমাট   আমাদের বিয়ের বছর চারেক পর আমরা মুম্বাই গিয়েছিলাম। যাওয়ার মাস চারেক আগে থেকেই চাপানউতোর চলছিল জায়গার বাছাই নিয়ে । মুম্বাই যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মত ছিল অজন্তা , ইলোরা হয়ে মুম্বাই গমন । ওদিকের মতামত ছিল ভিন্ন ... খাজুরাহো হলে কথা ছিল অন্য, বৌদ্ধ, জৈন আর হিন্দুদের গুহা স্থাপত্য দেখার কোন মানে নাকি নেই !!! কিন্তু মুম্বাই ঘুরে গোয়া যাওয়ার মানে আমি বিনা চশমাতেও পষ্টাপষ্টি বুঝেছিলাম । মন ভার , মুখ ভার ... মন খারাপের দিস্তা নিয়ে স্মৃতি হাতড়ে স্কুলের বান্ধবীর অজন্তার বর্ণনা চিন্তা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলাম .... অতঃপর ভাগ্য সুপ্রশন্ন হল বলতে হবে ... কর্তা মশাই রাজি হলেন অবশেষে । আহা !! মোটেও গিন্নির মুখ চেয়ে ... এমন ভাবার কারণ নেইকো । ওই চাপানউতোর কালে বলা ভালো হেনকালে মুক্তি পেল সন্দীপ রায়ের পরিচালিত " কৈলাশে কেলেঙ্কারি " । আমরা দেবাদেবী দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহে দেখতে গেলাম ... দেখলাম...মন জয় করলো কিনা সিনেমার ইলোরার গুহা মন্দির !! ভাবা যায় ?? সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে , বাড়ি ফেরার পথেই বলতে শুনলাম... " এবার অজন্তা ইলোরাটা ঘুরে আসি...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৫

 বেড়ানোর কথা ভাবতে মানা নেই কোনো। অর্থাৎ কিনা মানস ভ্রমণ। এ বছরের গোড়ার দিকে কর্তামশাই অন্যের অপারেশন করার বদলে নিজের অপারেশন করালেন। শরীরে খান কতক গুড়ি গুড়ি পাথর যুক্ত হয়ে , বিস্তর সমস্যার সৃষ্টি করছিল। অতএব দাও তাদের বের করে !!! সে সব মিটতে , দুজনায় ঠিক করলাম , এ বছর এখন আর ঘুরতে যাওয়ার প্রশ্ন না তোলাই ভাল । অপারেশনের পরে বেড়ানোর রেশনে তখন টান। খানিক সামলে সুমলে একটু দূরের দিকে যাওয়ার কথা ঠিক হল পরের দিকে। যদিও তার রাফ ওয়ার্ক এখন বিশ বাও জলে । হেনকালে তেনার ছোটকালের পাড়াতুত বন্ধু বেড়ানোর পোকা কে টোকা দিয়ে জাগিয়ে দিল .... কিন্তুক মনস্থির করার পরেই সে বেড়ানোর গাছে তোলার মই সরিয়ে অফিসের টুরের গপ্পো শুনিয়ে হাওয়া হলেন !!!! এদিকের জন তো গাছে বসেই গর্জন করে ব্যক্ত করলেন যে , হাম জায়েঙ্গে জরুর। রেগে গেলে ইংরেজি অথবা হিন্দি বলার দস্তুর থাকলেও তিনি নির্যস বাংলাতে বলে দিলেন যে যাবোই যাবো। কেউ যাক না যাক !!!  দুঃখের কথা বলি কারে ??? কন্যা তার সর্বক্ষণের সঙ্গীদের সাথে বেড়াতে কিঞ্চিত বোর ফিল করে কিনা কখনও খোলসা করে না বললেও "তিন জনে যাব শুধু !!!" বললে একখান দুখী রামের...

কুট্টুস কথন

 আজ একটা অন্য গল্প বলি .... সবাই নয় না-ই শুনলো থুড়ি পড়লো , কেউ কেউ তো পড়বেই। তো যা বলছিলাম .... আমার ছোটবেলার প্রথম পুষ্যির কথা। আমার বন্ধুরা সকলেই নামে তো বটেই , কেউ কেউ আবার রীতিমত তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে ও চেনো। হ্যাঁ , একদম ঠিক ধরেছ আমি কুট্টুসের কথা-ই বলছি। ওর আগে কিছু পোষার শখ থাকলেও , মায়ের অনুমতি মেলেনি। তাহলে কুট্টুস -ই বা এলো কেমনে ?? সেটা ই হলো ওই কুট্টুস নামের মতোই ছোট্ট একটা গল্পের হাত ধরে। কুট্টুস ছিল একটা কাঠবেড়ালি। ওই যে ছোটদের ছড়ার বই এ দেখেছিলাম , পড়েছিলাম কাজী নজরুল এর জবানীতে.... " কাঠবিড়ালি, কাঠবিড়ালি পেয়ারা তুমি খাও ??? " সেই পরিচিত একরত্তি ছোট্ট প্রাণী। সরস্বতী দির ছেলে একদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঝড়ে পড়ে যাওয়া ছোট্ট বাচ্চা কাঠবিড়ালি কে পেয়েছিল , আমাদের পিছনের পাড়া আমবাগানের রাস্তায়। বাড়ি ফিরে সে তার মাকে দিয়েছিল .... তারপর হাত বদল হয়ে মায়ের জিম্মায়। খাওয়া শেখেনি। আমাদের খাবার টেবিলে একটা খবর কাগজে ওকে রাখলাম.... দক্ষিণের জানলার হাওয়ায় কাগজ সহ সে উড়ে যায় আর কি !!! এতোই ক্ষীণজীবি তখন। তুলোয় ভিজিয়ে দুধ খাইয়ে তিনি ক্রমে শক্...