বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪০ পৃথিবী যে গোলাকার তার প্রমাণ কিছু না কিছু ভাবে মিলতেই থাকে। কন্যার বান্ধবীর মায়ের পরিচিত এক কাশ্মীরের বাসিন্দার সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল ওখানে যাওয়ার বেশ কয়েক মাস আগে । পরে জানা গেল , আমাদের বেড়ানোকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার কাণ্ডারী সুমিত দা ( ট্রাভেল গাইড ) ওনার পরিচিত । আর আমাদের অজান্তেই আমরা নাজির ভাই এর হাউস বোট ও তার পাশের হাউসবোট বুক করেছি , সুমিত দা র মাধ্যমে । নাজির ভাই , অনুত্তমার ( কন্যার বান্ধবীর মাতৃদেবী ) রেফারেন্সে আমাদের সাথে শ্রীনগর পৌঁছনোর পরের দিনেই ব্যক্তিগত ভাবে এসে হোটেলে দেখা করেন । আমরা ওখান থেকে ফেরার পরেও যোগসূত্র ছিন্ন হয়নি এখনও। আমরা আমাদের লটবহর নিয়ে শিকারা চালকদের খানিক হাসির খোরাক সাপ্লাই করে দুখান শিকারা চেপে ডাক লেকের রাজকীয় হাউসবোটে আসীন হলাম । হাউসবোটে পৌঁছেই বিষন্নতার সুর বেজে উঠল কারণ একখান হাউসবোটে ৬ জনার বেশি থাকার উপায় নেইকো । তাই আমরা টিম ১১ দু ভাগে ভাগ হয়ে পাশাপাশি দু খান বোটে থাকার বন্দোবস্তে ন্যাস্ত হলাম। ছোট দুই বান্ধবীর হাই মাউ আর থামেই না , হেনকালে আমার মুশকিল আসান কর্তামশাই দুই সখীকে আস্বস্...
Posts
Showing posts from 2023
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩৯ পরেরদিন সকালে সব গুছিয়ে , তা গাড়িতে সাজিয়ে শ্রীনগরের চারদিকের বাদ বাকি ঘুরে দেখার স্হান দেখতে চললাম সকলে মিলে , আমাদের যার যা বরাদ্দ সে জলখাবার গলধঃকরণ করে নিয়ে। চুপি চুপি বলি ছোট গিন্নিরা শ্রীনগরে এসেই ইংলিস ব্রেকফাস্টে ফিট করেছিল নিজেদের। শুরুর পরে পরেই চিড়েতে ভিড়লেও ব্রেক নিয়েছিল কিছু পরে । এদিকে আমরা এ যাত্রায় চিড়েতন কে সাথেই রেখেছিলাম। শুরুর দিন আর শেষ দিন বাদে চিড়ে তে চিড় ধরতে দিইনি । শ্রীনগরের সৌন্দর্যে আকুল ব্যাকুল ছিলেন মুঘল বাদশাকূলের অনেকেই। তাদের প্রতিষ্ঠিত বাগ বাগিচার মোটে একখান দেখা হয়েছিল শ্রীনগরে ঘোরার শুরুতে । বাকি গুলো না দেখলে কি আর আমাদের ঘোরাঘুরি শ্রী যুক্ত হয় ? লিস্টি মোতাবেক আমরা বাগ বাগিচাগামী হলাম । এবারেও খানিক পথ পেরিয়ে টিউলিপ বাগানের কাছেই আমাদের ছেড়ে ইমরাণ তার বাস নিয়ে জায়গা মতন সরে পড়ার পর , আমরা আটো ধরে পাহাড়ের চড়াই পথ ধরে ফেললাম। শ্রীনগর পৌঁছনোর পর হোটেলের বারান্দা থেকে দৃশ্যমান এক পাহাড়ের মাথায় একখান কেল্লা দেখে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করার ইচ্ছে চাগিয়ে উঠলেও পরে ইচ্ছেটাতে তা দেওয়া ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩৮ রাতের খাবার খেয়ে ঘরে ফিরেই দেখি আরেক বিপদ তার ডাল পালা মেলে ধরেছে ... কন্যা পরেরদিন বেরতে নারাজ । আর বাপসোহাগীর বাবা ধরাশায়ী মানসিক ভাবে । কি আপদ বলাই বলো তো ? শারীরিক মানসিক সব রকমের গোলযোগ সামলানো কি মুখের কথা ? এমনিতেই আমার আশা নিরাশার দোলচাল সর্বক্ষণ চলতে থাকে ... কিন্তু ঘুরতে বেরনোর আমি খুব আশাবাদী বটে । ভাবলাম রাত গ্যাই বাত গ্যাই হলেও তো হতে পারে !!!! দেখাই যাক না সকাল ওবধি । গরম ব্ল্যাঙ্কেটের ওমে নিজেকে সেট করে আশার ভাবনা ভাবতে ভাবতে দিনের শেষে ঘুমের দেশে পাড়ি দিলাম। যথানিয়মে সকাল হল .... আগের রাতে আমার জামাই বাবুও কাত হয়েছিলেন , সকালে খবরাখবর নিতে দিদির ঘরে গিয়ে দেখি আগের রাতের কাত জামাই বাবু সোনমার্গ যাওয়ার উৎসাহে মাত ।জামাই বাবু যা বললেন গানে গানে তার মানে দাঁড়ায় ... ছোড়ো কাল কি বাতে, কালকে বাতে পুরানী....আমি খানিক হালে পানি পেলাম । যদিও ঘরের সিনিয়র তখনও যাব কি যাব না গানের মাঝেই রয়েছে। তার মনের ইচ্ছে ... মেয়ের সাথে থেকে যাওয়ার !!! হোটেলের এক ঘরে আশার আলো জ্বালিয়ে নিজের ঘরে ফির...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩৭ বছরের এই সময়ে টিউলিপ বাগানের দোর খোলে , দেশ বিদেশ থেকে আগত টুরিস্ট ভিড় করে । এবারের উন্মাদনার পারা প্রথম থেকেই উচ্চগ্রামে বাঁধা। বাংলা তো বটেই ভারতের ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশ থেকেও জনতা জনার্দন এসেছে কাশ্মীরে, যেন কবির কথার সাথে মিল রাখতেই ... বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান । এ বারে টিউলিপ বাগানের দোর খুলেছে ১৯ মার্চ আর আমরা বাগানে পা দিলাম ২৮শে মার্চ ( ২০২৩) । মন্দির থেকে বেরিয়ে আমরা আবার অটো , টেম্পো সব পর্ব পেরিয়ে বাগানের কাছেই কিলবিলে জনতার মাঝে ল্যান্ড করলাম। চড়া রোদে তখন ঠাণ্ডার প্রকোপ বলতে গেলে নেই নেই । নেমেই ছোটগিন্নি আকুলিবিকুলি করে ফুচকার লাইন পাকড়াও করার আব্দার পেশ করে ফেলতেই, আমরা কজনা এক ফুচকাওয়ালা কে পাকড়াও করলাম .... কি সাহস আমার ?? পেটের মধ্যস্থলে অবস্থিত চিড়ের জাস্ট ওপরে একখান শুখা ফুচকা চালান করলাম। পরের বায়নাক্কায় যুক্ত হল কাঠি আইসক্রিম .... সেদিকে না ভিড়ে আমি বায়নার আয়নায় একখান লাল টুপি বাগালাম। রেশমী চুড়ির প্রতি তেমন টান নেইকো আর বায়না না মিটলে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার চিরকালের ভরসা আমার ফর্সা হয়েছে অনেকদিন , কাজেই ও...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতেগিয়েমজারু ৩৬ গুলমার্গ থেকে বেরিয়ে পড়লাম শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে , পেটে তখন সবারই বিধংসী ক্ষিদে। বিশেষ করে আমার তখন আকাশ খাই , পাতাল খাই অবস্থান কারণ সকালের শারীরিক গোলমাল ধামাচাপা দিয়েছিলাম দেবাশ্রিতার বানানো চিড়ে সেদ্ধ আর ইলেকট্রল সহযোগে । সে সব পেটের এক কোণায় থাকতে থাকতে হজম হয়ে মিলিয়ে গেছে বটে। আসার পথে নজর করে রাখা একখান হোটেলে আমাদের টিম ১১ ঝাঁপিয়ে পড়ল ... শরীর তখন বেশ গোলমালের মধ্যে থাকলে কি হবে ? হোটেলের বিপরীতে অবস্থিত পশরা সাজানো এম্পোরিয়াম মহিলাদের শরীরে গতির সঞ্চার করল। অপর দিকের ভদ্র মহোদয় গণ যেন কেমন মিইয়ে গেল আরো 🤔 । ঝটপট পাতিলেবু আর এক চামচে ডাল সহযোগে অল্প ভাত চটকে চটপট পেটে চালান করলাম, সাথের বাকিরাও হাল্কা কিছুতে পেট ভরালো ... কেনাকিনির আগাম ভয় ব্যকুলতায় নাকি (?) একসময় নজর করে দেখলাম তিনি হাল্কা ঘামতেছেন । গুরুত্ব না দিলেও পরে বুঝেছিলাম যে তেনার শারীরিক গোলযোগের সূত্রপাতের নোটিফিকেশন তখন আসতে শুরু করেছিল। তিনি এসব ব্যাপারে ভয়ানক চাপা , মাপা কথা বলার দরুণ শ্রীনগর পৌঁছনোর পর বুঝলাম যে শরীর গতিক গণ্ডোলার থেকে ল্যান্ড করার পর থেকেই বিরক্তির ঝাঁপ খুলে...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩৫ গুলমার্গের হোটেল পৌঁছনোর পর একে একে অনেকেই কাত হল । সে রাতের মতন কেউ কেউ মুড়ি চিড়ের ওপর থাকল , কেউ পেটে কিল মেরে দরজায় খিল দিলো , আমার শরীর কাত হবো হবো করলেও খেতে বড় ভালবাসি , তাই ও কিছু হবে না ভেবে রাতে হোটেলের ডাইনিংহলে গিয়ে অল্প করে ভেজ ও নন ভেজ পেটে চালান করলাম .... রাতের ঠাণ্ডার মাঝে গরম ব্ল্যাঙ্কেটের ওমে হারিয়ে গেলেও ভোর রাতে মা - মেয়ে দুজনেই একে একে বাথরুম মুখী হলাম .... এরপর আপদ বালাই বাড়তেই লাগল ... এক দিকে পেটুতে গোল অন্য দিকে কর্তামশাই এর কলরোল ... পেট গুলু গুলু সাথে বকুনির ঠ্যালায় বুক দুরুদুরু অবস্থায় খান ৩/৪ রঙ বেরঙের ওষুধ খেয়ে আমি কন্যাসহ ব্ল্যাঙ্কেটের তলায় লুকিয়ে পড়লাম। এ দিকে আগের রাতে যারা পেটে কিল মেরে নিদ্রামগ্ন হয়েছিল ... তেনারা হাজির হয়ে অনেক উপদেশ দিয়ে গেলেন । কারণ তেনারা তখন যারপরনাই ফিট। তাদের না খেয়ে থাকা হিট করে গেছে । এমতাবস্থায় মুখে কুলুপ আঁটাই দস্তুর....। হেনকালে তিনি ঘোষণা করলেন ... " যেতে হলে চলো , না হলে হোটেলেই থাকো" কাভি নেহী .... রেগে গেলে বাঙালি সব ভাষা বলতে পারে , আর রাষ্ট্...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩৪ কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেই পাইনাস রিসর্টে পৌঁছলাম। মূল পথ থেকে পাহাড়ী পথের খানিকটা হেঁটে উঠেই হেঁপোরাম হয়ে গেলাম ... ছোট্ট বাগান ঘেরা দুখান দোতলা কটেজের একখানা জুড়ে আমাদের দলের সকলের জন্য বরাদ্দ করেছেন আমাদেরসুমিত দা । কন্যার বান্ধবীর পিতাশ্রী সাদর অভ্যর্থনা জানালেন , শুনলাম বাকিরা গরমাগরম ইলেকট্রিকাল ব্ল্যাঙ্কেটের তলায় ঘুমন্ত। দিদিরা নিচে রইল আমরা লটবহর সহ ওপরের একখান ঘরের দখল নিলাম। খানিক কাঁপাকাঁপি করে গরম জলে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেস হলাম । এরপর দলের যারা যারা পরস্পর অপরিচিত ছিলাম ... আলাপচারিতা সেরে নিলাম। এসবের মাঝেই রাতের খাবার এসে গেল । দল বেঁধে খাওয়ার পর সবাই দিনের শেষে ঘুমের দেশে যাবার আগে পরের দিনের ঘুরপাক এর লিস্টি রেডি করে ফেললাম। বাইরে তখনও ঝমাঝম বৃষ্টির কনসার্ট চলছিল । বেড়ানোর সময়েও অভ্যাস বশে ঘুম ভাঙল ভোরে , তখন পুরোটাই অন্ধকার ঘুমপুরী । ঘুম জাগরণের মাঝেই একে একে সবাই জাগন্ত হল । আলো ফুটতে দেখা গেল আসে বরফ , পাশে বরফ । বরফ পড়েছে তো !! সকাল সকাল স্নানের পাট না চোকালে উষ্ণ মণ্ডলের মানুষজনের আবার সমস্যাই সমস্যা । সে সব মেটানোর খবরে আমাদের ছোট...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩৩ কাশ্মীর চিরকালের স্বপ্ন রাজ্য আর অধরা গন্তব্য। ছোট থেকেই মায়ের কাছে গল্প শুনলেও ওখানকার পরিস্থিতির খবরাখবরে জানতাম ওসব স্বপ্নে আর হিন্দী চলচ্চিত্রের গানে গানে দেখে নেব । কিন্তু ... হঠাৎই সাজো সাজো রব ... যেদিকে কান পাতি শুনি কাশ্মীরের ডাকে জনতা ধেয়ে চলেছে ওদিক পানে । দেখছি , শুনছি ... হেনকালে গতবছর কর্তা মশাই কাশ্মীরের নামের গন্ধ ছড়ানো উড়িষ্যার কাশ্মীরের নিয়ে গেলেন , বলতে নেই মন্দ লাগেনি । তবে হ্যাঁ তুলনামূলক আলোচনা তোলা থাক। ওসব ভালো নয়কো । মধ্য মার্চে গিয়ে গরমে পুরো ভাজা ভাজা হয়ে গিয়েছিলাম। এরপরের পর্ব ইতিহাস .... কন্যার বান্ধবীর মাতৃদেবীর উৎসাহে টাকা জমানোর পর্ব শুরু হলেও, হাল তো কর্তামশাই এর হাতে । মাঝে মাঝেই ঝপ করে সোমে ফিরে আসে ... খরচের দিকে তাকিয়েই এই দোলচাল । উৎসাহের সাথে সাথে মানসিক নানা রকম ভাব অভাব পেরিয়ে গতবছর দূর্গা পূজোর অষ্টমীর দিন যখন টিকিট কেটে ই ফেলা হল আমাদের ট্রাভেল এজেন্সির সুমিতদার কাছে গিয়ে ... তখন মন নেচে উঠল । সুমিতদাও ভরসা জোগালেন আর সুবিধাজনক কিছু উপায় বাতলে দিতে , কর্তামশাই খানিক ঠাণ্ডা হলেন । তখনও কিন্তু ঢের ...
- Get link
- X
- Other Apps
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৩২ ক্যালেন্ডার মোতাবেক এখন শীতকাল ,তায় আবার বড়দিনের ছুটি বলে কথা ... ফুল ফটুক না ফুটক ... এর মতন শীত আসুক না আসুক আজ বড়দিন .... বলা যেতেই পারে কি বলো ??? আমি তো মনে মনে আর জোরে জোরে সে কথা বলেছি , যদিও শীতপোষাক পরলেই মন মেজাজ মায় শরীর ওবধি ভয়ঙ্কর মেজাজ দেখিয়ে গরম হয়ে উঠছে । অতএব ওসব আপাতত সাথে থাকছে , অঙ্গে শোভা পাচ্ছে না । তো কথা হচ্ছে , বড়দিনের ছুটি সে গরম গরম হোক আর শীতের আমেজ মাখা নতুন গুড়ের গন্ধ যুক্ত হোক সে যখন হাতের কাছে এসেই পড়ল , কোথাও তো যেতে হবে !!! বিশেষ করে আগের কিছু বিপদজনক বছর পার করে বাঙালি এখন ছুটি পেলেই খপ করে তা ধরে ফেলে সুযোগ মতন দূরে বা কাছে পাড়ি জমাচ্ছে । আমার কর্তা মশাই বেশ কদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে ( কাজের , আমাদের নয় ) যেতে আকুল হয়েছেন । তবে নানা রকম কারণে দূরে যাওয়ার উপায় এবার নেই কো । অগত্যা কাছাকাছির মধ্যেই বেড়ুর উপযুক্ত স্থানের ছানবিন চালু হল । স্থির করলাম ... চন্দন নগরের গঙ্গার পাড় , শ্রীরামপুরের নতুন সংযোজন ডেনমার্ক ট্যাভার্ন আর কোন্নগরে অবস্থিত অবনীন্দ্রনাথের বাগান বাড়ি, যেটি পুরসভার উদ্যোগে ...