Posts

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৬

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৬ গ্যাংটক থেকে আমরা চললাম রাবাংলার দিকে। কর্তামশাই যদিও সিকিমে বেশ কয়েকবার এসেছেন কিন্তু তিনি সিকিমের একই জায়গা গুলোর মধ্যেই গোল গোল ঘুরেছেন নানান ক্ষেত্রের বন্ধুদের সাথে । তেনার সাথের এত বছরের অভিজ্ঞতার রেশ ধরে বলতে পারি বিস্তর গাইড সদৃশ ভাবমূর্তির উপস্থাপনা করেই আর নতুন কিছু তার দেখা হয়ে ওঠেনি সেই সব ভ্রমণে । রাবাংলা আমাদের দুজনার কাছেই অচেনা ও অদেখা। পথ চললাম দুপাশের পাহাড়ী জনপদ, পাহাড়ী সৌন্দর্য আর নির্বাচনের নিদর্শন দেখতে দেখতে । বেলা গড়িয়ে বিকেল হল । রাবাংলার পথে শুনেছিলাম পড়বে বিখ্যাত টেমি চা বাগান। কথা ছিল আমরা সেখান ঘুরে নিয়েই রাবাংলার হোটেলের দিকে রওনা দেব। সেই মতন পথের দুপাশের চা বাগানের শোভা দেখতে দেখতে মুগ্ধতার রেশ কাটাতে না কাটাতেই আমাদের বাহন চালক বিজয় ভাইয়া একখান মোড় ঘুরে প্রসস্ত রাস্তার এক পাশে গাড়ি পার্ক করলেন। নামতে নামতেই পথের বিপরীতে একই সাথে  দেখতে পেলাম বড় করে লেখা ও পাহাড়ী ধাপে ধাপে নেমে আসা দুটিপাতা, একটি কুড়ি সমৃদ্ধ রাশি রাশি চা গাছ। ইদানিং সব কিছুতেই ভালবাসা জাহির করার নিদর্শন ছড়িয়ে আছে , তাই হয়তো আসল ভালবাসা ক...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৫

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৫ পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙল যথা সময়ে । দেখি আগের দিনের তুলনায় আকাশ একটু গাল ফুলিয়েছে  , কিন্তু আমাদের গ্যাংটকের দেখা  প্রথম প্রভাতের মতন সে অতোটাও বিষন্ন নয় । মন বলল .. এ হল মানিয়ে নেওয়ার মতন মুখ ভার । তাও মনে যে সংশয়ের দোলচাল একেবারেই ছিল না ; তা নয় । তবে আস্তে ধীরে সময় এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আকাশ আরো খানিক ভার মুক্ত হলো। আমাদের হোটেল ম্যানেজারের দেখানো পথে আমরা আমাদের মন পবনের নাও থুড়ি চার চাকার বাহনে আসীন হয়ে বেরিয়ে পড়লাম জলখাবার খেয়ে। কথা হয়েই ছিল যে আমরা প্রথমেই ছাঙ্গুর পারমিট নিয়ে সেদিকে রওনা দিয়ে , বরফ দেখে আবার ফিরে আসব গ্যাংটকের হোটেলে । সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজনের পরে মালপত্র সহ বেরিয়ে পড়ব রাবাংলার উদ্দেশ্যে। সকালে বেরনোর আগেই আমাদের চাবি বন্ধ সব লটবহর হোটেলের রিসেপশনে জিম্মা করে আমরা হোটেলের ঘর ছেড়ে দিয়েছিলাম ।  অনেক বছর আগে ছাত্র জীবনে আমার কর্তামশাই বার ২/৩ এ দিক পানে ঘুরে গেছেন তার নানান সেট অফ ফ্রেণ্ডস দের সাথে ( একবার স্কুল / একবার কলেজ / একবার পাড়াতুত বন্ধুরা ) । কাজেই স্বাভাবিক ভাবেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে আর বন্ধ...
  বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৪ প্রথমদিনের গ্যাংটকে ঘোরাঘুরি একদম ভিজে ঝুপ্পুস হয়ে গেল। ঘরে থুড়ি হোটেলে ফিরে চা খেয়ে নিজেদের একটু গরম করে নিতে না নিতেই গ্যাংটকে গণ্ডোগোল .... গ্যাংটকের পার্ক স্ট্রিট সম এম.জি.মার্গে যাওয়া নিয়েই হোটেলের ঘরে গোলযোগের সূত্রপাত হতে না হতেই আবহাওয়ার মোড় ঘুরে গেল যথারীতি আমার কর্তামশাই এর দিকেই। আর ঝমঝমে বৃষ্টি আর কনকনে ঠাণ্ডার প্রকোপে আমরা তিনজনেই এম .জি .মার্গের বদলে লেপের ভিতরে গুটিশুটি মেরে ঢুকে পড়লাম আর ঘরের একমাত্র টেলিভিশনে এদিক ওদিক খিচুড়ি অনুষ্ঠান দেখতে শুরু করলাম। আবহাওয়া নানান ধ্বণাত্মক শব্দ সহযোগে দুর্যোগের জানান দিতেই থাকল । এর মধ্যেই আমার কন্যা এখনকার জ্ঞানের আধার Google বাবুর( নেট তখনও সেট ছিল )শ্মরণাপন্ন হয়ে আগামী সব দিনের দুর্যোগের ঘোষণা করে মনটা কে আরো  খারাপে ভিজিয়ে দিল । অগত্যা ভেবে নিলাম কটা দিন নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামেই কাটানো যাবে । কর্তামশাই আমার ভাবনা শুনে চোখ কপালে তুলে বলেই ফেললেন ... তোমার কি লেবেল !!!! এত খরচ করে গ্যাংটকে এলে বিশ্রাম নিতে ???? কি বলব বলো ?? নুনের ছিটে হজম করে নিলাম । তোমরাই বলো , ঘুরতে না পারার হতাশার কথা...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪৩  রাতের শেষে ভোর হলেও আলো ফুটল না । চারিদিকের চরাচর কুয়াশার চাদরে আবৃত । বেড়াতে গিয়ে এমন ছন্দ পতনের সাথে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না আদেও তাই মনের আঙিনায়  মেলা মেঘ জমে গেল । বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতির  কিঞ্চিত অদল বদল হলেও সে একদমই নামমাত্র। জানলা খুলে যদি বা দেখি আকাশের মুখ একটুখানি ফর্সা ...পর মুহুর্তেই সে ভরসা নেতিবাচক দিকে রওনা দিচ্ছিল । এ সবের মধ্যেই আমরা জলখাবারের পর্ব মিটিয়ে মোটের ওপর বেরিয়ে পড়ার ধরাচূড়ো পরে ফেললাম আর কতকটা যেন সে জন্যই বেরিয়ে পড়লাম। বেরিয়েই দেখি হাল্কা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। আমরা এগিয়ে চললাম।  আমাদের বাহন চালকের সাথে প্রথমেই আমরা পরের দিনের ছাঙ্গু ও নাথুলা যাওয়ার অনুমতি মিলবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আলোচনা শুরু করলাম । আকাশের ভাব গতিকে অনুমতিপত্রের চারদিকে বেশ সংশয়ের ঘন মেঘের দেখা পেলাম । সামনেই নির্বাচণ তার প্রচারে দু দলের ব্যস্ততার আঁচ পেলাম চলার পথে । আমরা এগিয়ে চললাম আমাদের প্রথম গন্তব্য রুমটেক মনাস্ট্রির দিকে । পাহাড়ী কিন্তু প্রসস্থ পথ ধরে একসময় পৌঁছলাম  , নেমে পড়লাম... সামনে এক জায়গায় ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪২

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪২  এ বছরের ঘুরতে যাওয়ার বাতাবরণ বেশ দুর্যোগ পূর্ণ ছিল শুরু থেকেই।  কারণ গত বছরের শেষ প্রান্তে এসে পা ভেঙে বেশ কিছু ছুটি খরচ হয়ে গিয়েছিল আর সর্বোপরি চক্ষু লজ্জার মাথা মুণ্ডণ করে আবার যাব , ঘুরতে যাব এমন সুপ্ত ভাবনাকে মনের গুপ্ত কোণা থেকে বের করার সাহস হচ্ছিল না । এখন দূরপাল্লার কু ঝিক ঝিকের টিকিট যখন তখন কেটে ফেলার উপায় নাস্তি । সাথের ভ্রমণ বন্ধুদের অসহায়তা জানানোর পর তেনারা গাল ফুলিয়ে বেরিয়ে পড়ার টিকিট টকাটক কেটে ফেললেন । আর দেখা হলেই হাড়ি মুখ আরো হাড়ি করে বলতে থাকলেন যে ... আমাদের সাথে যেতে চাও ই না !!! কি আর বলব 😥 ??  হেনকালে মেয়ের বাৎসরিক পরীক্ষা শুরু হল ... মনের মধ্যে ঝড় চলছে গুপ্ত ভাবেই। মন বলল ... দিন দুই হলেও একটু তাজা বাতাস না পেলে মন খারাপের দিস্তা কাটানোই দায় হবে !!!! কিন্তুক টিকিট তখন ডুমুরের ফুল । এদিকের লোকাল গার্জেন গর্জন করছেন , তিনি সদ্য কন্যার পড়াশোনার তরণীর হাল ধরতে দিন তিনেক ছুটি নিয়েছিলেন ... তাই ঘোরাঘুরিতে আপাতত লাগাম দিতে বললেন ।  মন বেশ খারাপ হলেও  ... একদিন ক্যালেন্ডার খুলে মুখে হাজার বাতির সাময়ি...

বেড়াতে গিয়ে মজারু পর্ব ৪১

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪১ বেড়ানোর গাড়ি কিছু সময়ের জন্য থামাতে হয়েছিল , আসলে নকলে মোদ্দা কথা হল পকেট পুরাণ। শেষবারের ভ্রমণে ভূস্বর্গের যুক্ত হওয়ার ফলে ছাপোষা বাঙালির যা হয় , আমাদেরও পকেট গড়ের মাঠ হয়েছিল। তার থেকে উত্থান পর্ব এখনও চালু , তবে মন বেশ অনেকদিন ধরেই আকুপাকু করছে । হেন কালে আপদ বিপদের প্রথম ঢেউ একেবারে আমায় খাটে শুইয়ে দিল ... পায়ের আঙ্গুল  ভাঙল । বেরিয়ে পড়ার ভাবনা আবার বাক্স বন্দী হল । পদ যুগলের একখান সম্বল করে আর যাই হোক বেরিয়ে পড়া যায় না। ক্যালেন্ডার মোতাবেক শীতকাল হাজির হল । হাড় বিশেষজ্ঞের অনুমতি নিয়ে এক শনিবারের সকালে আমরা ঝোলা ঝুলিয়ে তিন পরিবার রওনা দিলাম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের দিকে। লোধাশুলি র জঙ্গলের নাম শুনেছি আগে মাওবাদীদের গল্পের পটভূমি স্বরূপ। সকলেই রোমাঞ্চিত .... আমি সদ্য পায়ের বিপদ কাটার পরবর্তী ভ্রমণ নিয়ে বেশ চিন্তিত , ইচ্ছে থাকলেও মনে বিস্তর ভয়ের আনাগোনা তখন । পারব তো ?? আমার জন্য অন্যদের ঘোরাঘুরির আনন্দে ছেদ পড়বে না তো ?? আগেও লিখেছি ... আমার ভয় ব্যকুলতা দুখান ক্ষেত্রে মাথা চাড়া দিলেও , ঘাঁটি গেড়ে ঘোট পাকাতে পারে না। তার মধ্যে এ...
বেড়াতে গিয়ে মজারু ৪০ পৃথিবী যে গোলাকার তার প্রমাণ কিছু না কিছু ভাবে মিলতেই থাকে। কন্যার বান্ধবীর মায়ের পরিচিত এক কাশ্মীরের বাসিন্দার সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল ওখানে যাওয়ার বেশ কয়েক মাস আগে । পরে জানা গেল , আমাদের বেড়ানোকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার কাণ্ডারী সুমিত দা ( ট্রাভেল গাইড ) ওনার পরিচিত । আর আমাদের অজান্তেই আমরা নাজির ভাই এর হাউস বোট ও তার পাশের হাউসবোট বুক করেছি , সুমিত দা র মাধ্যমে । নাজির ভাই  , অনুত্তমার ( কন্যার বান্ধবীর মাতৃদেবী ) রেফারেন্সে আমাদের সাথে শ্রীনগর পৌঁছনোর পরের দিনেই ব্যক্তিগত ভাবে এসে হোটেলে দেখা করেন । আমরা ওখান থেকে ফেরার পরেও যোগসূত্র ছিন্ন হয়নি এখনও।   আমরা আমাদের লটবহর নিয়ে শিকারা চালকদের খানিক হাসির খোরাক সাপ্লাই করে দুখান শিকারা চেপে ডাক লেকের রাজকীয় হাউসবোটে আসীন হলাম । হাউসবোটে পৌঁছেই বিষন্নতার সুর বেজে উঠল কারণ একখান হাউসবোটে ৬ জনার বেশি থাকার উপায় নেইকো । তাই আমরা টিম ১১ দু ভাগে ভাগ হয়ে পাশাপাশি দু খান বোটে থাকার বন্দোবস্তে ন্যাস্ত হলাম। ছোট দুই বান্ধবীর হাই মাউ আর থামেই না , হেনকালে আমার মুশকিল আসান কর্তামশাই দুই সখীকে আস্বস্...