Posts

 অবসাদ .... কথাটা আজকাল খুব শুনতে পাই। আমরা আজকাল মাঝে মাঝে ই বলি , খুব ডিপ্রেস্ড লাগছে । কেন ? আমরা কি খুব একা হয়ে যাচ্ছি ? মন খুলে কথা বলার লোক নেই? নাকি আজকের অনেক কাজের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছি কূল হারা সাগরে ? কিন্তু কাজের ধরণ বদল হলেও কখনো ভেবেছি কি , আগেকার মানুষের কাজ কম ছিল না, আর তাদের কায়িক পরিশ্রমের কথা নাই বা বললাম। তাহলে কি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করবো না ? ফিরে যাবো পুরাতন দিনে ? মোটেই না, এগিয়ে যাওয়া , নতুন কে , ভালো-কে গ্রহণ করার মধ্যেই তো সামগ্রিক উন্নতি ।  কিন্তু তার পরেও ভাবতে হবে .... কবি গুরু বলেছেন... " তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে, আমায় কভু, ক্ষণিক তরে , আজি হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে,আমি সাঙ্গ করবো পরে...." কি সুন্দর ভাবনা । এই তুমি হতে পারে যে কোনো প্রিয় জন। মা, বাবা, সন্তান, বন্ধু , দিদি, দাদা , স্বামী , স্ত্রী অথবা অন্য কেউ। নিজের মনের আনন্দ, কষ্ট যে শুষে নেবে এক লহমায়। আমার ও মায়ের অনেকটা এমন রসায়ন ছিল। আমি চলে যাওয়ার পর মা আস্তে আস্তে অবসাদগ্রস্ত হয়েছিলেন , বিশেষ করে আমাদের পোষ্য সারমেয় চলে যাওয়ার পর যা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। যদিও ম...
 "হাতে কালি , মুখে কালি  বাবা আমার লিখে এলি ?" ... ছোট্ট বেলায় স্কুল ফেরৎ অনেক পড়ুয়াদের এমন দশা নিয়েই কোন আদ্যিকালে যে এই ছড়া কাটা হয়েছিল, কে জানে ? মায়ের মুখে শুনতাম। যদিও ওমন ধারা আমার ক্ষেত্রে হলেও, তুলনায় কম হোতো । একটু ঠাণ্ডা স্বভাবের জন্য কালি ঝুলি মেখে কালিন্দী হয়ে বকুনি খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। আমার বকুনি ছিল দীর্ঘমেয়াদী খাওয়া বিষয়ক । যাক সে কথা । তো কথা হচ্ছিল কালি নিয়ে । আমাদের অক্ষর পরিচয় হলো , হাতে এলো পেনসিল । লেখো , ইরেসার দিয়ে মুছে ফেলো , ভোঁতা হলে শার্পনার দিয়ে কেটে ফেল । ছোট হয়ে গেলে মায়ের ভাঁড়ার থেকে আরো নতুন পেনসিল চেয়ে নিলেই হোলো । কি সুন্দর সহজ সরল ছোট্ট জগত । নিজের সেই সব অমূল্য সম্পদ রাখার জন্য রঙ্গীন একখান্ পেনসিল বাক্স !!! ভাবা যায় ??? এর পরে হঠাৎই চোখে ধরা দিল আরো সম্মানজনক পেন , যদি ফাউন্টেন পেন হয় ... তাহলে তো কথাই নেই!!!
 কাজ, কাজ আর কাজ। বলা যায় কাজ সাগরে / মাঝারে ডুব দিয়েছি .....তবে অরূপরতনের আশা নিয়ে নয় একেবারে-ই । তবে কিছু অরূপরতন মিলেছে ... ওজন নামক অবাধ্য ব্যাপারটা বাধ্য হয়েই কিছু টা কমেছে অথবা আর বাড়ে নি , পুরোনো কিছু হারানো বিষয় আবার ভুস্ করে অনেক দিন পরে ভেসে উঠেছে । তবে নিশ্চিত সবাই, যে , আমরাও পারি । বিদেশে যারা প্রবাসী , তারা আগেই দেখিয়ে দিয়েছেন যে , তারা কি, না পারে একা হাতে !! আমরা তখন বলেছি যে , ওখানে সহজেই সব করার উপায় হাজির। এখন কিন্তু বলতেই পারি , আমরা কি না পারি !!!  ঘরের সবাই এখন সকল কাজের কাজি আর বাঁধা বাঁধন ছাড়াই সব কাজে হাত লাগাই আমরা। নিরূপায়.... । কাজ আর অকাজ দিয়ে আতঙ্কিত মনকে যতটা চাপা দেওয়া যায় আর কি !! "জগত জুড়ে ভয়ের মেলা, ভয় ভেঙে দাও প্রভু ".... এ এখন আমাদের সবার আকুতি। এই ভয়ের রাজ্যে আমার কর্তা এখনো ধীর , স্থির এক‌ই রকম , কি করে ?? জানা নেই। চুপিচুপি হয়তো বা অতোটা ধীর নয়। আমার ভয় ব্যাকুলতা যদি beyond control হয়ে যায় ,ওকে দেখে !!! এ হয়তো তার জন্য করা কড়া সংযম ।  আমি সবকিছুর মাঝে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে ভয়কে নিজের মধ্যে ঢুকতে দেবো না ,...
 ভ্রমণ যখন গল্প  শুচিস্মিতা ভদ্র  কথাটির আক্ষরিক অর্থ যে ঘুরতে যাওয়া / পর্যটন / বেড়াতে যাওয়া তা আমরা সকলেই কম , বেশি জানি । আরেক ধরনের ভ্রমণ হয় মনে মনে । কবি বলেছেন যে , কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে । খুবই সত্যিই। মনে মনে আমরা স্বদেশে , বিদেশে , কল্পলোকে যে কোন স্থানে ভ্রমণ করতে পারি । এ ধরণের ভ্রমণের সুবিধা অসুবিধার কথা আলোচনা না করে , একটা কথা বলাই যায় এমন মানস ভ্রমণ তো বটেই, যে কোন বেড়ানোর খুঁটিনাটি তথ্য বোঝাই বই পড়তে ভ্রমণ পিপাসু মন সব সময়ই রাজি । মনের ভ্রমণকে বাস্তবায়িত করতে হলে এমন একজন সঙ্গীর দরকার সব সময়ই। এমন , সঙ্গী বলো , বন্ধু বলো আর কে বা আছে বই ছাড়া ? বর্তমানে অবশ্যই আছে আমাদের মুঠোফোন, যাতে নেট ঘেটে বেড়ানোর আদি অন্ত সবই আমাদের নখদর্পনে , তবুও বই এর, কোন বিকল্প হয় না । তাই আজও ভ্রমণ কাহিনী , ভ্রমণ পত্রিকা হারিয়ে যায়নি । নতুন নামে , নতুন মোড়কে ভ্রমণ সাহিত্য আজও চির নবীন।  মানস ভ্রমণের পিছনেও থাকে কোন না কোন রসদ , যেমন সত্যিকারের শোনা কোন বেড়ানোর গল্প, কোনও বইতে পড়া অথবা ছবিতে দেখা বেড়ানোর ইতিবৃত্ত , এ ছাড়া আছে দূর...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৪ অপেক্ষার প্রহরে তা দিতে দিতেই একে একে ওর্ডারী খাবার সার বেঁধে ওয়েটার দের হাতে হাতে হাজির হল এবং নিমিষের মধ্যেই ঘরের ছোট টেবিলখান হাঁক পাড়ল ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই রবে। খাটের ওপরে একখান বাড়তি কাপড় পেতে সেখানেও কিছু প্লেট স্হান পেল !! ভাগ্যিস আমার মায়ের আমলের অথবা তেমন ভাবনার কোন অংশীদার সাথে ছিলেন না ... বকুনির ঠেলায় খাবারকে যাবার পথ দেখিয়ে, ওই চাদর আদর করে কাচাকুচি করতে হোতো !!! আর মা থাকলে প্রথমেই কপালে করাঘাত সাথে বাক্যাঘাতে আমি সহ সবাই হতাম কাত !!! আমি যেমন পুপেকে কিছু শেখাতে পারছি না ভেবে আকুল হচ্ছি , মা কেঁদে আকুল হতেন তার শিক্ষার অবস্থান বিছানা নিয়েছে দেখে !!! বিছানা যে সিনিয়র ও জুনিয়র ছানাদের শোয়া / বসার জায়গা , খাবারের স্থান না , তা আমরা সবাই জানি , তবে কিনা বেড়ানোর সময় অনেক নিয়ম নাস্তি হয়ে যায় আর তাতেই মেলে স্বস্তি !!!  খাবারের বহর দেখে দিবাকর সহ আমিও আঁতকে উঠলাম !!! যদিও ওর্ডার প্লেস করার সময় আকাশ খাই , পাতাল খাই এমন ক্ষিদে পেটে করতাল বাজাচ্ছিল। তবে এমন রাজকীয় লাইন লাগানো খাবারের খান দুই প্লেট আর কোনোমতেই কারোর পেটেই জায়গা বের ...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৩  রাজগীর অর্থাৎ অতীতের রাজগৃহে আমরা হোটেলে পৌঁছলাম। শহরের জনবহুল এলাকাতে হোটেলের অবস্থান। হোটেলের ঘরে ঢুকেই গোলোযোগ চরমে উঠল। কারণ পাশাপাশি ঘরের একখানের সাজনগোজন বেশি তা নিয়ে ছোট দুজনের কাজিয়া। বলা ভাল আমার কন্যার মতামত চরমে। ওদিকের সিদ্ধার্থ তার স্বভাবসিদ্ধ ধারা মেনে মুখে মেঘ জমিয়ে ঠিক পাশের অল্প সাজানো ঘরে ফিরে গেল। ঘটনা খান চাক্ষুষ করে আমার মেজাজ সাই সাই করে উঠে গেল গরমে। মন ভেঙে খান খান হয়ে গেল !!! এ কি কথা বলো দেখি ??? একসাথে বেড়ানোর মানে কি শুধুমাত্র দর্শন। নেই কোন শিক্ষণ ?? আমরা একবার কুচে পুপেকে নিয়ে হাজির হয়েছিলাম আগ্রাতে, দুখান ঘরের একখান হোটেল মালিকের মুনাফা বাড়াতে দু দিকের সারবদ্ধ হোটেল রুমের মাঝের চৌকোনা হলের মাঝে অবস্থিত ছিল .... দেখলেই বোঝাই হয়ে বোঝা যায় পরে এ ঘরের সংযোজন, ফলে জানালা নেই কোনো। ছাদের কাছাকাছি একখান স্কাইলাইট ছিল কি ছিল না , আজ সময়ের তলে চাপা !!! তবে দিনমানেও আলো না জ্বালালে সে ঘরে ৩৬৫ দিনেই রাতের অবস্থান ঘাটি গেড়েছিল । সেই ঘরে আমাদের তিনজনের বিশেষ করে ছোট জনার হুটোপুটি করতে অসুবিধার কথা মাথায় রেখে , সত্য দা রা ...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫২ রাত পেরিয়ে দুয়ারে হাজির হল আরো একটা ঝকঝকে তকতকে দিন। বেড়াতে গেলে দিনক্ষণ আর বারের হিসাব বরাবর থাকে না আমার। তা আবার ফেরত আসে ফিরতি পথ ধরে ধীরে ধীরে। যাওয়ার দিন আর ফেরার দিনের মাঝে পুরো সময়টা বেহিসেবী । যার খেয়াল রাখেন এ দিকের তিনি। তেনার বেজায় খেয়াল। সেদিন আমাদের সকাল সকাল বোধগয়ার পাট গুটিয়ে নালন্দা ঘুরে রাজগীর যাওয়ার কথা । থাকার কথা পূর্ব নির্ধারিত নালন্দা রেসিডেন্সিতে। যেটির অবস্থান রাজগীরে। রাজগীর অর্থাৎ রাজগৃহ পুরাণ আর ইতিহাসের এক খিঁচুড়ি সমৃদ্ধ স্থান। সেই খিঁচুড়ির সহযোগের ঘৃত বলো ভাজা বলো তা হল আমার একান্ত আপন কিছু অতীত স্মৃতি। যা ক্রমশ প্রকাশিত হোক। এখন চলি রাজগীরের দিকে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথের ধারের গল্পেরঝুলি উপুড় করতে করতে।  পেটকে সকালের খাবার সহযোগে শান্ত করে , সব গুছিয়ে নিয়ে বেলা নয়টা নাগাদ বেরিয়েই পড়লাম নালন্দার উদ্দেশ্যে । ম্যানেজার সামনে , দুই ছানা সহ রূপা মাঝে , ঝটতি পড়তি বাকি দুই পিছে নিজেদের গুছিয়ে বোধগয়াকে টাটা করলাম। গাড়িতে ভোজপুরি সুরবাহার ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই আমরা বলি ও টলি উডকে youtube মারফত ধরে ফেললাম।...