Posts

Showing posts from July, 2025

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৯

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৯ হতাশ অবসন্ন শরীর মন নিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম সকলে। শরীর তখন হা ক্লান্ত। অবসন্ন শরীরে হাল্কা ঘুম দখল নিতে শুরু করল ; কারণ আমরা দীঘা ত্যাগী হয়ে ফেরার সেই সাগর পার দিয়ে পাড়ি জমানোর পথ ধরব ধরব করছি। আলো আঁধারের বুক চিরে নোনা হাওয়ার ঝাপটায় ঘুম আরো চোখের পাতায় আঠা মাখাচ্ছে। হেনকালে ঘুম জাগরণের মাঝে কানে এল চা পান বিরতির কথা ; এবং অত‌এব এক চায়ের ছাউনি র সামনে নেমে পড়লাম একে একে। আমরা দেবা-দেবী ক্ষতিকর দুধ চা , বাকি সব কলরব করে আগা পাশতলা লালা চায়ের গুণ কীর্তন করতে করতে নানান দল নানান চা পান done করলাম। বিয়ের পর খেয়ালে করে দেখেছি ; যে , খাদ্য তালিকায় আমার অপছন্দের খাবার নেহাৎ ই নগন্য । বৈবাহিক জীবন তখন নবীন ; খাবারের ভাগযোগ জনিত ‌হৃদয় বিদারক কথা কারে ক‌ই প্রাণসখা ছাড়া ? কি নিষ্ঠুর !!!! খান কতক দিন দুখের কথা নিবেদনের পর বলে কিনা ... " কোন খাবার টা ভালবাসো না বলো দেখি ? কোনটা কিঞ্চিৎকর হলেও মনে দুঃখের বাণ ডাকবে না ? " তো এখন আমি এত বছরে একদম লিস্টি করে ফেলেছি ‌.... কি কি খেতে মোটেও ভালবাসি না । এখন চোখ বুজে বলে দিতে পারি ‌... দিন শুরুর হোক বা পরের হোক ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৮

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৮ সাগর দা র আয় আয় ডাকে তো হাঁটা দিয়ে অনেক খানি পাড়ি দিয়ে তবেই তাকে ছুঁতে পারলাম। কিন্তু তিনি বেশ উত্তপ্ত। কখনো এত দেরি করে সাগরের কাছে আসিনি। উষ্ণতা বাড়িয়ে আমাদের সাদরে গ্রহণ করলেন । এর আগে গরমাগরম রোদের মাঝেও জলে নেমে ভারি আরাম পেয়েছি , এবার মনে হল যেন গা স‌ইয়ে নেওয়া কোন উষ্ণ প্রস্রবণে নেমেছি। এমনিতে পায়ের পাতা ডোবানো জলে যদিও আমি স্বচ্ছন্দ ; বাকি দের উৎপাতে প্রতিবার জলকে চল যেমন হয় , তেমন হয় দূরকে চল । এবার‌ও এক‌ই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও পিছনে বিকেলে দীঘার মন্দির দর্শন নামক হুড়ো চালু ছিল তাই রক্ষে !!!!  বয়সের সাথে সাথে খানিক খানিক সাহস অর্জন করেছি ; কোলাঘাটের পুলে তার প্রমাণের ছবি জ্বল জ্বল করছে ; কাজেই সখাকে চেপে ধরে খাবি খেতে খেতে নোনা জল খেতে লাগলাম ভরপুর। তবে গরম জলে আরাম নেইকো। জলে জলীয় প্রাণীর বেশির ভাগ তখন হোটেলের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরাতে মধ্যাহ্ন ভোজনের পরবর্তী ভাতঘুমের আবেশে আবিষ্ট। খানিক নোনতা গরম পানি তে নাকের জলে চোখের জলে হয়ে বুঝলাম সাগরের ঢেউ জোড়া কাব্য তখন ভয়ানক গরম গদ্যের আকার প্রাপ্ত হয়েছে। আমি গুটি গুটি সাগর পাড়...

প্রতিবাদ

                                                                            প্রতিবাদ                                                                       শুচিস্মিতা ভদ্র "এখন ঘোর ভাঙেনি তোর যে, মেলেনি তোর আঁখি"- অনেক দিন পর গানটা FMএ শুনে তন্ময় হয়ে গেছিল লালিমা। বাবার বড়ই প্রিয় গান ছিল এটা।সকালে ছোট্ট লালিমাকে ঘুম থেকে জাগানোর পর আধো ঘুমন্ত , আধো জাগন্ত লালিমাকে প্রায় ই কোলে নিয়ে মজা করে ভরাট ও দরাজ গলায় গানটা গেয়ে উঠতেন শীর্ষেন্দু।বাবা আজ নেই, প্রায় বছর ঘুরতে চলল।সময় নদী যে কখন বয়ে গেল ? লালিমা টেরই পেল না।এতগুলো দিন যে কি ভাবে কেটে গেল বাবাকে ছাড়াই , ভাবলে লালিমা, বাবার আদরের লালি অবাক হয়ে যায় ! অথচ এটাই সত্য।দিন চলে য...

স্মৃতি টুকু থাক

                                                          স্মৃতিটুকু থাক সমুদ্রের জলে ফসফরাস থাকে, তাই এত রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে পাড়ে জলরাশির আছড়ে পড়া এত দূর থেকেও রত্নাকর দেখছেন।একের পর এক ঢেউ আসছে, আবার আসছে, আবার আসছে........।অবিরাম এর কোনো শেষ নেই। এখন রাত প্রায় দুটো, রত্নাবলী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।কিন্তু রত্নাকরের আজ ঘুম আসবে না । কী অদ্ভুত নাম "রত্নাকর"।বাবা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন ? এই প্রশ্ন করলে শুধু হাসতেন, কোনো উত্তর দিতেন না । স্কুলে, কলেজে , বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বত্র বন্ধুরা নামকরণ করে করে দিয়েছিল।এমনকি কলেজের মানব স্যার ও দস্যু রত্নাকর বলে সম্বোধন করতেন। এক এক সময় খুব অভিমান হোতো বাবার ওপর। আর কী অন্য কোনো ভাল নাম ছিল না !!!! একদিন কাছে ডেকে মানব স্যার বলেছিলেন "নামে কিবা আসে যায় !!! যে রত্নাকর সেই তো মহা কবি বাল্মীকি, তা কী ভুলে গেছো ?"  খুবই শান্ত শিষ্ট ছিলেন। রত্নাবলী র সাথে যখন বিয়ে হলো, তখন বাসরে শ্যালিকারা নামটি নিয়ে মজা করা...

তরুণ তুর্কি

                                                                       তরুণ তুর্কি                                                                     শুচিস্মিতা ভদ্র পল্টন , ঘন্টাই , গুণগুণ, রুণি, পুটাস, পটাই , মাম্পা এমন সব অদ্ভুত নামীদের নিয়েই "তরুণ তুর্কি" যাত্রা শুরু করেছিল বছর তিনেক আগে । তবে ভাগ্যিস এ সব এদের ডাক্ নাম । তো যে কথা হচ্ছিল ..... "তরুণ তুর্কি" কি কোনো খেলার দল ? নাকি কোনো ক্লাব ? নাকি সমাজ সেবা মূলক সংস্থা ??  হযবরল যারা পড়েছ , তারা তো সকলেই কাক্কেশ্বর কে চেনা , তারা তো বুঝতেই পারছো যে এই প্রশ্নের উত্তরে কাক্কেশ্বর কি বলতে পারে ?? একদম ঠিক ধরেছ , উত্তরটা হতো .... " হয়নি হয়নি ফেলে ।"  সত্যিই ডাহা ফেল ।"...

বন্দী শৈশব

 বন্দী শৈশব শুচিস্মিতা ভদ্র  অন্ধকারে ঘরের দেওয়ালের ঘড়িটার দিকে ঘুম ভাঙা চোখে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ প্রথমে সময়টা ঠাওর করতে পারে না। আস্তে আস্তে night lamp এর মৃদু আলোয়, একটু ধাতস্থ হবার পর, সঠিক সময় টা দেখতে পায়। ঠিক , এখন প্রায় রাত আড়াইটে। আজ ও রীমি পাশে নেই। টিকলি , একটু কুঁকড়ে পাশবালিশ জড়িয়ে অঘোর ঘুমে , হয়তো বা স্বপ্নের রাজ্যে .....। ঘুমন্ত টিকলিকে বড়ো মায়াময় লাগে।  আজকের সন্ধ্যার ঘটনায় অনিরুদ্ধ , যারপরনাই হতবাক ও চিন্তিত। বাড়িতে ঢুকে অন্ধকার ঘরে মা আর মেয়ের বিষন্ন রূপ দেখে, খুব দুশ্চিন্তা হয়েছিল। পরে রীমির কাছে, বিষন্নতার কারণ শুনে এত অবাক হয়েছিল !!!! পরে হতবাক.... হতাশ.... চিন্তা .... সবের জগাখিচুড়ী একটা অনুভুতি নিয়ে দিনান্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এখন ঘুম ভাঙার পর সেই mixture feelings টা আবার মাথা চাড়া দিচ্ছে।  অনিরুদ্ধ ওদের শোয়ার ঘরের বাইরে এসে , বসার ঘরে উঁকি দেয়, রীমি নেই। পাশের ছোট ঘরে রীমির দেখা মেলে। কিন্তু একি দেখছে সে ? রীমি টিকলির স্কুলের ব‌ই, খাতা টেবিলে ছড়িয়ে বসে , একমনে কিছু লিখছে। এই ঘরটা ওদের ঠাকুরঘর। যদিও অনিরুদ্ধর জীবনে ঈশ্বরের আ...

বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৭

 বেড়াতে গিয়ে মজারু ৫৭ ভোর হলো। দোর খুলে বাইরে বেরিয়ে পড়ার আগে ভাগেই দেবাশ্রিতাকে ফোন করলাম। সে বেচারি আগের দিনের খ্যাটনের গুরুপাক সামলাতে তখন‌ই শয্যা ত্যাগ করবে না ; রয়ে সয়ে পরে যোগ দেবে জানান দিল। আমি স্নানের পাট মিটিয়ে ভোরের হাওয়া খেতে নদীর পাড়ে হানা দিলাম। ভোরের একটা টাটকা সতেজ ভাব দেখেছি সর্ব খানেই এক রকম। সে ইঁট কাঠের জঙ্গল হোক , কি নদী , পাহাড় , সমুদ্র হোক !!! সোনার বাংলা রিসর্টের নদীর পাড়ের সাজানো বাগানে তখন একজন morning walker ছাড়াও রয়েছে শুধু মাত্র অনিন্দ্য। আমি হাজির হয়ে এটা ওটা গল্প শুরু করেই জানতে পারলাম ... একটু আগেই অনিন্দ্য, ওদের রুম সংলগ্ন বারান্দায় বন্দী হয়ে পড়েছিল। যদিও এক তলা তাই‌ ঘরবাসীরা নিদ্রা থেকে জাগরিত না হলে একটু শারীরিক কসরতের দরকার পড়তে পারত ; যা অনিন্দ্য র বন্দী দশা ঘুচিয়ে দিতো নিশ্চিত। এখানে তেমন কাজ কারবারের দরকার পড়ল না । শ্যামের ডাকেই নিদ্রা ত্যাগ করে রাধা দোর খুলে ফের নিদ্রা গেছেন।  ভোরে শিশির লেগে থাকা ঘাসের পরে পদচারণা করা খুবই ভাল বলে জানি ; তবে এ ঘাস হলো গিয়ে চৈনিক ঘাস। উপকারিতা আদেও আছে কিনা তাতে চৈনিক সন্দেহ দেখা দি...