Posts

স্টোন ম্যান

 ECG করতে গিয়েই সিস্টার যখন বললেন ... " স্যার আপনি কি স্ট্রেস করছেন ?" ডাক্তার বাবু দন্তবিকশিত করে বললেন ... " কৈ না তো !!!! " এদিকে অর্ধাঙ্গিনী র তখন সঙ্গীন অবস্থা। ভীতিজনক অবস্থান যার সর্বাঙ্গ জুড়ে তার কাছে এ সব ভারি ভয়ানক ব্যাপার। এদিকে বিকশিত দন্তের মালিকের হস্তগত রিপোর্ট বলছে যে তিনি স্টোন ম্যান।  চিন্তামণি হয়ে আকুল হলাম ... তিনি  হাসলেন !!! ঘরে জড়াজড়ি ও আকুলতাকে ফুৎকারে উড়িয়ে তিনি কলেজকে জড়ানোর নির্দেশ দিলেন। ভাবনা কমলো খানিক।  আমার পরিচিত সকলের অভিজ্ঞতার হাত ধরে জানলাম ... ভয়ের কিছু নাই । ছোট অপারেশন। ঘরে বলতেই খেলা গেল ঘুরে ... কে বলেছে ??? কন্যার কাছে এক সংবাদদাতার নাম শুনে পিতাশ্রী গম্ভীর হলেন।  কটা দিন চলে গেল ভয় ভীতি ছাড়া ... একদিন কইলেন ... " সব বুঝে নাও কেমন ?"  ভাবনা হাজির। দুয়ারে ভাবনা ... এ আবার কেমন কথা ?? হাঁকপাক করতে করতে কলেজ গেলাম। সকলে এক বাক্যে কইল ... নিজ্জস ভয় দেখাচ্ছে। শুধু কলেজ নয় আরো খান কতক বন্ধুগণ বললে ... একটু যদি চিন্তিত না হও, চলে ??? ডাক্তার বাবু চিন্তিত করে তোমাকে মাপছেন!!!  এদিকে সব কিছু ই অজানা। যা জা...

বাধ্যতামূলক বাধ্যতা ?

 এক এক জগতের এক এক ধরন ধারণ । হাসপাতাল বলো কায়দা করে নার্সিং হোম ( বেসরকারি হাসপাতাল) বলো সে জগতের সাথে পরিচয় আমার দু ভাবেই বেশ পাকাপোক্ত। বৈবাহিক সূত্রে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগে ভাগেই মা কে নিয়ে চিকিৎসালয়ে যাতায়াতের হাতেখড়ি হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি এলেন ‌‌.... তখন তিনি ছাত্র। শিশুমঙ্গলের আবাসিক। DNB পাঠরত। ছাত্রাবাস থেকে সপ্তাহান্তে আসতেন , বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহরে তা দিতাম । মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিখ্যাত গান বাজতে থাকত। একদম appropriate গান ... এসো এসো এসো প্রিয়, এসো আমার ঘরে ‌... 😃 এরপর গঙ্গা য় অনেক জল বয়ে গেল ... দূর থেকে নার্সিং হোম কে দেখতে দেখতে পুপের আগমনের মাস দুয়েক আগে এক সমস্যা র জন্য observation এ গেলাম। একদিন শুয়ে , বসে লেজ নাড়িয়ে চলে এলাম । পরের বার তো পুপে দেবীর আগমন উপলক্ষ্যে হাজিরা ... বিস্তারিত জ্ঞান বোঝাই হয়ে ছানা কোলে ঘরে ফিরলাম। নার্সিং হোম এর ধরন দেখার মতন শরীর ও মন তখন নেই। ঘুম পূরণ হতে না হতেই কখনো গোলাপী তো কখনো সবুজ তো কখনো নীল পোঁটলা করে পুপেকে আমার কাছে দিয়ে যেতো নার্সারি র সিস্টার। বিকেল থেকে সবাই আসতেন দেখতে ... বেশ দর্শনীয় ব্য...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৯

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৯ হতাশ অবসন্ন শরীর মন নিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম সকলে। শরীর তখন হা ক্লান্ত। অবসন্ন শরীরে হাল্কা ঘুম দখল নিতে শুরু করল ; কারণ আমরা দীঘা ত্যাগী হয়ে ফেরার সেই সাগর পার দিয়ে পাড়ি জমানোর পথ ধরব ধরব করছি। আলো আঁধারের বুক চিরে নোনা হাওয়ার ঝাপটায় ঘুম আরো চোখের পাতায় আঠা মাখাচ্ছে। হেনকালে ঘুম জাগরণের মাঝে কানে এল চা পান বিরতির কথা ; এবং অত‌এব এক চায়ের ছাউনি র সামনে নেমে পড়লাম একে একে। আমরা দেবা-দেবী ক্ষতিকর দুধ চা , বাকি সব কলরব করে আগা পাশতলা লালা চায়ের গুণ কীর্তন করতে করতে নানান দল নানান চা পান done করলাম। বিয়ের পর খেয়ালে করে দেখেছি ; যে , খাদ্য তালিকায় আমার অপছন্দের খাবার নেহাৎ ই নগন্য । বৈবাহিক জীবন তখন নবীন ; খাবারের ভাগযোগ জনিত ‌হৃদয় বিদারক কথা কারে ক‌ই প্রাণসখা ছাড়া ? কি নিষ্ঠুর !!!! খান কতক দিন দুখের কথা নিবেদনের পর বলে কিনা ... " কোন খাবার টা ভালবাসো না বলো দেখি ? কোনটা কিঞ্চিৎকর হলেও মনে দুঃখের বাণ ডাকবে না ? " তো এখন আমি এত বছরে একদম লিস্টি করে ফেলেছি ‌.... কি কি খেতে মোটেও ভালবাসি না । এখন চোখ বুজে বলে দিতে পারি ‌... দিন শুরুর হোক বা পরের হোক ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৮

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৮ সাগর দা র আয় আয় ডাকে তো হাঁটা দিয়ে অনেক খানি পাড়ি দিয়ে তবেই তাকে ছুঁতে পারলাম। কিন্তু তিনি বেশ উত্তপ্ত। কখনো এত দেরি করে সাগরের কাছে আসিনি। উষ্ণতা বাড়িয়ে আমাদের সাদরে গ্রহণ করলেন । এর আগে গরমাগরম রোদের মাঝেও জলে নেমে ভারি আরাম পেয়েছি , এবার মনে হল যেন গা স‌ইয়ে নেওয়া কোন উষ্ণ প্রস্রবণে নেমেছি। এমনিতে পায়ের পাতা ডোবানো জলে যদিও আমি স্বচ্ছন্দ ; বাকি দের উৎপাতে প্রতিবার জলকে চল যেমন হয় , তেমন হয় দূরকে চল । এবার‌ও এক‌ই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও পিছনে বিকেলে দীঘার মন্দির দর্শন নামক হুড়ো চালু ছিল তাই রক্ষে !!!!  বয়সের সাথে সাথে খানিক খানিক সাহস অর্জন করেছি ; কোলাঘাটের পুলে তার প্রমাণের ছবি জ্বল জ্বল করছে ; কাজেই সখাকে চেপে ধরে খাবি খেতে খেতে নোনা জল খেতে লাগলাম ভরপুর। তবে গরম জলে আরাম নেইকো। জলে জলীয় প্রাণীর বেশির ভাগ তখন হোটেলের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরাতে মধ্যাহ্ন ভোজনের পরবর্তী ভাতঘুমের আবেশে আবিষ্ট। খানিক নোনতা গরম পানি তে নাকের জলে চোখের জলে হয়ে বুঝলাম সাগরের ঢেউ জোড়া কাব্য তখন ভয়ানক গরম গদ্যের আকার প্রাপ্ত হয়েছে। আমি গুটি গুটি সাগর পাড়...

প্রতিবাদ

                                                                            প্রতিবাদ                                                                       শুচিস্মিতা ভদ্র "এখন ঘোর ভাঙেনি তোর যে, মেলেনি তোর আঁখি"- অনেক দিন পর গানটা FMএ শুনে তন্ময় হয়ে গেছিল লালিমা। বাবার বড়ই প্রিয় গান ছিল এটা।সকালে ছোট্ট লালিমাকে ঘুম থেকে জাগানোর পর আধো ঘুমন্ত , আধো জাগন্ত লালিমাকে প্রায় ই কোলে নিয়ে মজা করে ভরাট ও দরাজ গলায় গানটা গেয়ে উঠতেন শীর্ষেন্দু।বাবা আজ নেই, প্রায় বছর ঘুরতে চলল।সময় নদী যে কখন বয়ে গেল ? লালিমা টেরই পেল না।এতগুলো দিন যে কি ভাবে কেটে গেল বাবাকে ছাড়াই , ভাবলে লালিমা, বাবার আদরের লালি অবাক হয়ে যায় ! অথচ এটাই সত্য।দিন চলে য...

স্মৃতি টুকু থাক

                                                          স্মৃতিটুকু থাক সমুদ্রের জলে ফসফরাস থাকে, তাই এত রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে পাড়ে জলরাশির আছড়ে পড়া এত দূর থেকেও রত্নাকর দেখছেন।একের পর এক ঢেউ আসছে, আবার আসছে, আবার আসছে........।অবিরাম এর কোনো শেষ নেই। এখন রাত প্রায় দুটো, রত্নাবলী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।কিন্তু রত্নাকরের আজ ঘুম আসবে না । কী অদ্ভুত নাম "রত্নাকর"।বাবা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন ? এই প্রশ্ন করলে শুধু হাসতেন, কোনো উত্তর দিতেন না । স্কুলে, কলেজে , বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বত্র বন্ধুরা নামকরণ করে করে দিয়েছিল।এমনকি কলেজের মানব স্যার ও দস্যু রত্নাকর বলে সম্বোধন করতেন। এক এক সময় খুব অভিমান হোতো বাবার ওপর। আর কী অন্য কোনো ভাল নাম ছিল না !!!! একদিন কাছে ডেকে মানব স্যার বলেছিলেন "নামে কিবা আসে যায় !!! যে রত্নাকর সেই তো মহা কবি বাল্মীকি, তা কী ভুলে গেছো ?"  খুবই শান্ত শিষ্ট ছিলেন। রত্নাবলী র সাথে যখন বিয়ে হলো, তখন বাসরে শ্যালিকারা নামটি নিয়ে মজা করা...

তরুণ তুর্কি

                                                                       তরুণ তুর্কি                                                                     শুচিস্মিতা ভদ্র পল্টন , ঘন্টাই , গুণগুণ, রুণি, পুটাস, পটাই , মাম্পা এমন সব অদ্ভুত নামীদের নিয়েই "তরুণ তুর্কি" যাত্রা শুরু করেছিল বছর তিনেক আগে । তবে ভাগ্যিস এ সব এদের ডাক্ নাম । তো যে কথা হচ্ছিল ..... "তরুণ তুর্কি" কি কোনো খেলার দল ? নাকি কোনো ক্লাব ? নাকি সমাজ সেবা মূলক সংস্থা ??  হযবরল যারা পড়েছ , তারা তো সকলেই কাক্কেশ্বর কে চেনা , তারা তো বুঝতেই পারছো যে এই প্রশ্নের উত্তরে কাক্কেশ্বর কি বলতে পারে ?? একদম ঠিক ধরেছ , উত্তরটা হতো .... " হয়নি হয়নি ফেলে ।"  সত্যিই ডাহা ফেল ।"...