Posts

Showing posts from February, 2025
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৪ অপেক্ষার প্রহরে তা দিতে দিতেই একে একে ওর্ডারী খাবার সার বেঁধে ওয়েটার দের হাতে হাতে হাজির হল এবং নিমিষের মধ্যেই ঘরের ছোট টেবিলখান হাঁক পাড়ল ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই রবে। খাটের ওপরে একখান বাড়তি কাপড় পেতে সেখানেও কিছু প্লেট স্হান পেল !! ভাগ্যিস আমার মায়ের আমলের অথবা তেমন ভাবনার কোন অংশীদার সাথে ছিলেন না ... বকুনির ঠেলায় খাবারকে যাবার পথ দেখিয়ে, ওই চাদর আদর করে কাচাকুচি করতে হোতো !!! আর মা থাকলে প্রথমেই কপালে করাঘাত সাথে বাক্যাঘাতে আমি সহ সবাই হতাম কাত !!! আমি যেমন পুপেকে কিছু শেখাতে পারছি না ভেবে আকুল হচ্ছি , মা কেঁদে আকুল হতেন তার শিক্ষার অবস্থান বিছানা নিয়েছে দেখে !!! বিছানা যে সিনিয়র ও জুনিয়র ছানাদের শোয়া / বসার জায়গা , খাবারের স্থান না , তা আমরা সবাই জানি , তবে কিনা বেড়ানোর সময় অনেক নিয়ম নাস্তি হয়ে যায় আর তাতেই মেলে স্বস্তি !!!  খাবারের বহর দেখে দিবাকর সহ আমিও আঁতকে উঠলাম !!! যদিও ওর্ডার প্লেস করার সময় আকাশ খাই , পাতাল খাই এমন ক্ষিদে পেটে করতাল বাজাচ্ছিল। তবে এমন রাজকীয় লাইন লাগানো খাবারের খান দুই প্লেট আর কোনোমতেই কারোর পেটেই জায়গা বের ...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৩  রাজগীর অর্থাৎ অতীতের রাজগৃহে আমরা হোটেলে পৌঁছলাম। শহরের জনবহুল এলাকাতে হোটেলের অবস্থান। হোটেলের ঘরে ঢুকেই গোলোযোগ চরমে উঠল। কারণ পাশাপাশি ঘরের একখানের সাজনগোজন বেশি তা নিয়ে ছোট দুজনের কাজিয়া। বলা ভাল আমার কন্যার মতামত চরমে। ওদিকের সিদ্ধার্থ তার স্বভাবসিদ্ধ ধারা মেনে মুখে মেঘ জমিয়ে ঠিক পাশের অল্প সাজানো ঘরে ফিরে গেল। ঘটনা খান চাক্ষুষ করে আমার মেজাজ সাই সাই করে উঠে গেল গরমে। মন ভেঙে খান খান হয়ে গেল !!! এ কি কথা বলো দেখি ??? একসাথে বেড়ানোর মানে কি শুধুমাত্র দর্শন। নেই কোন শিক্ষণ ?? আমরা একবার কুচে পুপেকে নিয়ে হাজির হয়েছিলাম আগ্রাতে, দুখান ঘরের একখান হোটেল মালিকের মুনাফা বাড়াতে দু দিকের সারবদ্ধ হোটেল রুমের মাঝের চৌকোনা হলের মাঝে অবস্থিত ছিল .... দেখলেই বোঝাই হয়ে বোঝা যায় পরে এ ঘরের সংযোজন, ফলে জানালা নেই কোনো। ছাদের কাছাকাছি একখান স্কাইলাইট ছিল কি ছিল না , আজ সময়ের তলে চাপা !!! তবে দিনমানেও আলো না জ্বালালে সে ঘরে ৩৬৫ দিনেই রাতের অবস্থান ঘাটি গেড়েছিল । সেই ঘরে আমাদের তিনজনের বিশেষ করে ছোট জনার হুটোপুটি করতে অসুবিধার কথা মাথায় রেখে , সত্য দা রা ...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫২ রাত পেরিয়ে দুয়ারে হাজির হল আরো একটা ঝকঝকে তকতকে দিন। বেড়াতে গেলে দিনক্ষণ আর বারের হিসাব বরাবর থাকে না আমার। তা আবার ফেরত আসে ফিরতি পথ ধরে ধীরে ধীরে। যাওয়ার দিন আর ফেরার দিনের মাঝে পুরো সময়টা বেহিসেবী । যার খেয়াল রাখেন এ দিকের তিনি। তেনার বেজায় খেয়াল। সেদিন আমাদের সকাল সকাল বোধগয়ার পাট গুটিয়ে নালন্দা ঘুরে রাজগীর যাওয়ার কথা । থাকার কথা পূর্ব নির্ধারিত নালন্দা রেসিডেন্সিতে। যেটির অবস্থান রাজগীরে। রাজগীর অর্থাৎ রাজগৃহ পুরাণ আর ইতিহাসের এক খিঁচুড়ি সমৃদ্ধ স্থান। সেই খিঁচুড়ির সহযোগের ঘৃত বলো ভাজা বলো তা হল আমার একান্ত আপন কিছু অতীত স্মৃতি। যা ক্রমশ প্রকাশিত হোক। এখন চলি রাজগীরের দিকে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথের ধারের গল্পেরঝুলি উপুড় করতে করতে।  পেটকে সকালের খাবার সহযোগে শান্ত করে , সব গুছিয়ে নিয়ে বেলা নয়টা নাগাদ বেরিয়েই পড়লাম নালন্দার উদ্দেশ্যে । ম্যানেজার সামনে , দুই ছানা সহ রূপা মাঝে , ঝটতি পড়তি বাকি দুই পিছে নিজেদের গুছিয়ে বোধগয়াকে টাটা করলাম। গাড়িতে ভোজপুরি সুরবাহার ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই আমরা বলি ও টলি উডকে youtube মারফত ধরে ফেললাম।...
 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫১ পরের দিন যথারীতি ভোর ভোর ঘুম পাট গোটালো। প্রথমেই নিজের ধোলাই, সাফাই করে নিয়ে ওদিকের দরজাতে টোকা দেবো কি দেবো না ভাবতে না ভাবতেই রূপাদের বার্তালাপ শুনেই দিলাম হাঁক , হাঁকপাক করে ওদিকের দরজা খুলে দিল রূপা । এ দিকের দুজন তখনও গভীর নিদ্রায়। চায়ে গরম হাঁক ডাক দেওয়ার জন্য আমার অপছন্দের লাল চা বানিয়ে ফেললাম। আমার পছন্দের দুধ চা পেতে একটু অপেক্ষার প্রহরে তা দিতে হয় । জলখাবার সহযোগে তিনি রঙ্গমঞ্চ থুড়ি খাবার টেবিলে হাজির হন। হাঁক ডাকের চোটে অগত্যা বিরক্তি কাটাতে কাটাতে চা পানে তিনি এ দিকের রূপাদের ঘরে এলেন । এ দিকের ঘরেও ঘুম ঘুম ভাব প্রবল , এক রূপা ছাড়া । আমরা ছানাদের স্কুলের কল্যাণে ভোরের রাগ-রাগিনীর সাথে পরিচিত।  সকাল বেলার আরাম আরাম ঠাণ্ডার আমেজ বেশ মনোরম। আমাদের দুই ঘরের সাথে আবার তাদের নিজস্ব বারান্দা মজুত। সেখানে উঁকি দিয়ে ঘষা কাঁচ মার্কা ভোরাই এর সুর শুনতে ও দেখতে পেলাম। এদিকের তিনি বেড়াতে গেলে বরাবরই রসিকলাল। কুয়াশা দেখে মুগ্ধ হয়ে , ডেকে দেখালেন সকলকে। আমরাও ম্যানেজার সহ মুগ্ধ হলাম !!!  আগের দিনের ছবি তোলা হয়েছে সব যন্ত্র পাতি তোলপাড় কর...